Trial Run

গণতন্ত্র দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে গ্রেপ্তার হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ’৮৯র গণতান্ত্রিক আন্দোলন তথা গণতন্ত্র দিবস উদযাপনের আহ্বান জানানোয় হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী চৌ হাং তুংকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। খবর বিবিসি, এএফপি

এদিনটি তিয়েনআনমেন স্কয়ার বিক্ষোভ, তিয়েনআনমেন স্কয়ার গণহত্যা বা ৪ জুন গণহত্যা নামেও পরিচিত।

চৌ হাং-তুং হংকং গণতান্ত্রিক জোটের সহকারী চেয়ারম্যান।  তাকে গ্রেপ্তার করা হয় অনুমোদন ছাড়া সমাবেশের প্রচারণা চালানোর দায়ে।

চৌ অব্যাহতভাবে হংকংয়ের বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন স্বপ্রণোদিতভাবে এ দিনটিকে স্মরণ করেন।

গ্রেপ্তারের একদিন আগে তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লেখেন— যে যেখানে থাকুন, আপনি আপনার ফোন, মোমবাতি বা বৈদ্যুতিক মোমবাতির আলো জ্বালান।

হংকং পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হংকংয়ের পাবলিক অর্ডার অর্ডিনেন্স সেকশন ১৭/এ ভঙ্গ করার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসকে কারণ দেখিয়ে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে হংকংয়ে। চীনের মধ্যে হংকং ও ম্যাকাওয়ে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বিক্ষোভে সরকারি দমনপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ বছর ম্যাকাওয়ে কর্তৃপক্ষ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি।

এ ছাড়া হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থীদের নির্মূলে বিতর্কিত সিকিউরিটি আইন পাসের পর এটিই প্রথম তিয়েনআনমেন বিক্ষোভের বর্ষপূর্তি।

এদিকে যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ ঠেকাতে হংকংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাত হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

’৮৯-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলন

১৯৮৯ তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বিক্ষোভ বেইজিংয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। চীনে সচরাচর এ বিক্ষোভটি ৪ঠা জুনের ঘটনা বা ’৮৯-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলন নামে পরিচিত। ১৯৮৯-এর বসন্তে এ বিক্ষোভকে শহরে বসবাসকারী অধিবাসীগণ ব্যাপকভাবে স্বাগতঃ জানায়।

চীনের রাজনৈতিক নেতৃত্বও ব্যাপকভাবে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। অনমনীয় নেতৃবর্গ রাজধানীতে সামরিক আইনজারী করে এ বিক্ষোভকে জোরপূর্বক দমন করেন।৩-৪ জুনে বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করতে নির্মমভাবে অগণিত হত্যাযজ্ঞ পরিচালিত হয়। এতে সেনাবাহিনী অ্যাসাল্ট রাইফেল ও ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে। এরই স্মরণে বিক্ষোভ আয়োজন করে থাকেন হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থীরা। তারা এই দিনটিকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে।

এ হত্যাযজ্ঞটি তিয়েনআনমেন স্কয়ার গণহত্যা বা ৪ জুন গণহত্যা নামেও পরিচিত।

কী কারণে বিক্ষোভ হয়েছিল?

১৯৮০’র দশকে চীন অনেক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। বেসরকারি কোম্পানি এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন দিতে শুরু করেছিল ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টি।

নেতা ডেং শিয়াওপিং আশা করছিলেন, এর ফলে দেশের অর্থনীতি আরো বাড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হবে।

তবে এই পদক্ষেপের ফলে দুর্নীতিও বাড়ছিল, সেই সঙ্গে রাজনৈতিক উদারতার আশাও তৈরি হয়েছিল। চীনের কম্যুনিস্ট পার্টির মধ্যেও বিভেদ তৈরি হয়েছিল। একটি পক্ষ চাইছিল দ্রুত পরিবর্তন, আরেকটি পক্ষ চাইছিল যেন বরাবরের মতোই রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

আশির দশকের মাঝামাঝিতে ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা একটা সময় বিদেশে কাটিয়েছেন এবং নতুন চিন্তাভাবনা ও উন্নত জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।

হংকং ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের উদ্বেগ

হংকংয়ের জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা সীমিত করে এমন উন্নয়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

আল জাজিরা জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান।

এক যৌথ ঘোষণায় দুই নেতা বেইজিংকে মানবাধিকার রক্ষা এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের জিনজিয়াংয়ে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

মহামারির উৎপত্তি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্ত নিয়ে উভয় নেতা সাংবাদিকদের বলেন, তারা আশা করেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

মরিসন বলেন, বিশ্ব রাজনীতির সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক করাই আসল উদ্দেশ্য। বিষয়টি উন্মোচিত হোক, যাতে করে আমরা বুঝতে পারি যে এটা কীভাবে হলো। তাহলে এ ধরনের মহামারি ঠেকাতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করতে পারব।

গত বছর সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পর চীন হংকংয়ের ওপর কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপ করে। চীনের মূল ভূখণ্ডের সাথে প্রত্যাহার করা প্রত্যর্পন বিলের কারণে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

তারপর থেকে চীনপন্থী হংকং প্রশাসন গণতন্ত্রপন্থী আইন প্রণেতা, সক্রিয় কর্মী এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

হংকং ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস এপ্রিলে জানায়, সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় ১০,২০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদের মধ্যে ২,৫০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ সমাবেশ, অগ্নিসংযোগ, দাঙ্গা, আক্রমণাত্মক অস্ত্র রাখা, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা এবং চীনের জাতীয় পতাকা অপবিত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৯৩৪ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ