Trial Run

মোদীর ভারতে একাডেমিক স্বাধীনতায় আক্রমণ চলছে

মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাথে সম্পর্ক থাকার এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে স্কলার এবং লেখক আনন্দ তেলতুম্বেদকে ২০২০ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। [ Photo : V Sreenivasa Murthy / The Hindu]

আমান অভিষেক : গত বছর আমি দিল্লির একাডেমিক সম্মেলনে বিশিষ্ট ভারতীয় বুদ্ধিজীবী ও লেখক আনন্দ তেলটুম্বেডের বক্তব্য শোনার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাঁর বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি অশ্রুসিক্ত দৃষ্টিতে দর্শকদের বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অধীনে ভারত একটি সম্পূর্ণ “হিন্দু জাতিতে” রূপান্তরিত হওয়ায় তিনি সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর বর্ণবিরোধী স্কোলারশিপ এবং সিভিল রাইটস খুব কাছ থেকে বছরের পর বছর অনুসরণ করছি, এখন তার হতাশা দেখে আমি আহত হয়েছি। আমি তাঁর কাছে গিয়ে তাকে বলতে চেয়েছিলাম যে বিষয়গুলি শেষ পর্যন্ত আরও ভাল হয়ে উঠবে। তবে যেহেতু আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না, তাই আমি যাই নি।

আমান অভিষেক

আমি পরের মাসগুলিতে প্রায়শই তাঁর কথা এবং ভারত সম্পর্কে তাঁর দুঃখের কথা ভেবেছিলাম। পিএইচডি করার জন্য সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও, আমি আমার দেশের ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষাবিদ এবং সক্রিয় ছাত্রকর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান দমন সম্পর্কে অবগত ছিলাম। সুতরাং যখন আমি এই বছরের এপ্রিলে অধ্যাপক তেলটুম্বদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পড়ি, তখন এটি আমার ব্যক্তিগত মনে হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাথে যোগসূত্র থাকার এবং মোদীর “হত্যার পরিকল্পনা করা” সহ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল। অসংখ্য আইন বিশেষজ্ঞরা সম্মত হন যে অভিযোগগুলি বানোয়াট এবং রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত, তবে তিনি আজ পর্যন্ত কারাগারের পিছনে রয়েছেন।

দুঃখের বিষয়, ভারতীয় একাডেমিয়ানদের মধ্যে তেলতুম্বেডই একমাত্র পণ্ডিত নন যিনি সরকারী সমালোচকদের বিরুদ্ধে চলমান উইচ-হান্টের শিকার হয়েছেন – সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বহু বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে “জাতীয় সুরক্ষা” বিপন্ন করার অভিযোগ করা হয়েছে এবং মোদীর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাতে কারাবন্দিও করা হয়েছে।

গত মাসে, একটি আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা  ‘মোদী সরকারের অধীনে ভারতে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি’ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের অনুসন্ধানগুলি যদিও বিরক্তকর ছিল, তবে যারা নিয়মিত ভারতের খবর রাখে তাদের নিকট এসব অনুসন্ধান আশ্চর্য হবার মতো কিছু নয়।

২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পরিকল্পিতভাবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধ্বংস করে চলছে এবং দেশটিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদে রূপান্তর করে তুলেছে। বিজেপির হিন্দু আধিপত্য আদর্শ মুসলিমদেরকে বিরুদ্ধ দুর্বাত্তয়নে দাঁড় করিয়েছে। তাছাড়া, হিন্দু আধিপত্যবাদ হচ্ছে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের আধিপত্য। আর নিম্নবিত্ত হিন্দু, যারা ভারতীয় জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা গঠিত, তাদের একদিকে বলা হলো তারা গর্বিত হিন্দু আর অন্যদিকে তাদের হিংসাত্মকভাবে নিপীড়ন করা হয় কারণ বর্ণ প্রথায় তারা ছোটজাত। আবার এইসব শ্রেণি বর্ণ প্রথার বিরোধী যারা, দালিত পণ্ডিত তেলটুম্বেডসহ মুসলিম ও ভিন্নমতালম্বী অন্যান্য শিক্ষাবিদদের জাতীয়তাবিরোধী বলে অভিযুক্ত করে এবং মিথ্যা অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

গত আগস্টে, ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে বাতিল করেছে, অঞ্চলটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ যার উপরে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই এখতিয়ার দাবি করে। এই পদক্ষেপের পরে, বিশ্বের তথাকথিত “বৃহত্তম গণতন্ত্র” এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় লকডাউন আরোপ করেছিল এবং সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ব্যারাক স্থাপন করেছিল।

ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস ছাড়াই এই অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পণ্ডিত এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার জন্য একে অপরের সাথে এবং বাইরের বিশ্বের সাথে শিক্ষা এবং যোগাযোগ করতে লড়াই চালিয়ে গেছে। বিষয়টিকে আরও খারাপ করতে, সরকার সমর্থনকারী হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলি কেবল “কাশ্মীরি দেখানোর” জন্য ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ শুরু করেছিল। এরই মধ্যে কাশ্মীর সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কাজ করা পণ্ডিতদের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তলব করেছে, তারা কেন “দেশবিরোধী” গবেষণা করছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য। একাডেমিয়ার ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করতে ভারত সরকার এবং তার সমর্থকরা যে তাণ্ডব চালিয়েছিল সেটাকে দেশের সীমান্তের ভেতরে মনে করা হয় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সাথে জড়িত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের “সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন” করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং তাদের অনুষ্ঠানগুলোতে মোদী সরকারের সমর্থকেরা ভাঙচুড় করে।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের কয়েক মাস পরে, মোদী’র বিজেপি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) প্রবর্তন করে,  যা ভারতের সংসদের মাধ্যমে যেসব অভিবাসী মুসলমান নয় তাদের নাগরিকত্বের জন্য একটি আইন পাশ হয়।

ভারত জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলিতে শিক্ষার্থীরা এই নির্মম বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। এই বিক্ষোভগুলিতেও রাষ্ট্রীয় দমন নীতি নেমে আসে। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে টিয়ার গ্যাস ও রাবার গুলি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করে। কিছু ক্ষেত্রে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো যখন ক্যাম্পাসগুলিতে তাণ্ডব চালায়, সম্পত্তি ভাঙচুর করে এবং সিএএবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে হামলা করে, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, এবং দর্শকের মতো দেখছিল।

আমার মতো বিদেশে পড়াশোনা করা ভারতীয় যেসব বিদ্বান এবং শিক্ষার্থী আছেন, সকলেই এই সমস্ত ঘটনার ভয়াবহতা দেখেছি। আমাদের মধ্যে অনেকে সিএএর বিরুদ্ধে এবং প্রতিবাদকারীদের সমর্থনে খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিল।  বিশিষ্ট পন্ডিতসহ আরো অনেকের এক গাদা স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও, এই চিঠিগুলি মোদি সরকারের কাছে তেমন কোনো পার্থক্য তৈরি করতে পারেনি।  তারা বরাবরের মতোই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর দমন চালিয়ে যেতে থাকে, যার ফলস্বরূপ দিল্লিতে মুসলিমবিরোধী একটি প্রচারণা ৫৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

এই বছর, কোভিড -১৯ মহামারী সরকারকে তার নীতি ও পদক্ষেপের যে কোনও সমালোচনা শক্ত হাতে দমনের জন্য বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। যেহেতু মহামারীজনিত বিধিনিষেধের মাঝে প্রতিবাদ করা কঠিন হয়ে গেছে,  এবং অবৈধ সমাবেশও নিষিদ্ধ, বিরোধী মতের কণ্টন্স্বরকে দমানোর জন্য মোদী সরকার এই সময়টার উপযুক্ত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  তারা ‘আনলোওফুল এক্টিভিটিস(প্রিভেন্ট) এ্যাক্ট’ শুরু করেছে—যেখানে রাষ্ট্রকে বিচারের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাস হিসেবে রায় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়।  হিসাবে মনোনীত করা এমন এক এটি বেআইনী ক্রিয়াকলাপ (প্রতিরোধ) আইনকে সমর্থন দেওয়া শুরু করে – যা রাষ্ট্রকে বিচারের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হয়ার আগেই একজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে অভিহিত করা ক্ষমতা দেয় । তবে অবশ্যই সিএএবিরোধী বিক্ষোভ ও বর্ণবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ভিন্নমতাবলম্বী পণ্ডিতদের এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

জুলাইয়ে, করোনাভাইরাস সঙ্কটের শীর্ষ সময়, বিজেপি সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (এনইপি) অনুমোদিত করে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা প্রকাশ করেছে। শিক্ষাকে আরও বেসরকারিকরণ এবং শিক্ষামূলক কাঠামোর ফেডারেল চরিত্রের ক্ষয়ের জন্য কেবল এনইপি পথ পখুলে দেয়নি, এনইপি-এর আশেপাশের বিজেপির বক্তৃতাটি প্রকাশ করে যে কীভাবে হিন্দু আধিপত্য ভারতে শিক্ষাকে কোথায় নিয়ে গেছে।

বিজেপি আধিকারিকদের এনইপি নিয়ে আলোচনায় এমন ঘোষণায় পরিপূর্ণ ছিল যে শিক্ষাকে “সংস্কৃতি” এবং “ঐতিহ্য” বলে চিহ্নিত করা দরকার এবং মুসলিম আগ্রাসন(অধিগ্রহণ) এবং ব্রিটিশ উপনিবেশিকতার আগে ভারত প্রাচীন অতীতে এক “জ্ঞান পরাশক্তি” দেশ ছিল।

শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়ালের মতে, এনইপি (NEP) এই নীতিবাক্য উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যে, “জাতিই প্রথম এবং চরিত্র অবশ্যই। এই মতাদর্শিক নকশার অধীনে জাতিবর্ণ নিপীড়ন, ইসলামফোবিয়া, পিতৃতন্ত্র এবং বন্ধু পুঁজিবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয়টি “জাতীয়তাবিরোধী” এবং যারা এমন কাজ করতে সাহস করে তাদের “চরিত্রের” অভাব রয়েছে।

এনইপি সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার চেয়ে “ব্যবহারিক দক্ষতা” বিকাশের অগ্রাধিকার দেয়। দেশের অন্যতম প্রধান প্রকৌশল ও বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) এ আমার স্নাতকোত্তর পড়ার সময় আমি নিজে দেখেছি এর মানে কী। এর অর্থ পাঠ্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কঠোরভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, যা স্নাতকদের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করে তবে সমালোচনা করতে এবং অত্যাচারী কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন করতে অক্ষম থাকে।

ভারতীয় প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তিবিদ পেশাদাররা বিশ্বজুড়ে কাজ করার সাথে এই ইস্যুটির বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে আমার কলেজের সমকক্ষদের দলিত শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মানজনক পদক্ষেপ নেওয়ার পরে, আমি সলিকন ভ্যালিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলীদের মধ্যে প্রচণ্ড বর্ণ বৈষম্য রয়েছে তা জানতে পেরে অবাক হইনি। আইআইটি এর টেকনোক্র্যাট পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন করে আমি অবাক হইনি যে, গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই যিনি আইআইটির প্রাক্তন ছাত্র, চীনা সরকারের সাথে সেন্সরযুক্ত ট্রেসেবল সার্চ ইঞ্জিন তৈরির জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরং এটি কীভাবে চীনে মানবাধিকারকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে এই প্রশ্ন না করেই।

অধ্যাপক তেলটুম্বেড এবং অন্যান্য অসংখ্য পণ্ডিতের চলমান অবৈধ কারাবাস ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার নগ্ন রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। মোদি এবং তাঁর হিন্দু জাতীয়তাবাদী সমর্থকরা ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার যে ক্ষতি করেছে, তা পূরণ/পূর্ন করতে কয়েক দশক না হলেও কয়েক বছর সময় লাগবে। এরজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ, আইন প্রণেতা, নাগরিক সমাজ এবং গুরুতরভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রয়োজন, যাতে রাষ্ট্রকে দমননীতির বন্ধ করে এবং একাডেমিক স্বাধীনতাকে রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুবাদ : মহিন রাসেল
লেখক : আমান অভিষেক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-মেডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অধ্যয়নের পিএইচডি শিক্ষার্থী।


মতামত ও বিশ্লেষন বিভাগে প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের নিজস্ব এবং এটি State Watch এর সম্পাদকীয় নীতির আদর্শগত অবস্থান ধরে নেওয়া  ঠিক হবে না।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 73
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    73
    Shares