Trial Run

চট্টগ্রাম পুলিশে অপরাধের পাহাড়!

রাষ্ট্রের যাবতীয় অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত। বলা চলে পুলিশ রাষ্ট্রের অলিখিত অভিভাবক যারা অপরাধ দমনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার পেছনে কাজ করেন। বিভিন্ন অপকর্ম আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া সম্প্রদায়দের আইনের আওয়াতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করবেন পুলিশ। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে পুলিশ নিজেই জড়িয়ে পড়েছে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা দিনদিন বেড়েই চলেছে। অপরাধীদের সাথে হাত মিলিয়ে পুলিশের অপকর্মের তালিকাটাও বেশ বড়। অপরাধ দমনে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যের মধ্যে বেড়েই চলেছে অপরাধপ্রবণতা। নির্বিচারে হত্যা, মাদক সেবন ও পাচার, ধর্ষণ, অবৈধ অস্ত্র বিক্রি, জমি দখল, ঘুষ বাণিজ্য ইত্যাদি বহু অপকর্মে জড়িয়ে রয়েছে পুলিশের নাম। গেল বছর চট্টগ্রামে নানা অপরাধে প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। গত দুমাসে নগরী ও জেলার চার পুলিশ সদস্যকে ইয়াবা, অস্ত্র ও ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনো গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই মোস্তফা নামে এক সদস্য।

গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় চকবাজার থানাধীন ওয়াসা মোড় এলাকায় হক লাইব্রেরির সামনে থেকে মোশারফ হোসেন নামে রাঙ্গুনিয়া থানার এক কনস্টেবলকে দুই হাজার ৮৭৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় তাকে আসামি করে চকবাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন র‌্যাব-৭ এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) অমল চন্দ। পরে পুলিশ কনস্টেবল মোশারফ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, নগর গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই মোহাম্মদ মোস্তফা তাকে এসব ইয়াবা বিক্রি করতে দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে মোস্তফা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের ১৮ নম্বর টিমের সদস্য মোস্তফা।

গত ২৫ ডিসেম্বর স্বরূপ বড়ুয়া (২৭) নামে শিল্প পুলিশের এক কনস্টেবলকে অস্ত্র (রিভলবার) বিক্রির সময় গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। কোতোয়ালি থানাধীন লালদীঘিরপাড় এলাকার হোটেল আদরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর স্বরূপ বড়ুয়াকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বরূপ বড়ুয়াকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেছে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বিল্লাল হোসেন। শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার সোলায়মান জানান, কনস্টেবল স্বরূপ বড়ুয়া গত ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগর পুলিশ-সিএমপি থেকে বদলি হয়ে শিল্প পুলিশ-৩ এ যোগ দিয়েছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে তিনি ছুটিতে ছিলেন। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে।

গত ২০ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর গাড়ি কেনার দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে সীতাকুণ্ড থানার দুই পুলিশ সদস্য। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তদন্তে এর সত্যতা মেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর বাদী হয়ে দুই পুলিশসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ২৪ ডিসেম্বর অভিযুক্ত সীতাকুণ্ড থানার এসআই সাইফুল আলম ও সীতাকুন্ড থানার ওসির বডিগার্ড কনস্টেবল সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এসব তো আলোচিত ঘটনার কয়েকটি যেগুলো বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এর বাইরে পুলিশের যে সংখ্যাটা রয়েছে সেটা শিউড়ে ওঠার মতই বলে মনে করেন আইন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে রোডে পুলিশের চাঁদাবাজি, পার্বত্য অঞ্চলে ইয়াবার ব্যবসা সহ অস্ত্রের চোরাচালান ইত্যাদি অনেক অপরাধের সাথেই পুলিশের নাম জড়িয়ে আছে। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষার পেছনে কতো পুলিশের অপকর্ম যে চাপা পড়ে আছে, এবিষয়েও আতঙ্ক প্রকাশ করেন তারা। এদিকে গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে নিজেদের ঘর পরিচ্ছন্ন করে বাইরে শুদ্ধি অভিযান চালাতে চান বলে মন্তব্য করেছেন। নিজেদের শুদ্ধ করতে গিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে ফেলেন কিনা, এবিষয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেবল চট্টগ্রাম এলাকাতে মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট যেসব অপরাধের সাথে পুলিশ জড়িত, এসব গুছিয়ে আনতে গিয়ে পুলিশের যে এই কূল ধরি তো অই কূল চলে যায় অবস্থা হবে না, এবিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন তারা।

এসডাব্লিউ/ডিজে/কেএইচ/১৫৩০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares