Trial Run

চট্টগ্রামে বিএনপি ও পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ২০, বিএনপি নেতা শাহাদাতসহ আটক ১৫

ছবি: বিএনএনিউজ.২৪

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে নগর বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ২০ জন আহত ও ১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার(২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কাজীর দেউড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  এদিকে চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের পর দলটির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে আজ সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার নগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগর দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয় এবং পরবর্তী বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশ শুরু করে। একই সময়ে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে অপর একটি মিছিল সেখানে এসে শেষ হয় এবং বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশ শুরু করে। এ সময় পুলিশ রাস্তায় সমাবেশে বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, মিছিল আসার পরপরই দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ অতর্কিতে গুলি করতে থাকে। আহত হয়েছে দলের ২০ জন নেতা-কর্মী। তারা বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। মহিলা দলের সভানেত্রীসহ ১৫ জনকে আটকের খবর পেয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, কাজীর দেউড়িতে বিএনপি কার্যালয় নসিমন ভবনের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়, তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অ্যাকশনে যায় এবং বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর (দক্ষিণ) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ জানান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে। এ সময়, নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে বিএনপি কর্মীরা সড়ক অবরোধ করলে, পুলিশ লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করতে গলে হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে করে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হয়। এছাড়া তাদের ডাকায় হরতালেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের আরো ২জন কর্মী নিহত হন বলে দাবি তাদের। আর এর প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সারা দেশে বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।

স্বাধীনতা দিবসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ মার্চ) ঢাকাসহ সব মহানগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল অথবা সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

এদিকে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনকে তার দলের এক নেত্রীর করা চাঁদাবাজির মামলায় ও আজ বিকেলে পুলিশের ওপর হামলা, রাস্তায় আগুন ও ভাঙচুরের অভিযোগে  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিকালে নগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার ট্রিটমেন্ট হাসপাতালের চেম্বার থেকে চিকিৎসক শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর গণমাধ্যমকে বলেন, শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সোমবার বিকেলে পুলিশের ওপর হামলা, রাস্তায় আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও তিনি জড়িত। এ জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর শাহাদাতকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন ডা. শাহাদাত। পরে নির্বাচন কমিশনার এবং বর্তমান মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন তিনি।

শাহাদাতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাটি ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী। তিনি জাতীয় এক দৈনিককে বলেন, ‘যিনি মানুষকে বিনা টাকায় চিকিৎসা করেন, সাহায্য করেন, তিনি চাঁদাবাজি করবেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সব পুলিশের ষড়যন্ত্র। আন্দোলন দমিয়ে রাখতে সব করছে পুলিশ।’

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/২১২১ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 31
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    31
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ