Trial Run

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাউল রিতা দেওয়ানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি : সংগৃহীত

পালা গানে আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় বাউল শিল্পী রিতা দেওয়ানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ (বুধবার) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী শামীম আল মামুন। রিতা দেওয়ান ছাড়া মামলার অপর দুই আসামি হলেন শাহজাহান ও ইকবাল হোসেন।

মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, পালাগানের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গত ২ ফেব্রুয়ারি বাউল শিল্পী রিতা দেওয়ানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নালিশি মামলা করেন আইনজীবী ইমরুল হাসান। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। তদন্ত শেষে আসামি রিতা দেওয়ানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ৩ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পালাগানের মাধ্যমে আসামি রিতা দেওয়ান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন। আর রিতা দেওয়ানের ওই ভিডিও প্রচার করেন আসামি শাহজাহান ও ইকবাল হোসেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করা হয়েছে। মামলার বাদী আইনজীবী ইমরুল হাসান গণমাধ্যমকে  জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই। প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

গত ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানাধীন ধলারটেঙ্গর গ্রামে একটি পালাগানের আসরে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে রিতা দেওয়ান আল্লাহকে নিয়ে মন্তব্য করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস্‌সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ইমরুল হাসান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এরপর বিচারক পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ (১) ধারায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি পালা গানের আসরে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে রিতা দেওয়ান সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে ‘ধৃষ্টতা ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেন। ইউটিউবে সেই পালা গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তা মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হেনেছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী ইমরুল হাসান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮(১) ধারায় বলা হয়েছে- ‘যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন’।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে হাজার হাজার বছর ধরে পালা গান হয়ে আসছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে বাউলদের নামে মামলা ও জেল হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে আবহমান বাংলার হাজার বছরের লোকসংস্কৃতি, এমনটা মনে করছেন সাংস্কৃতি এক্টিভিস্টরা।

ফাআ/মিই/২২১০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares