Trial Run

ভারতীয় দূতাবাসের সামনে ফেলানীর ভাস্কর্য চান জাফরুল্লাহ

ছবি : ইন্টারনেট

১০ বছর আগে সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানী। ৭ জানুয়ারি ২০১১ সালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে নির্মম হত্যার শিকার হয় কিশোরী ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ফেলানীর মৃতদেহ। ফেলানীর পরিবার এখনো বিচার পায়নি৷ বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা৷ চোরাচালানও কমেনি৷

ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তায় ফেলানীর ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন,‘ফেলানী হত্যা দিবস আমাদের নিজেদের স্বার্থে দুটি কাজ করতে হবে। দুইটা ভাস্কর্য করতে হবে। একটা কুড়িগ্রামের সীমান্তে, যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর একটা বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তায়।’ ফেলানী হত্যার ১০ বছর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সীমান্ত আগ্রাসন বিরোধী কনভেনশনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেলানী হত্যার দশ বছরও মেয়ের হত্যাকারীর বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা-মা। বাবা নূর ইসলাম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার বিচার চেয়ে অনেক ঘুরেছি, মানবাধিকার সংস্থাসহ বহুজনের কাছে গেছি, বিচার পেলাম না। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির তারিখ থাকলে তা হয়নি। এখন আর কোন খোঁজখবর জানিনা।’ মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার দশ বছর হয়ে গেছে, আজো বিচার পাইনি। আমি দুই দেশের সরকারের কাছে সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে বারবার অঙ্গীকার করেছে৷ বলেছে, হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা হবে৷ কিন্তু থেমে নেই সীমান্ত হত্যা। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে সীমান্তে মোট ৪৮ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করে বিএসএফ৷ এরমধ্যে ৪২ জনকে গুলি করে এবং ছয় জনকে হত্যা করা হয় নির্যাতন চালিয়ে৷ অপহরণ করা হয় ২২ বাংলাদেশিকে৷ ওই সময়ে ২৬ জন বিএসএফ-এর গুলি ও নির্যাতনে গুরুতর আহত হন৷ অপহৃতদের মধ্যে মাত্র পাঁচজনকে ফেরত দেয়া হয়েছে৷ বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে জানা যায়নি৷

সীমান্তে হত্যার প্রসঙ্গে ভারতের মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) প্রধান কীরিটি রায় দাবী করেন যে, চোরাচালানে যখন ঘুষের টাকা বিএসএফ পায় না তখনই হত্যা করে৷ কেন্দ্রীয় সরকার যতই মুখে বলুক তারা আসলে কোনো ব্যবস্থা নেয় না৷

এসডাব্লিউ/এমএন/এমআর/ ১৬১৬

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares