Trial Run

জুম অবসাদে ভুগছে মানুষ, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণা

এক দশক ধরে চলা মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, যখন আমরা আমাদের দিকে তাকাই, তখন আমরা আমাদের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি। দেখার মাধ্যমে নিজেদের মূল্যায়ন করতে শুরু করে দিই। মাত্রাতিরিক্ত এমনটা ঘটলে নিজের ওপর চাপ বাড়ে, সেই সঙ্গে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়।

ছবি: সংগৃহীত

আজকেও দুটো জুম কল আছে, বা এই হোম অফিস ও জুম মিটিং নিয়ে আর পারছি না। অথবা, জানি না কবে এই জুমের হাত থেকে মুক্তি পাবো, দীর্ঘশ্বাস সহ এমন কথা কি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন এই করোনা কালে। টানা কয়েকটি জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার পর ‘জুম অবসাদ’ এ ভুগতে পারেন ব্যবহারকারী। অন্তত সে কথাই উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায়। জুম অবসাদের মূল কারণগুলোও খুঁজে বের করেছেন গবেষকরা। গবেষণার পিয়ার-রিভিউতে অভূতপূর্ব ও মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভিডিও আলাপের ফলাফলগুলো নিবন্ধ করা হয়। ভিডিও চ্যাটের ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে চোখের ক্লোজ যোগাযোগ এবং ব্যক্তির নিজের প্রতিবিম্ব বারবার দেখার নেতিবাচক প্রভাবগুলো উঠে আসে রিভিউতে। ‘টেকনোলজি, মাইন্ড অ্যান্ড বেহেভিয়ার’ শীর্ষক জার্নালে তা প্রকাশিত হয়।

কোভিড-১৯ সংক্রমণে এখনও নাজেহাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। অনেক মানুষকেই ঘরে বসে জুমের মাধ্যমে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সারতে হচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশন বিভাগের অধ্যাপক জেরেমি বেলেনসন ‘বিবিসি রেডিও ৪’কে বলেন, এক দশক ধরে চলা মনস্তাত্ত্বিক এ গবেষণায় দেখা যায়, যখন আমরা আমাদের দিকে তাকাই, তখন আমরা আমাদের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি। দেখার মাধ্যমে নিজেদের মূল্যায়ন করতে শুরু করে দিই। মাত্রাতিরিক্ত এমনটা ঘটলে নিজের ওপর চাপ বাড়ে, সেই সঙ্গে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, যখন কোনো রিয়েলটাইম ভিডিও কিংবা আয়নায় আমরা আমাদের দেখি, তখন আমরা নিজেদের একটি আদর্শরূপ মানুষ হিসেবে কল্পনা করি। অর্থাৎ আমরা নিজেদের চোখে নিজেদের সেরা সর্বশ্রেষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভাবতে থাকি। কিন্তু বিপরীতে আমরা একটি নেতিবাচক ফল ভোগ করি।

তবে সমস্যার পাশাপাশি গবেষণায় এর সমাধানের পথও দেখিয়েছেন বেলেনসন। তার মতে, কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করলেই এর তীব্রতা এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট অনিবার্য আলস্য থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারি। এজন্য কম্পিউটার বা মোবাইলের ভিডিও চ্যাট উইন্ডোর সাইজ কমিয়ে রাখতে হবে। ফুল স্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে স্ক্রিনটাকে একটু বেশি দূরত্বে রাখার জন্য কি-বোর্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ভিডিওতে দেখা অংশগ্রহণকারীদের মুখগুলো ‘লিস্ট ভিও’ এর পরিবর্তে ‘গ্রিড ভিও’ মুডে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তবে বিশেষভাবে কেউ চাইলে ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তন করে ‘হাইড সেল্ফ ভিউ’ বাটন ব্যবহার করে নিজের ছবি/ভিডিও দেখা বন্ধ করতে পারেন। এছাড়া কেউ চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের ক্যামেরা বন্ধ করে দিতে পারেন। চাইলেই এর মাধ্যমে নিজেকে ‘নন-ভার্বাল রেস্ট’ দিতে পারেন তারা।

কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করলেই এর তীব্রতা এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট অনিবার্য আলস্য থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারি। এজন্য কম্পিউটার বা মোবাইলের ভিডিও চ্যাট উইন্ডোর সাইজ কমিয়ে রাখতে হবে। ফুল স্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে স্ক্রিনটাকে একটু বেশি দূরত্বে রাখার জন্য কি-বোর্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ভিডিওতে দেখা অংশগ্রহণকারীদের মুখগুলো ‘লিস্ট ভিও’ এর পরিবর্তে ‘গ্রিড ভিও’ মুডে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বেইলেনসেন জানিয়েছেন, জুমের পক্ষ থেকেও এ সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। নিজ পরামর্শ ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

এদিকে ২০২০ সাল থেকে জুমের চাহিদা বেড়েই চলছে। করোনাভাইরাস মহামারীর সময়টিতে দৈনন্দিন এক কোটি মিটিং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ কোটিরও বেশি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ফলাফল পেশ করেছে গত সোমবার। সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারিতে সমাপ্ত অর্থবছরে মোট আয় ছিল ২৬০ কোটি ডলার, তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩২৬ শতাংশ বেশি। আর ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রি ছিল ৮৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

জুমের এমন সাফল্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক ইউয়ান বলেছেন, ‘বিশ্বস্ত সহযোগী এবং যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার মাধ্যম হিসেবে আমাদের ভূমিকায় আমরা বিনীত। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দিতে পারায় বছরজুড়ে বরাবরই আমাদের আর্থিক ফলাফল ভালো ছিল।’

জুমের বয়স ৯ বছর হলেও করোনাকাল শুরু হলে আলোচনায় আসে। আর এখন তো ভিডিও কনফারেন্সের সমার্থকে পরিণত হয়েছে। অনেকে অবশ্য জুমে কাজ করতে করতে ক্লান্তি ও অবসাদের কথা জানিয়েছেন। তবে করোনাকাল যদি আরও দীর্ঘ হয় তাহলে এর বিকল্প ভালো সেবা খুব বেশিও নেই।

প্রতিষ্ঠানটির আশা, ২০২১ সালেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আর গত ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত প্রান্তিকে ৯০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা তাদের। জুমের বিনিয়োগকারীরা অবশ্য তেমন আশাবাদী হতে পারছেন না। তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হলো, করোনার ভ্যাকসিন আসায় শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসা শুরু করবেন আর তখন জুমের ব্যবসাতেও মন্দাভাব দেখা যেতে পারে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৮০০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    27
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ