Trial Run

সুয়েজ খালের বিকল্প ইরানের নর্থ-সাউথ করিডোর গুরুত্ব বাড়াবে এশিয়ার

ছবি: যুগান্তর

সুয়েজ খালে একটি বিশাল জাহাজ আড়াআড়িভাবে আটকে পড়ার কারণে গত কয়েকদিন ধরে সেখানে অসংখ্য জাহাজের জট লেগে ছিল এবং এর ফলে প্রতিদিন শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এখনও স্বাভাবিক হয়নি জাহাজ চলাচল। তাই বিশ্ব বাণিজ্যের এই সুয়েজ খাল নির্ভরশীলতা চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।  ফলে সমুদ্র বাণিজ্যরে নিরাপত্তা ও বিকল্প পথ নিয়ে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ মিসরের সুয়েজ খালের বদলে একটি বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির চবাহার বন্দরভিত্তিক রুটটির নাম ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ করিডোর বা আইএনএসটিসি। এশিয়া থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহণের জন্য সুয়েজ খালের তুলনায় এই রুটটির ব্যবহারে ঝুঁকি অনেক কম এবং অনেক বেশি লাভজনক বলে জানিয়েছে তেহরান।

নর্থ-সাউথ করিডোর কেন?

জার্মানির হামবুর্গ থেকে রাশিয়া ও ইরান হয়ে ভারতের মুম্বাই পৌঁছাতে সময় লাগে ঐতিহ্যবাহী সুয়েজ রুটের অর্ধেকেরও কম। ভারত থেকে ব্যবসায়িক পণ্য চবাহার বন্দর হয়ে জার্মানিতে পৌঁছাতে সময় লাগে ১৪ থেকে ১৬ দিন। অথচ সুয়েজ খাল হয়ে বড় জাহাজে করে এই পণ্য ইউরোপে পৌঁছাতে সময় লাগে ৩৮ দিন।

রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি সুয়েজ খালে সৃষ্ট এ বিপর্যয়ের সময় বলেন, ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ ও কম সময়ে পণ্য পরিবহনের জন্য বিকল্প পথ দেখা উচিত এবং এ ক্ষেত্রে ইরানের নর্থ-সাউথ করিডোর বা এনএসটিসি রুট ও শ্রেষ্ঠ ও বিকল্প পথ হতে পারে।’

এশিয়া থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের জন্য সুয়েজ খালের তুলনায় প্রস্তাবিত ইরানের নর্থ-সাউথ করিডোর বা এনএসটিসি রুটের ঝুঁকি অনেক কম এবং অনেক বেশি লাভজনক। এনএসটিসি ভারত থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের সময় ২০ দিন এবং খরচ শতকরা অন্তত ৩০ ভাগ কমাতে পারবে। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এক টুইটার বার্তায় এ কথা বলেছেন।

ইরানের পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর বা এনএসটিসি রুটের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ২০০০ সালে দীর্ঘ বহুমুখী এই রুটের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে মধ্য এশিয়ার ১০টি দেশ এই পরিকল্পনায় যুক্ত হয়। ইরান সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ওঠার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে এবং তা সম্ভব হলে ভারত থেকে ইউরোপে মালামাল পরিবহণে খরচ কমবে।

জাহাজ, রেল ও সড়কপথের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া এ রুটে পণ্য পরিবহনের খরচ শতকরা ৩০ থেকে ৬০ ভাগ কমবে। এ ছাড়া, বর্তমানে সুয়েজ খাল দিয়ে পণ্য পরিবহনে ৪০ দিন সময় লাগলেও প্রস্তাবিত রুটে সময় লাগবে মাত্র ২০ দিন। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চবাহার সমুদ্রবন্দর এই রুট বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চীনের উদ্যোগে ঐতিহাসিক সিল্ক রোড চালু করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে খুব সহজে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পণ্য পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর-পূর্ব ইউরোপে সরবরাহ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

তাই ইরানের উত্তর-দক্ষিণ করিডোরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। ইরানের চবাহার সমুদ্র বন্দর হয়ে রেল ও লরির মাধ্যমে দ্রুত সময়ে এশিয়ার পণ্য ইউরোপে সরবরাহ করা যাবে এবং এটি সুয়েজ খালের বিকল্প হতে পারে

তুরস্ক রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে চীনের সহায়তায় যৌথ বাণিজ্যি করিডোরে আগ্রহী। তাহলে ইউরোপের দশগুলোর তুরস্কের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের একচেটিয়া বাণিজ্যিক শক্তি খর্ব করার ক্ষেত্রে বিকল্প চবাহার বন্দর ব্যবহারকে এসব দেশ বড় এক উৎস হিসাবে বিবেচনা করছে। পাকিস্তানও চবাহার বন্দর যাতে ব্যবহার করে সেজন্য ইরানের তরফ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইরান চলতি সপ্তাহেই চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বছর পাঁচেক ধরে আলোচনার পর শনিবার তেহরানে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীন ও ইরানের মধ্যে এ ধরনের চুক্তিতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমানে দুদেশের বাণিজ্য আগামী এক দশকে বৃদ্ধি করে বছরে তা ৬ হাজার কোটি ডলারে উন্নিত করা। তেল, গ্যাস, পেট্রকেমিক্যাল, রিনিউবল ও নিউক্লিয়ার জ্বালানি ছাড়াও অবকাঠামো খাতে ইরানে ব্যাপক বিনিয়োগ করবে চীন। এ চুক্তির ফলে দুটি দেশ বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনফ্রাকচার স্কিমে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত হবে।

এ ট্রিলিয়ন ডলারের এ স্কিমের লক্ষ্য হচ্ছে চীনের সঙ্গে ইউরোপ ও আফিকার সড়ক ও জলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর ফলে ডজনেরও বেশি দেশ বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে।

ইতোমধ্যে চবাহার সমুদ্রবন্দরের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে এটির উন্নয়নে ইরান বিপুল পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। সেইসঙ্গে বিশ্বের যেকোনো দেশ ও কোম্পানিকে তাদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য এই বন্দরে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ অবারিত করে দিয়েছে তেহরান।

ইরানের পর এখন পর্যন্ত ভারত এই বন্দরে সবচেয়ে বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। আফগানস্তানসহ মধ্য এশিয়ার ভূমিবেষ্টিত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে এই সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত।

সুয়েজ খাল— বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি

মানুষের তৈরি ব্যস্ততম সুয়েজ খাল আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে। ১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো সুয়েজ খাল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট। এটিকে বলা হয় বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি।

সুয়েজ খাল ভূমধ্য সাগর ও লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করায় এশিয়া ও ইউরোপের দূরত্ব অনেকটাই কমে গেছে। সমুদ্র পথে বিশ্বের ১২ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ এ পথ দিয়েই চলাচল করে। স্বল্প সময় ও নিরাপদ রুটের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।

এই খালের ফলে উত্তর আটলান্টিক থেকে ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরের মধ্যে দিয়েই অনেক কম সময়েই ভারত মহাসাগরে এসে পড়ে বাণিজ্য জাহাজগুলো। সুয়েজ খাল তৈরির আগে আফ্রিকা মহাদেশ বরাবর ঘুরে আসতে জাহাজগুলোকে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পথ বেশি পাড়ি দিতে হতো। সময় লাগত ৮ থেকে ১০ দিন। এখন সেখানে একদিনেই পেরিয়ে যাওয়া যায় সুয়েজ খালের মাধ্যমে। সুয়েজ খালের দৈর্ঘ্য মাত্র ১৯৩ কিলোমিটার। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণে লোহিত সাগরের জলতল সমান হওয়ায় পানামা খালের মতো আলাদা করে জাহাজ পারাপারের জন্য লক ব্যবস্থা করার প্রয়োজন পড়েনি। ফলে পানামা খালের চেয়ে অনেক সহজেই জাহাজ যাতায়াত করতে পারে এই খালে।

বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়ে থাকে। এই খাল দিয়েই ১২ শতাংশ বাণিজ্য হয়। সারা বিশ্বের জলপথে বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ শিপিং কনটেইনার এই খাল দিয়েই যাতায়াত করে। ২০১৯ সালে এই খাল দিয়ে ১৯ হাজার জাহাজে ১২০ কোটি টন পণ্য পরিবহন করা হয়। যা ঐ বছর সমুদ্রপথে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় আট ভাগের এক ভাগ। 

গত বছর এসসিএ জানিয়েছিল, ২০২০ সালে প্রায় ১৯ হাজার জাহাজ বা প্রতিদিন গড়ে ৫১ দশমিক পাঁচটি জাহাজ সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচল করেছে। 

শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের বহু উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যবাহী জাহাজ এই খাল দিয়ে ইউরোপে পাঠায়। আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজ ইউরোপে পাঠাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধ বা শান্তি যে কোনও সময় যে কোনও দেশের জাহাজ সুয়েজ খাল ব্যবহার করতে পারবে।

লয়েডস লিস্ট জানায়, এ খালের পশ্চিম দিক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫১০ কোটি ডলার ও পূর্ব দিক দিয়ে প্রতিদিন ৪৫০ কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন করা হয়। লয়েডস লিস্ট জানায়, জাহাজটির দুই দিকে ১৬০টিরও বেশি জাহাজ আছে যার মধ্যে ৪১টি মালবাহী ও ২৪টি তেলবাহী জাহাজ রয়েছে। এই খাল দিয়ে সবচেয়ে বেশি মাল রফতানি করে রাশিয়া এবং সৌদি আরব। ভারত এবং চীন সবচেয়ে বেশি মাল আমদানি করে এই পথ দিয়ে। 

এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার যোগাযোগের নাভিমূল নামে খ্যাত সুয়েজ খাল। এই জলপথটিতে তিনটি প্রাকৃতিক হ্রদ আছে। সুয়েজ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হলো পানামা খাল, পারস্য উপসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর। 

৭ দিনে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি কমবে ০.২-০.৪%

গত ২৩ মার্চ থেকে জাপানি মালিকানার বিশাল মালবাহী জাহাজ এভারগ্রিন সুয়েজ খালে আড়াআড়িভাবে আটকে পড়ায় মালবাহী জাহাজ চলাচলে তৈরি হয়েছে বিশাল সমস্যা। লোহিত সাগরে ৩২০’র বেশি জাহাজের বিশাল জট তৈরি হয়েছে। 

সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন মিশর প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ ডলারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এদিকে, ৪০০ মিটার লম্বা এবং দুই লাখ টন ওজনের দানবাকৃতির এই জাহাজটিকে পানিতে ভাসানো গেলেও সুয়েজ খাল দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল কখন পুরোপুরি শুরু হবে তা স্পষ্ট নয়।

গত সাতদিনে মিশরের তো বটেই পুরো বিশ্ব বাণিজ্যের বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। এখনও বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ শতাংশ এই খালের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টন জ্বালানি তেল এবং বিশ্বের মোট তরলীকৃত জ্বালানি গ্যাস এই খাল দিয়ে পার হয়।

রোববার পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে, ৩৬৯টি মালবাহী জাহাজ ১২০ মাইল লম্বা খালের দুদিকে সাগরে আটকা পড়েছে। সোমবার পাওয়া হিসেবে ৪৫০টির মত জাহাজ জটের মধ্যে পড়েছে, এবং খাল চালু হলেও জট কাটাতে কয়েকদিন লেগে যাবে।

সুয়েজ খালের ওপর মিশরের অর্থনীতির অনেকটাই নির্ভর করে। করোনাভাইরাস প্যানডেমিকের আগে মিশরের জিডিপির প্রায় দুই শতাংশ আসতো সুয়েজ খাল থেকে পাওয়া মাশুল থেকে।

সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের প্রধান ওসামা রাবি শনিবার বলেন, খাল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তাদের গড়ে ১৫ মিলিয়ন (এক কোটি ৫০ লাখ) ডলার ক্ষতি হচ্ছে। 

অন্যদিকে, লয়েডস লিস্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে শত শত মাল ভর্তি জাহাজ আটকে থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৬০ কোটি ডলারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে রয়েছে। তার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় ৪০ কোটি ডলার এবং ৩৩ কোটি টন পণ্যের ব্যবসা আটকে রয়েছে।

জার্মান বীমা কোম্পানি অ্যাল্যায়াঞ্জ শুক্রবার হিসাব দিয়েছে সুয়েজ খাল বন্ধ হয়ে থাকায় এক সপ্তাহে বিশ্ব বাণিজ্যে ৬০০ কোটি ডলার থেকে ১০০০ কোটি ডলারের লোকসান হবে। 

যার ফলে, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ০.২ থেকে ০.৪ শতাংশ কম হতে পারে।

বিবিসি জানায়, প্রতিদিন ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। আটকে থাকা পণ্যের দাম দিনের হিসেবে বাড়ে।

জাহাজ পরিবহন খাতে শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এসিএম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকাকে জানিয়েছে এই জটের কারণে ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে মাল পরিবহনের জন্য কিছু জাহাজের ভাড়া হঠাৎ ৪৭ শতাংশ বেড়ে গেছে।

সুয়েজ খালের জটের মধ্যে বসে না থেকে কিছু কিছু জাহাজ দীর্ঘ পথে রওয়ানা হচ্ছে, ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে তাদের অতিরিক্ত আট দিন লাগবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্য পণ্য পরিবহনের জন্য স্বল্প সময়, সহজ উপায় এবং নিরাপত্তা এ তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় চবাহার ও ম্যাকরন সমুদ্র বন্দর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হতে পারে। কারণ এ রুটে কম খরচে ও কম সময়ে পণ্য পরিবহন করার সুযোগ রয়েছে। ইরানের এই নর্থ-সাউথ করিডোরের দৈর্ঘ্য ৭২০০ কিলোমিটার। সুয়েজ খালের রুটের চেয়ে ইরানের এই রুট ব্যবহারের অন্যতম একটি সুবিধা হচ্ছে অর্ধেক সময় বেঁচে যাবে। এছাড়া, বর্তমানের বাজার অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ তাই খরচ ও স্বল্প সময়ের দিক থেকে ইরানের এ রুট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এসডব্লিউ/এমএন/এসএস/১৫২৩ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ