Trial Run

খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাবে মিয়ানমার গণমৃত্যুর ঝুঁকিতে

জাতিসংঘের বিবৃতি

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাবে মিয়ানমারে গণহারে মৃত্যুর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সেনাবাহিনীর নৃশংস ও নির্বিচার হামলায় দেশটির পূর্ব কায়াহ রাজ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর পর এই উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার(৯ জুন) এক বিবৃতিতে মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম অ্যান্ড্রুজ  এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে এক প্রতিবেদেনে জানিয়েছে আল জাজিরা।

বিবৃতিতে অ্যান্ড্রুজ জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী দেশের ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কায়াহতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় ওই প্রদেশের স্বাধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী কারেন্নি পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (কেপিডিএফ)-এর। দু-পক্ষের সংঘর্ষ, গোলাগুলি, বিমান হামলা ও গোলা থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন কায়াহ প্রদেশের ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ।

অ্যান্ড্রুজ তার বিবৃতিতে বলেছেন, খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাবে এই বাস্তুচ্যুতরা এখন গণমৃত্যুর ঝুঁকিতে আছেন এবং শিগগির কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে মৃত্যুর মিছিল শুরু হবে সেখানে।

তিনি বলেন, ‘একদম স্পষ্ট করে বললে, যদি দ্রুত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে খাদ্য ও পানির অভাব, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আশ্রয়ের অভাবে কায়াহ প্রদেশের বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ব্যাপকমাত্রায় গণমৃত্যু দেখা দেবে। এটি এমন মাত্রায় দেখা দেবে, যা এখন এখানে বসে থেকে আমরা কল্পনাও করতে পারব না। এর চেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মিয়ানমারে আগে দেখা যায়নি।’

অ্যান্ড্রুজ আরও বলেন, ‘জীবন রক্ষার তাগিদেই একসময় তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ঢুকতে চাইবে, ইতোমধ্যে এমনটা শুরুও হয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন এই হার বাড়তে থাকবে তখন মিয়ানমার ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়েবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন উচিত মিয়ানমারের জান্তা সরকারের হাত থেকে দেশটির সাধারণ মানুষ ও তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’

মিয়ানমারে জাতিসংঘের কার্যালয় জানিয়েছে, সন্ত্রাসকবলিত কায়াহ রাজ্য থেকে একলাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তারা এখন বনে জঙ্গলে এবং প্রতিবেশী রাজ্য বিশেষ করে শান প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যারা পালিয়েছে এবং যারা পালায়নি, উভয় ধরনের মানুষের জন্য খাদ্য, জল, আশ্রয়, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। সেনাবাহিনীর বোমা হামলাসহ বিভিন্ন আতক্রমণে জনপদগুলো মনুষ্যবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, এ ধরনের সঙ্কট মানুষকে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে নিরাত্তার সন্ধানে বাধ্য করতে পারে। জাতিসংঘ সব পক্ষকে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানায়।

২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলে নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী। বন্দি করা হয় মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশজুড়ে প্রতিদিনই বিক্ষোভ চলছে। সেনা ও সশস্ত্র জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী কারেন্নি পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (কেপিডিএফ) মধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে লড়াই চলছে।  মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে সুরক্ষা বাহিনী কমপক্ষে ৮৫০ জনকে হত্যা করেছে এবং ৫ হাজার ৮০০ জনকে আটক করেছে।

কায়াহে বসবাসকারীরা জানিযেছেন, ২১ মে সামরিক বাহিনী এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরোধ গোষ্ঠী যারা নিজেদের কেপিডিএফ বলে অভিহিত করেছে, তাদের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর সেনাবাহিনী বেসামরিক অঞ্চলে নির্বিচারে বিমান হামলা ও গোলাগুলি শুরু করেছে।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৯২১ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ