Author: ডেস্ক রিপোর্ট

ইতিহাস, ধর্ম ও শিল্প—এই তিনের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে যিশু খ্রিস্টের চেহারা নিয়ে যে প্রশ্নটি বারবার ফিরে আসে, তা হলো: তিনি আসলে দেখতে কেমন ছিলেন? দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ যিশুকে চিনে এসেছে মূলত শিল্পীদের আঁকা ছবির মাধ্যমে—দীর্ঘদেহী, শুভ্র ত্বক, লম্বা বাদামি চুল, নীল চোখ, শান্ত ও করুণ দৃষ্টি। এই চেহারাটি এতটাই পরিচিত যে অনেকের কাছে এটিই যেন যিশুর “স্বাভাবিক” রূপ। অথচ ইতিহাসের চোখে তাকালে দেখা যায়, এই চিত্রটি বাস্তবতার চেয়ে ইউরোপীয় কল্পনার প্রতিফলনই বেশি। যিশু ছিলেন প্রথম শতাব্দীর একজন ইহুদি, জন্ম ও বেড়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের গ্যালিলি অঞ্চলে। ইতিহাসবিদদের কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কারণ কোনো মানুষের…

Read More

সতেরো বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন রাজনীতিকের প্রত্যাবর্তন নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। দীর্ঘ নির্বাসন, কারাবাসের স্মৃতি, বিতর্ক, সমর্থকদের প্রত্যাশা আর সমালোচকদের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে তার এই ফিরে আসা ব্যক্তি তারেক রহমানের পাশাপাশি বিএনপি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্যও বড় পরীক্ষা। যে মুহূর্তে তিনি দেশে ফিরেছেন, সে সময়টা এমনিতেই অস্থির, নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তেজনায় ভরা এবং নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা। ২০০৭ সালে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আঠারো মাস কারাবাস এবং এরপর যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান—এই অধ্যায় তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। এতদিন বিদেশে থাকার কারণে তার অনুপস্থিতি যেমন দলীয় নেতৃত্বে এক ধরনের…

Read More

একদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে তুলে নেবে—এই ধারণা বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও ভবিষ্যৎবাদীদের আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ দেখছেন এতে সীমাহীন সম্ভাবনা, কেউ আবার দেখছেন মানবসভ্যতার জন্য অস্তিত্বগত হুমকি। এআইয়ের জনক হিসেবে পরিচিত জেফ্রি হিন্টনের মতো গবেষকেরা প্রকাশ্যেই সতর্ক করেছেন, নিয়ন্ত্রণহীন এআই একসময় মানুষের জায়গা দখল করে নিতে পারে। কিন্তু এই আশঙ্কা আর সম্ভাবনার মাঝখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে যায়—যদি এআই শুধু মানুষের নির্দেশ পালন না করে, বরং নিজেই একটি সমাজ গড়ে তোলে, নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে, ভূমিকা ভাগ করে নেয় এবং সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কী হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা থেকেই গবেষকদের একটি…

Read More

লুটপাট, অগ্নিসংযোগ আর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাগুলো আমাদের সমাজে নতুন কিছু নয়। নতুন হলো এগুলোকে ন্যায্যতা দেওয়ার নির্লজ্জ ও ভয়ংকর বুদ্ধিবৃত্তিক চেষ্টা। মহিউদ্দিন আহমদের এই কলাম মূলত সেই জায়গাটিতেই আঘাত করে—যেখানে সহিংসতাকে ‘প্রেশার গ্রুপের কার্যক্রম’ বলে ধুয়ে-মুছে সাফ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি শুরুতেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলেন। মানুষ হিসেবে আমরা কেউই জানি না, কাল কী ঘটবে। কিন্তু অভিজ্ঞতা, কাণ্ডজ্ঞান আর ইতিহাস আমাদের কিছু আভাস দেয়। সমস্যা হলো, ব্যক্তিগত বোধ বা প্রস্তুতি তখনই অকার্যকর হয়ে পড়ে, যখন চারপাশের সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়। যা আমরা চাই না, যা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে—তাকেই আমরা অঘটন বলি। অঘটন ঘটলে আমরা…

Read More

২৫ ডিসেম্বরের রাতে ওড়িশার সম্বলপুর জেলার দানিপালি এলাকায় যে ঘটনা ঘটল, তা আর পাঁচটা বিচ্ছিন্ন অপরাধের খবরের মতো করে পড়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে কাজের খোঁজে যাওয়া ১৯ বছরের এক পরিযায়ী নির্মাণ শ্রমিক—জুয়েল রানা—‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গণপিটুনিতে মারা গেলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সহকর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। পরিচয়পত্র দেখানোর আগেই শুরু হওয়া মারধর, ‘জয় শ্রীরাম’ বলাতে বাধ্য করার অভিযোগ, আর রাতের অন্ধকারে হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়া—এই সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি কেবল একজন যুবকের মৃত্যুর নয়, বরং ভারতের ভেতরেই নাগরিকত্ব, ভাষা ও ধর্মের প্রশ্নে বেড়ে ওঠা এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। জুয়েল রানা মাত্র পাঁচ দিন আগে ওড়িশায় পৌঁছেছিলেন। মুর্শিদাবাদের সুতি অঞ্চলের…

Read More

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক বরাবরই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও কূটনীতির একটি সংবেদনশীল অধ্যায়। ভৌগোলিক নৈকট্য, অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা বাস্তবতার কারণে এই সম্পর্ক কখনো সহযোগিতার, কখনো সন্দেহ ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন—এই সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়নের সামনে দাঁড় করিয়েছে। ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, এই মুহূর্তটি দুই দেশের জন্য একই সঙ্গে ঝুঁকি ও সুযোগ—যেখানে ভুল সিদ্ধান্ত সম্পর্ককে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, আবার সঠিক পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথও খুলে দিতে পারে। আইসিজির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে…

Read More

১৯৯৮ সালে যমুনা সেতুর উদ্বোধনের দিনটিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ, অর্থনৈতিক প্রবাহের গতি বৃদ্ধি এবং জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে সেতুটি তখন ছিল গর্বের বিষয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সেতুই যমুনা নদী ও নদীপাড়ের মানুষের জন্য এক গভীর ক্ষতের নাম হয়ে উঠেছে। উন্নয়নের যে কাঠামো যোগাযোগ সহজ করেছে, সেটিই ধীরে ধীরে নদীর স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ ভেঙে দিয়ে হাজারো মানুষকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে, বদলে দিয়েছে ভূগোল, জীবিকা ও সামাজিক সম্পর্কের মানচিত্র। টাঙ্গাইলের চরপলি গ্রামের হাটে দাঁড়ালে এখনও স্বাভাবিক জীবনের ছবি চোখে পড়ে। সপ্তাহে দুই দিন মানুষ আসে, কেনাবেচা হয়, শিশুদের…

Read More

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান ফারুক হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বাস্তব চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে। এই ঘটনার পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ মহল পর্যন্ত সবাই বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা হাদির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাদি হত্যার পরপরই রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করতে…

Read More

ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়টা হঠাৎ করেই রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। পুরানা পল্টনের ব্যস্ত কালভার্ট রোডে জুমার নামাজের পর প্রকাশ্য দিবালোকে রিকশায় বসে থাকা এক রাজনৈতিক কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা—ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন রাজনীতির প্রভাব, সীমান্তপথে পালিয়ে যাওয়ার নেটওয়ার্ক, অপরাধ জগতের দালালচক্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ অনুসন্ধান। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনাটি ধীরে ধীরে একটি জটিল রাজনৈতিক–অপরাধমূলক কাহিনিতে রূপ নেয়। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গণসংযোগ করছিলেন, এলাকায় এলাকায় পরিচিত মুখ হয়ে উঠছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের…

Read More

ওয়াশিংটনের দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে এসে। দীর্ঘদিন ধরে যে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভারত প্রথম’ নীতিকে সামনে রেখে এ অঞ্চলের কৌশল সাজিয়ে আসছিল, সেই ধারা হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন পাকিস্তান উঠে এসেছে নতুন গুরুত্ব নিয়ে। এই পরিবর্তন কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য বা সাময়িক কৌশলগত সমন্বয় নয়; বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বড় পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আগামী কয়েক বছর ধরে টের পাওয়া যাবে। ২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ছিল শীতল ও সন্দেহে ভরা। ওয়াশিংটনের চোখে ইসলামাবাদ তখনো ছিল এক অবিশ্বস্ত অংশীদার—তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ…

Read More