Trial Run

সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা দুর্নীতির দায়ে কারাগারে

ছবি : বাংলানিউজ২৪

২৫ বছর আগের একটি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা করেছেন বরিশালের একটি আদালত। একই মামলায় আরও তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই দণ্ড দেয়া হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার জাকির হোসেনকেও।

আহসান হাবিব কামাল বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা সভাপতি হলেও বর্তমানে কোনো পদে নেই। ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির সমর্থনে সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালসহ দণ্ডিত সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মেয়র কামালের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন। বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মহসিনুল হক ৯ নভেম্বর ২০২০, সোমবার এ রায় দেন।

সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার আগে ১৯৯৫ সালে বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকার সময় আহসান হাবিব কামালের বিরুদ্ধে সড়ক মেরামতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে ২০০০ সালের ১১ অক্টোবর জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাসেত বাদী হয়ে কামাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫-৯৬ সালে বরিশাল টিঅ্যান্ডটির ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপনের সময় ক্ষতি হওয়া রাস্তা মেরামতের জন্য তৎকালীন টেলিফোন শিল্প সংস্থা থেকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে চারটি চেকের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো দরপত্র আহ্বান না করে দণ্ডিত জাকির হোসেনের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হাই ইয়ং’য়ের নামে সড়ক মেরামত বাবদ ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৭১ টাকা খরচ করে অবশিষ্ট ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৩৯ টাকা অভিযুক্তরা আত্মসাৎ করেন।

২০০০ সালের ১১ অক্টোবর তৎকালীন জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা (বর্তমানে উপপরিচালক) মো. আব্দুল বাসেত বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক আব্দুল বাসেত ও সহকারী পরিচালক এইচএম রহমতউলল্গাহ ২০১১ সালের ১৯ জুলাই আহসান হাবিব কামালসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।

বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে ২৬ জনের মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিনজনের মধ্যে রয়েছেন, তৎকালীন বরিশাল পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইছাহাক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী (বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) খান মো. নূরুল ইসলাম, তৎকালীন পৌরসভার সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুস ছাত্তার (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত)।


Available for everyone, funded by readers. Every contribution, however big or small, makes a real difference for our future. Support to State Watch a little amount. Thank you.

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares