Trial Run

জগন্নাথের ছাত্রী তিথি সরকারকে নিয়ে হচ্ছেটা কী?

ধর্মীয় কটূক্তির দায়ে বহিষ্কার, আত্মগোপনে থাকার অভিযোগে গ্রেফতার

সিআইডি কার্যালয়ে তিথি। ছবি: সিআইডি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বহিষ্কৃত ছাত্রী তিথি সরকারকে নিয়ে একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটেই চলেছে। পুলিশের এক ধরণের অভিযোগ, পরিবারের বক্তব্য অন্য ধরণের। আসল সত্য কোনটি, এ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে জল্পনা-কল্পনা। সম্প্রতি পুলিশ তিথিকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি অপহরণের শিকার, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মারাত্মক আহত অবস্থায় তিথি গ্রেফতার হয়েছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশের দাবি, এটা গুজব ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তিথি সরকার। ১১ নভেম্বর ২০২০, বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিথির এতদিন নিখোঁজের বিষয়ে সিআইডির দাবি, গ্রেফতার এড়াতেই তিথি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যান এবং বিষয়টি অপহরণ নাটক সাজিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি জামিল আহমদ এ কথা বলেন।

ডিআইজি জামিল আহমদ বলেন, গত ২৫ অক্টোবর মিরপুরের পল্লবীর বাসা থেকে বেরিয়ে তিথি প্রেমিক শিপলু মল্লিকের সঙ্গে বাগেরহাটে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর তারা ৯ নভেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে নরসিংদীর এক বাড়িতে আত্মগোপন করেন। তিথি সরকার আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল এভাবে আত্মগোপনে থেকে নিজেকে লুকিয়ে অপহরণের দায়ভার অন্যের ওপর চাপিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত ঘটনা থেকে রেহাই পাবেন বা ঘটনা অন্যদিকে ধাবিত হবে।

তবে তিথির পরিবারের দাবি ভিন্ন। তার বোন স্মৃতি সরকার বলেন, ২৩ অক্টোবর তিথি জানতে পারে তার ফেইসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। জানার পর সে থানায় জিডি করে। পরের দিন পুলিশ বাসায় এসে তাকে থানায় যেতে বলে। বাবার সঙ্গে ওর থানায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবা বাসায় না থাকায় সে একাই চলে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই তার সঙ্গে আমাদের সবশেষ কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ করতে পারিনি। এখানে দুটো ঘটনা ঘটতে পারে। সে ভয়েও লুকিয়ে থাকতে পারে, আবার তাকে আটকে রাখাও হতে পারে।

এর আগেও তিথিকে নিয়ে ভুয়া খবর বেরিয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। সিআইডি জানায়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করাকালীন গত ৩১ অক্টোবর সকালে সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম দেখতে পায় যে, ফেসবুকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে সিআইডির মালিবাগ অফিসের চারতলা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার’ শীর্ষক একটি সংবাদ পোস্ট ও শেয়ার করা হয়। এই সংবাদটি দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ভাইরাল করা হয়। যা একটি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত সংবাদ। এই ধরনের সংবাদ বা তথ্য শেয়ার-পোস্ট করার মাধ্যমে সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বা সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এ ঘটনায় তারা নিরঞ্জন বড়াল (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। নিরঞ্জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ২ নভেম্বর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিথির ফেসবুক পেজ থেকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেয়া হয়। তিথির বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ২৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছিল একদল শিক্ষার্থী। সেখানে ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, আহলে হাদিসের মতো ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কর্মীরাও। তাদের দাবির মুখে ২৭ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

৫ নভেম্বর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে তিথি সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন আবু মুসা রিফাত নামের এক ব্যক্তি। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিথি। তিথির বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তিথি সরকার গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কটূক্তি করেছেন।

উল্লেখ্য তিথি সরকার কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইতোমধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণে তিথিকে তার সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিথি সরকারের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা গেছে। নেটিজেনদের ধারণা, আগের অন্য অনেক ঘটনার মতোই হয়তো তিথিকেও ধর্মীয় কটূক্তির সাজানো অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।


Available for everyone, funded by readers. Every contribution, however big or small, makes a real difference for our future. Support to State Watch a little amount. Thank you.

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares