Trial Run

দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করায় রূপগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রাতে ওই মামলাটি দায়ের করেন গাজী গ্রুপের ম্যানেজার অ্যাডমিন মোজাম্মেল হক। মামলা নং ৫৯।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, উপজেলার কায়েতপাড়ার ইসাখালী গ্রামের আশরাফুল আলম ভুইয়া জেমিন এবং তুষারসহ আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জন মিলে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় আশরাফুল আলম ভুইয়া জেমিনের ফেসবুক আইডি থেকে গাজী একাডেমির জন্য নির্ধারিত কিছু জমির ছবিসহ কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক ঘটনার অবতারণা করে স্ট্যাটাস দেয়া হয়।

উক্ত স্ট্যাটাসে আসামি আশরাফুল আলম ভুইয়া জেমিন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এটি করেছে বলে আর্জিতে বাদী উল্লেখ করেছেন। এতে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের মধ্যে অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা করা হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেন। মামলায় এ ঘটনায় ৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি জেনেছি, আইনি প্রক্রিয়ায় সব হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি বিলাল আহম্মেদ বলেন, রাতে মামলা হয়েছে, পুলিশ যথাযথ আইনত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রাতে মামলা হয়েছে, পুলিশ যথাযথ আইনত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ব্যাপারে আসামি আশরাফুল এবং তুষার নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা দাবি করেছেন। তুষার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্যবিদায়ী সহ-সভাপতি এবং আশরাফুল একই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কালো আইনের মাধ্যমে সরকার তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়। কেউ যেন এই সরকারের নানা দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে, সেই জন্যই এই সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরি করে মানুষের মুখ বন্ধ রাখতে চায়।

তারা বলেন, আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা— এটা আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। যে অধিকার আইন করেও খর্ব করা যায় না। দুর্ভাগ্যবশত আজকে স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী উদযাপন করতে গিয়ে এই স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করছি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আইনটি পর্যালোচনা করা হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে তদন্তের আগেই যেন গ্রেফতার করা না হয়, এমন ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আইনটি নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তির ওপর দেশে ও বিদেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১২৪৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 61
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    61
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ