Trial Run

আজ থেকে গণ টিকাদান শুরু

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সকে টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আজ গণটিকা কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, ভারতের উপহারের ২০ লাখসহ মোট ৭০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড টিকা এখন বাংলাদেশের হাতে৷ তা দিয়েই করোনা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে৷ প্রথম দিন  ২০-২৫ জনকে টিকা দেয়া হবে৷ পরের দিন ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে আরো ৫০০ জনকে এই টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে৷ শুরুতে যারা টিকা পাচ্ছেন, তাদের উপহারের টিকা থেকে দেয়া হচ্ছে৷

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এবং করোনা টিকা কর্মসূচির মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, ‘‘প্রথম যে ২০-২৫ জন টিকা পাচ্ছেন, তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার ফ্রন্ট লাইনার আছেন৷ তাদের তালিকা মন্ত্রণালয় থেকে করা হয়েছে৷ পরের দিন পাঁচটি হাসাপাতালে শুধু ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেয়া হবে৷ এরপর সাত দিন বিরতি দেয়া হবে৷ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে টিকা দেয়া শুরু হবে৷ সেটাই মূল কর্মসূচি৷

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুর্মিটোলা হাসপাতালে টিকার স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, কুর্মিটোলা ছাড়াও ৩-৪টি হাসপাতালে টিকাদান শুরু হবে। কুর্মিটোলায় উদ্বোধনের পরদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেও করোনার টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, টিকায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে এটা ধরে নিয়েই টিকা দেয়া হচ্ছে৷ জাতীয় ইম্যুনাইজেশন কর্মসূচির চিকিৎসক ও  স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ আছে৷ করোনা টিকার জন্য বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে৷ যেসব হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে, সেখানে মেডিক্যাল টিম থাকবে৷ ওই টিমে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন৷

প্রধানমন্ত্রী টিকা কর্মসূচির উদ্বোধনের পরপরই নিবন্ধনের জন্য অনলাইন ‘সুরক্ষা’ প্ল্যাটফর্ম খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা (অ্যাপে) নিবন্ধন করতে পারবেন না, তারা ভ্যাকসিন কেন্দ্রে গিয়েও নিবন্ধন করতে পারবেন। সেই ব্যবস্থা আমরা রেখেছি।’

এর আগে সোমবার (২৫ জানুয়ারী) আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যাদের ইন্টারনেট সুবিধা বা অ্যাপ ব্যবহারের মতো ডিভাইস নেই, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ফ্রি নিবন্ধন করার সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশব্যাপী ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য আমরা নানা ব্যবস্থা নিয়েছি। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারির কথা বলা হলেও আমরা ৭ তারিখেই সারাদেশে শুরু করার চিন্তা করছি। আশা করি, দেশব্যাপী ব্যাপকহারে আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।’

জানা যায়, ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে শুরু হতে যাওয়া টিকা কর্মসূচিতে ৪২ হাজার কর্মী কাজ করবেন৷ তার মধ্যে ১৪ হাজার টিকা দেবেন৷ বাকিরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন৷ স্বেচ্ছাসেবকরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির৷ আর যেসব হাসপাতালে এই টিকা দেয়া হবে তাদের জনবলও এই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকছে৷

এদিকে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশের কিছু মানুষের মধ্যে এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে৷ নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৪.৬ শতাংশ নাগরিক একটি কার্যকর, নিরাপদ, চিকিৎসক কর্তৃক সুপারিশকৃত টিকা নিতে চায় বিনামূল্যে৷ ৭.৮ শতাংশ নাগরিক একেবারেই টিকা নিতে ইচ্ছুক নন এবং ১৭.৬ শতাংশ নাগরিক টিকা নেবেন কিনা এ ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত৷ ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ৩ হাজার ৬৪৭ জন নাগরিকের ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে৷

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ডিডব্লিউকে বলেন, ‘‘টিকা নিতে চান না, দ্বিধাগ্রস্ত এরকম মানুষ সারা বিশ্বেই আছে৷ আবার টিকা দেয়া শুরু হলে এদের সংখ্যা কমে আসে৷ টিকার কার্যকারিতা আস্থা বাড়িয়ে দেয়৷’’

তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, টিকার কার্যকারিতা থাকবে ছয় মাস থেকে এক বছর, তাহলে টিকা নিয়ে লাভ কী? এই চিন্তা ঠিক নয়৷ কারণ, এই সময়ে টিকার কারণে করোনা সংক্রমণ কমে যাবে৷ ফলে করোনাও কমে যাবে৷ এক সময়ে করোনা গুরুত্বহীন সর্দি-কাশির মতো হয়ে যাবে৷

এবিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘জোর করে আমরা কাউকে টিকা দেব না। টিকা নেয়াটা যার যার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। আমরা আহ্বান জানাব টিকা নেয়ার জন্য। কারণ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা কার্যকর ব্যবস্থা। টিকার জন্য তো আমরা উদগ্রীব ছিলাম। কাজেই আমি আহ্বান করবো, আপনারা যারা আগ্রহী তারা টিকা নিতে আসবেন।’

কারা টিকা নিতে পারবে কারা নিতে পারবে না সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপসের মাধ্যমে কারা টিকা নিতে পারবে আর কারা টিকা নিতে পারবে না তা জানা যাবে। যাদের আমরা টিকা দিতে চাচ্ছি অর্থাৎ বয়স যদি আমরা হিসাব করি, ৫৫ বছর বয়সের ওপর যারা আছেন তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। যারা ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যম কর্মী তারাও নিবন্ধন করতে পারবেন। গর্ভবতী মা ও অনেক অসুস্থ ব্যক্তি সেখানে নিবন্ধন করতে পারবেন না।’

যারা টিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘টিকা আনা হয়েছে বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করতে, শরীরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। এজন্য গত ৯ মাস ধরে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কাজেই করোনাভাইরাসের টিকা সরকারের কাছে কোন রাজনীতি নয়। এটা মানুষের জীবন রক্ষা করতে আনা হয়েছে। যারা এই টিকা নিয়ে বিরূপ প্রচার চালাচ্ছেন, তারা ভালো কাজ করছেন না। তারা এদেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করলে এটা নিয়ে বিরূপ প্রচারণা চালাবেন না।’

বাংলাদেশে বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে মোট তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনছে৷ তার ৫০ লাখ ডোজ সোমবার এসেছে৷ এরপর প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ আসবে৷ আরো হাতে আছে উপহারের ২০ লাখ ডোজ৷ ৭ ফেব্রুয়ারি  প্রথম দফায় ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার কথা রয়েছে৷ চুক্তির আওতায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রথম চালানে আসা ৫০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র টিকা মানবদেহে প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’ হিসেবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস সরকারকে ‘অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র করোনার টিকা সরবরাহ করছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি পাওয়ায় বেক্সিমকো এখন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় জেলায় টিকা পৌঁছে দেবে।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১২৫৫ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ