Trial Run

আপিল বিভাগে আটকে রইল বিএনপি নেতা মীর নাছিরের জামিন

দণ্ড বাতিল হওয়া মামলায় পুনঃদণ্ডের পর এখনো জেলে

ছবি: যায়যায়দিন

বিচারপ্রার্থীদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থলেও জামিন মিলল না বিএনপি নেতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের। আগামী ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখায় মীর নাছিরকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ ১৫ নভেম্বর ২০২০, সোমবার এ আদেশ দেয়। গত ৮ অক্টোবর থেকে কারাগারে আছেন

আদালতের ভার্চুয়াল শুনানিতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান বলেন, তিনি (মীর নাছির) জামিন পাননি। ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি স্ট্যান্ডওভার রেখেছেন আদালত।

জানুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর গত ১৩ আগস্ট বিচারিক আদালত রায়ের নথি পায়। দুজন আত্মসমর্পণ না করে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে গত ১৫ অক্টোবর সেটি খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। গত ৮ অক্টোবর ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মীর নাছির আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হয়। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করার পাশাপাশি জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি। একই মামলায় দন্ডিত মীর নাছিরের ছেলে মীর হেলাল উদ্দিন গত ২৭ অক্টোবর ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল ও জামিনের আবেদন করেন তিনি। গত ১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত মীর হেলালকে আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত জামিন দেয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এ মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৮ নভেম্বর মীর নাছির বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর মীর নাছির আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) দায়ের করেন। একই সঙ্গে জামিনও চান।

২০০৭ সালের ৬ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মীর নাছির ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ একই বছরের ৪ জুলাই মীর নাছির উদ্দিনকে আলাদা ধারায় তিন বছর ও ১০ বছরের সাজা দেন। এছাড়া তার ছেলে মীর হেলালকে তিন বছরের সাজা দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে আলাদা দু’টি আপিল করেন।

হাইকোর্ট ২০১০ সালের ১০ আগস্ট মীর নাছিরের এবং একই বছরের ২ আগস্ট মীর হেলালের সাজা বাতিল করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে দুদক। ২০১৪ সালের ৪ জুলাই দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে রায় দেন আপিল বিভাগ। সেই মোতাবেক মামলাটির পুনঃশুনানী শুরু হয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে। সেই বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় পুনঃবহাল করে মীর নাছিরকে ১৩ বছর ও তার ছেলেকে ৩ বছরের সাজা ঘোষণা করে।

মীর নাছিরের সহসংগঠক ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাইকোর্টের আগের রায়টি উল্টে দেয়া হয়েছিল, যার নজির আগে কখনো দেখা যায়নি। এখন আবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জামিন আবেদনের শুনানি হচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন বিএনপি নেতাদের জেলে রাখার সরকারি ইচ্ছাই বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই করোনার মধ্যে একজন বয়স্ক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকে জামিন দিতে আইনি কোনো বাধা থাকার কথা নয়। উচ্চ আদালতের মীর নাছিরের আশু জামিন কামনা করছে তার পরিবার ।

ফাআ/আরা/১৬২০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares