যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে পরাজিত করার সবচেয়ে পরিচিত পদ্ধতি হলো সরাসরি আঘাত। বোমা হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস কিংবা স্থলবাহিনী পাঠিয়ে ভূখণ্ড দখল—ইতিহাসের বড় বড় যুদ্ধের সঙ্গে এসব কৌশল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সব যুদ্ধের শেষ হয় না বন্দুকের গুলিতে। কখনো কখনো একটি দেশকে দুর্বল করার জন্য তার অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, সরবরাহব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পথগুলোকে একে একে সংকুচিত করাই হয়ে ওঠে প্রধান অস্ত্র। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান চাপকে ঘিরে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ শব্দটি সেই কারণেই আলোচনায় এসেছে।
‘অ্যানাকোন্ডা’ নামটি এসেছে একটি সাপের কাছ থেকে। অ্যানাকোন্ডা শিকারকে একবারে আক্রমণ করে শেষ করে না; ধীরে ধীরে পেঁচিয়ে ধরে তার চলাচল ও শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যুদ্ধের ভাষায় এই ধারণাটি হলো—শত্রুর ওপর এমনভাবে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তার অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসে। এই ধারণার ঐতিহাসিক শিকড় যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধে। ১৮৬১ সালে ইউনিয়ন বাহিনীর জেনারেল উইনফিল্ড স্কট কনফেডারেসিকে পরাজিত করার জন্য সমুদ্রপথে অবরোধ, গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এটি ‘অ্যানাকোন্ডা প্ল্যান’ নামে পরিচিত হয়।
আজ ইরানের ক্ষেত্রে যে কৌশলটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি সেই ঐতিহাসিক পরিকল্পনার হুবহু পুনরাবৃত্তি নয়। বরং সামরিক চাপ, নৌ-অবরোধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক বিচ্ছিন্নতা এবং কূটনৈতিক চাপ—সবকিছুকে একসঙ্গে ব্যবহার করে তেহরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরির একটি আধুনিক রূপ। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ইরান নীতিকে ‘অ্যানাকোন্ডা’ কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ—তেল। ইরানের অর্থনীতির জন্য তেল রপ্তানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তেহরান যেন আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে তেল বিক্রি করতে না পারে, সেই পথ সংকুচিত করা হলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। শুধু ইরানের নিজস্ব জাহাজ নয়, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপরও চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি কেবল নিষেধাজ্ঞার তালিকা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; সমুদ্রপথে তেল পরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থাকেও চাপের মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে।
এখানে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব আলাদা করে বুঝতে হবে। পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত এই সরু জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরান বহুদিন ধরেই হরমুজকে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা হলো, হরমুজে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ শুরু হলে তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; উপসাগরীয় দেশ, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি সমুদ্রপথে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই কৌশলের আরেকটি দিক আরও গুরুত্বপূর্ণ—অর্থের প্রবাহ বন্ধ করা। আধুনিক রাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষমতা শুধু অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না; ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বৈদেশিক মুদ্রা, আন্তর্জাতিক লেনদেন, প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগও সামরিক সক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করে। ফলে কোনো দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়া হলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে সামরিক ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ইরানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক নজরদারি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার ওপর চাপ—এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই পরিবর্তিত যুদ্ধের একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো বিকল্প আর্থিক মাধ্যম খুঁজতে পারে। তাই ডিজিটাল সম্পদও এখন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের খবরও এই বৃহত্তর আর্থিক যুদ্ধের দিকটি সামনে এনেছে।
শুধু ইরানের ভেতরের অর্থনীতি নয়, যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও। বিশেষ করে ইরানের তেল কেনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তেহরানের পক্ষে বিকল্প ক্রেতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও সিদ্ধান্ত নিতে হয়—তারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, নাকি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা ও বাজারে নিজেদের প্রবেশাধিকার রক্ষা করবে। এটিই আধুনিক নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি। কারণ ওয়াশিংটনকে প্রতিটি লেনদেনে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হয় না; মার্কিন বাজার ও আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর ভয়ই অনেক প্রতিষ্ঠানকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা থেকে দূরে রাখতে পারে।
কিন্তু এখানে একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে—অর্থনৈতিক চাপ কি সত্যিই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রকে নতি স্বীকার করাতে পারে?
ইতিহাসের উত্তর খুব সরল নয়। নিষেধাজ্ঞা কোনো দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে, বিনিয়োগ কমাতে পারে এবং সরকারের ওপর জনগণের অসন্তোষ বাড়াতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা একটি দেশকে বিকল্প অর্থনীতি গড়ে তুলতেও বাধ্য করতে পারে। ইরান বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও তেল বিক্রি, বিকল্প বাণিজ্যপথ এবং বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা করেছে। ফলে ওয়াশিংটনের হিসাব আর তেহরানের বাস্তবতা এক জায়গায় মিলবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। তেহরান যদি মনে করে সময় তার পক্ষে কাজ করছে, তাহলে তারা হয়তো চাপ সহ্য করে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে সময়ের সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল হবে, তাহলে ওয়াশিংটন চাপ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী হবে। অর্থাৎ দুই পক্ষই এখন শুধু সামরিক শক্তির হিসাব করছে না; তারা হিসাব করছে কার অর্থনীতি আগে ক্লান্ত হবে এবং কার রাজনৈতিক চাপ আগে অসহনীয় হয়ে উঠবে।
এই জায়গায় ইরানের পাল্টা কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের হাতে সবচেয়ে বড় কৌশলগত অস্ত্রগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। তেলের দাম বেড়ে গেলে তার প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ইউরোপ, এশিয়া এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও পড়বে। ফলে ইরান হয়তো হিসাব করতে পারে যে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের ওপরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে। এ ধরনের পাল্টা চাপের সম্ভাবনাই ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’কে একটি সরল একমুখী অবরোধের বদলে দুই পক্ষের অর্থনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি বিবেচনা হলো সাধারণ ইরানির মনোভাব। সরাসরি কোনো দেশের অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানো হলে জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। সরকারবিরোধী মানুষও তখন বহিরাগত শত্রুর বিরুদ্ধে সরকারের পাশে দাঁড়াতে পারে। অর্থনৈতিক চাপের সমর্থকদের যুক্তি হলো, অবকাঠামো ধ্বংস না করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ দিলে সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি একটি অনুমান, নিশ্চিত ফলাফল নয়। অর্থনৈতিক সংকট কখনো সরকারবিরোধী আন্দোলন তৈরি করে, আবার কখনো জনগণকে আরও শক্তভাবে জাতীয় পতাকার নিচে একত্রিত করে।
আর এখানেই ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’-এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। শত্রুকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করা যেমন তাকে আলোচনায় আনতে পারে, তেমনি তাকে আরও আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য করতে পারে। কোনো রাষ্ট্র যখন মনে করে তার অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব একসঙ্গে হুমকির মুখে, তখন সে আপসের পথ বেছে নিতে পারে, আবার ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরোধের পথেও যেতে পারে। ইরানের ক্ষেত্রে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং হরমুজ—সবকিছুই এই বৃহত্তর কৌশলগত হিসাবের সঙ্গে যুক্ত।
আরেকটি বিষয় হলো, অর্থনৈতিক যুদ্ধের ক্ষতি সবসময় শুধু সরকারের ওপর পড়ে না। নিষেধাজ্ঞার ফলে আমদানি ব্যয় বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে পারে। ওষুধ, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও প্রযুক্তি আমদানিতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে, যদিও নিষেধাজ্ঞার কাঠামোতে মানবিক পণ্যকে অনেক সময় ছাড় দেওয়া হয়। বাস্তবে ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়াতে বৈধ মানবিক লেনদেন থেকেও দূরে থাকতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক চাপের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনেও পৌঁছাতে পারে।
এ কারণেই ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’কে শুধু একটি সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মূলত রাষ্ট্রের সক্ষমতার বিভিন্ন স্তরকে একসঙ্গে চাপে ফেলার ধারণা। তেলের আয় কমানো, বাণিজ্য সংকুচিত করা, আর্থিক লেনদেন কঠিন করা, সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করা, সামরিক সক্ষমতা ক্ষয় করা এবং কূটনৈতিকভাবে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করা—সবকিছু মিলেই তৈরি হয় এই চাপের বলয়।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই বলয় কতদূর পর্যন্ত শক্ত করা সম্ভব? একটি দেশের অর্থনীতি যদি দুর্বল হয়েও টিকে থাকে, তাহলে কৌশলটি দীর্ঘায়িত হতে পারে। আর দীর্ঘায়িত যুদ্ধের অর্থ হলো উভয় পক্ষের জন্য বাড়তি ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্রকে তার নৌবাহিনী ও সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে হবে, বৈশ্বিক তেলের বাজারের প্রতিক্রিয়া সামলাতে হবে এবং মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। ইরানকে সামলাতে হবে তেলের আয় কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতা এবং সামরিক চাপ। ফলে এটি এমন এক যুদ্ধ, যেখানে বিজয়ী নির্ধারিত হবে শুধু কে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তার ভিত্তিতে নয়; বরং কে বেশি সময় ধরে চাপ সহ্য করতে পারল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অনিশ্চিত বিষয় হলো পরিণতি। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তেহরানকে শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় বাধ্য করতে পারে। আবার অন্যদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত চাপ ইরানকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে এবং সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এমনকি অর্থনৈতিক চাপ যদি কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন না আনে, তাহলে সামরিক বিকল্পের প্রশ্নও আবার সামনে আসতে পারে।
সুতরাং ট্রাম্পের ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’কে এক বাক্যে বোঝানো যায় এভাবে—ইরানকে একবারে আঘাত করে পরাজিত করার বদলে তার চারপাশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পথগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত করা। কিন্তু ইতিহাসের অ্যানাকোন্ডা পরিকল্পনা যেমন শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতের অংশ হয়েছিল, আধুনিক ইরানের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন ফিরে আসে—শ্বাসরোধের চাপ কি প্রতিপক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাবে, নাকি কোণঠাসা প্রতিপক্ষকে আরও ভয়ংকর করে তুলবে?
শেষ পর্যন্ত এই কৌশলের সাফল্য নির্ভর করবে একটি জটিল সমীকরণের ওপর—ইরানের অর্থনৈতিক সহনশীলতা, তেলের বাজার, হরমুজের নিরাপত্তা, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে দুই পক্ষের কূটনৈতিক হিসাবের ওপর। আপাতদৃষ্টিতে বন্দুকের গর্জন কমলেও যুদ্ধ থেমে নেই; যুদ্ধের একটি বড় অংশ এখন চলছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, তেলের বাজার, সমুদ্রপথ, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপের ভেতর দিয়ে। আর এই কারণেই ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংঘাতকে শুধু সামরিক যুদ্ধ হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবেও দেখতে হবে।
আপনার মতামত জানানঃ