Trial Run

জানে না মন্ত্রণালয়, আশ্বাস

A Bangladeshi firefighter battles a fire at a garment factory ioutside Dhaka, Bangladesh, Saturday, Nov. 24, 2012. At least 112 people were killed in a fire that raced through the multi-story garment factory just outside of Bangladesh’s capital, an official said Sunday. (AP Photo/Hasan Raza)

সাকিব আবদুল্লাহ : আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় আট বছর পার হলেও এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি গুরুতর আহত ২৫ শ্রমিক। এ অবস্থাতেই গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ দিন যাবৎ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

গতকাল শনিবার অবস্থানরত শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশ করেছে বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন। এতে বক্তারা বলেছেন, এখনো সরকারের কেউ আন্দোলনরত শ্রমিকদের কোনো খোঁজই নেয়নি। সরকার ও মালিকপক্ষ টালবাহানা করে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অবস্থান কর্মসূচির শুরুর দিকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখনো যে শ্রমিকদের কর্মসূচি চলছে, তা মন্ত্রণালয়ের জানা ছিল না।

৩০ দিন ধরে চলমান কর্মসূচির কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম। আট বছর আগের ঘটনায় এখনো কেন ২৫ শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পাননি তা দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি তো এখনো চলার কথা নয়। কর্মসূচির শুরুর দিকে বিষয়টা জানার পরপরই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি আবারও খোঁজ নিয়ে দেখব।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদমই কোনো টাকাপয়সা না পাওয়ার তো কথা নয়। আমাদের তথ্য অনুযায়ী তারা কিছু টাকা পেয়েছে। এখন আবার অধিক টাকার দাবি নিয়ে অবস্থানে বসেছে।’

শ্রম সচিবের এ বক্তব্যের বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শামীম ইমাম বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ পেলে তো কাগজপত্রে প্রমাণ থাকার কথা। কোথায় প্রমাণ? আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, গুরুতর আহত শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুসারে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।’

শামীম ইমাম আরও বলেন, ‘তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডে যারা মারা গিয়েছিলেন তারা সবাই কিছু বিদেশি সংস্থা থেকে আসা অনুদান পেয়েছেন, কিছু মৃত শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণও পেয়েছে কিন্তু বাকিরা কিছুই পাননি। সরকার সব সময়ই মালিকপক্ষের স্বার্থ দেখেছে এবং এখনো দেখছে। শ্রম আইন অনুসারে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ মালিকপক্ষের ও সরকারের দেওয়ার কথা তা দেওয়া হোক এটাই আমাদের দাবি।’

অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা শ্রমিক জরিনা বলেন, ‘আমরা বাড়িঘর ফেলে ৩০ দিন ধরে প্রেস ক্লাবে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের খোঁজ নেয় নাই। এভাবে আট বছর চলে গেছে আমাদের, শারীরিক অক্ষমতার জন্য অন্য কোনো কাজ করতেও পারি না। এখন ক্ষতিপূরণ না দিলে এখানেই লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হবে।’

শ্রমিক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা গার্মেন্টসকর্মী হয়ে তো কোনো অপরাধ করি নাই যে সরকার আমাদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। কারখানায় তালা লাগিয়ে আগুনে পোড়ানো হলো শত শত শ্রমিক। তার বিচার হলো না। আমরা আজ রোদে পুড়ে, মশার কামড় খেয়ে প্রেস ক্লাবে আছি কেউ কি দেখার নাই?’’  আরেক শ্রমিক রেহানা বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন নারী, তিনি কি নারীর কষ্ট বোঝেন না। ওনার স্বজন হত্যার বিচার হয় কিন্তু আমাদের শ্রমিক ভাইদের আগুনে পুড়ে মারা হলো তাদের তো বিচার উনি করলেন না। পরিবার নিয়ে যেন চলতে পারি, সেই মোতাবেক আমাদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন, এটাই আমাদের মূল দাবি।’

গতকাল বিকেলে অবস্থান কর্মসূচির ৩০তম দিনে শ্রমিকদের সমর্থনে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীরের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আট বছরে সরকার তাজরীনের নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সরকার বরাবরই শ্রমিকদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মালিকদের স্বার্থই রক্ষা করে চলেছে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা তাজরীনের মালিক খুনি দেলোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ও অবস্থানকারী শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার জোর আহ্বান জানান সরকারের প্রতি।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মিতু সরকার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি আহনাফ আতিফ অনিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিন, গবেষক মাহাতাব উদ্দীন, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা রুহুল আমীন প্রমুখ।

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •