Trial Run

তুরস্ক সরকারে সামরিক নেতাদের হস্তক্ষেপ, সাবেক ১০ অ্যাডমিরাল গ্রেপ্তার

ছবি: যুগান্তর

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সরকারের সমালোচনা করায় নৌবাহিনীর ১০ জন সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের অফিসের সমালোচনা করে একটি খোলা চিঠি প্রকাশের পর দেশটির সাবেক ১০ অ্যাডমিরালকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার(৫ এপ্রিল) সাবেক তুর্কি নৌ কর্মকর্তাদের ঘোষণায় রাজধানী আঙ্কারার রাষ্ট্রীয় প্রধান কৌঁসুলির তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয় জানায় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

এছাড়া বয়সের কারনে আরো চার অভিযুক্তকে আটক না করে তিনদিনের মধ্যে আঙ্কারা পুলিশের কাছে হাজিরা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে গত মাসে তুর্কি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইস্তাম্বুল খাল প্রকল্প অনুমোদনের পর শনিবার দেশটির নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা প্রকল্পের সমালোচনা করে এক খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।

খোলা চিঠিতে ১০৪ অ্যাডমিরাল সই করেছেন। প্রেসিডেন্টের অফিসের সমালোচনা করে তারা এই বিবৃতি দিয়েছেন।

খোলা চিঠিতে  উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত নৌকর্মকর্তারা বলেন, ক্যানাল ইস্তাম্বুল নামের এই প্রকল্পের ফলে মন্ট্রিক্স কনভেনশন হুমকির মুখে পড়বে এবং বসফরাস ও দার্দানেলেস প্রণালীতে তুরস্কের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।

১৯৩৬ সালে মনট্রিক্স কনভেনশনে স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়, বসফরাস প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হলেও তুরস্ক এই পথ দিয়ে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের দেশ ব্যতীত অন্য সব দেশের নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।

ক্যানাল ইস্তাম্বুল প্রকল্পে একটি বিশাল খাল খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে যা ইস্তাম্বুলের উত্তরে অবস্থিত কৃষ্ণ সাগরের সঙ্গে দক্ষিণের মর্মর সাগরকে সংযুক্ত করবে। বসফরাস প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের আধিক্য কমাতে এই খাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এতে খরচ হবে ৯২০ কোটি ডলার। প্রকল্পের এই বিপুল অর্থ ও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও চলছে সমালোচনা।

সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল নৌযান পারাপারের ফলে প্রায়ই এশিয়া ও ইউরোপের মাঝের এই প্রণালী পথে নৌজটের সৃষ্টি হয়। নৌজটের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে এই প্রণালীতে।

তুর্কি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণালীর সমান্তরালে কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযোগ করা নতুন ইস্তাম্বুল খালের মাধ্যমে প্রণালী পথে নৌ চলাচলের চাপ কমবে।

বসফোরাসের পশ্চিম থেকে শুরু হয়ে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে নয় শ ৮০ কোটি ডলার (বাংলাদেশী ৮৩ হাজার কোটি টাকার বেশি) খরচ হবে।

তবে এই খাল ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগরের মধ্যে বিভিন্ন নৌযানকে চলাচলের সুযোগ দিলেও এর ওপর মনট্রিউক্স চুক্তি প্রযোজ্য হবে না।

সরকারবিরোধীরা বলছেন, এই খাল প্রকল্প অর্থনীতির ওপর বিপুল প্রভাব ফেলার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সাবেক নৌকর্মকর্তাদের বিবৃতিকে বেসামরিক সরকারের প্রতি সরাসরি সামরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, এই বিবৃতিতে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি সামরিক চক্রান্তের বৈশিষ্ট্য ছিল।

তিনি বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের একটি দল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদেরকে হাস্যকর ও করুণ পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। এই বিবৃতি তাদের সামরিক অভ্যুত্থানের সময়কে প্রতিফলিত করছে।’

টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘তাদের জেনে রাখা উচিত আমাদের উজ্জীবিত জাতি ও তাদের প্রতিনিধিরা এই মানসিকতা কখনোই মেনে নিবে না।’

এরদোগানের অফিসের দাবি, তুরস্কের অতীতের অভ্যুত্থানের সময়কে মনে করিয়ে দিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কলিন বলেন, এসব অ্যাডমিরালদের জানা উচিত যে, আমাদের জাতি ও তার প্রতিনিধিরা কখনো এ ধরনের মানসিকতাকে আশ্রয় দেবে না।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমাদের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতেই এই চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

এনটিভির খবরে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক ব্যবস্থা লঙ্ঘন করতে বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছেন এসব সামরিক নেতারা।

তুর্কি নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কৌঁসুলিরা রোববার এক তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক কাঠামোর বিরুদ্ধে অপরাধের’ অভিযোগে তুর্কি নৌবাহিনীর সাবেক ১৪ অ্যাডমিরালকে অভিযুক্ত করা হয়।

তুর্কি সেকুলার সংবিধানের সংরক্ষক হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করা সামরিক বাহিনী ১৯৬০ সাল থেকে দেশটিতে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে তিন দফা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালেও অপর একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটনার চেষ্টা হলেও তুর্কি জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৬৩০ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ