মানুষ নিজের শরীরকে যতটা নিজের বলে মনে করে, তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্ময়কর। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে রয়েছে ডিএনএ, যেখানে সংরক্ষিত থাকে বংশগত বৈশিষ্ট্যের নির্দেশনা। চোখের রং, চুলের ধরন, শরীরের গঠন থেকে শুরু করে অসংখ্য জৈবিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে এই ডিএনএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যখন মানুষের জিনগত গঠন নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন, তখন এমন এক তথ্য সামনে আসে, যা মানব অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ধারণাকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। মানুষের ডিএনএর প্রায় ৮ শতাংশজুড়ে রয়েছে প্রাচীন ভাইরাসের রেখে যাওয়া জিনগত চিহ্ন। অর্থাৎ, আমাদের শরীরের বংশগত উপাদানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে এমন কিছু ভাইরাস থেকে, যেগুলো কোটি কোটি বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের সংক্রমিত করেছিল।
বিষয়টি আরও অবিশ্বাস্য হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, এই ভাইরাসগুলো শুধু আমাদের পূর্বপুরুষদের শরীরে প্রবেশ করেই চলে যায়নি। তাদের কিছু জিনগত উপাদান স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে বংশগতির ধারায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই উপাদান বহন করে চলেছে বিভিন্ন জীব। একসময় যা ছিল সংক্রমণের অংশ, বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাসে তার কিছু অংশ নতুন জৈবিক কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। মানুষের শরীরের ভেতরে ভাইরাসের এমন উপস্থিতি শুধু একটি অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়; এটি পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে।
এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক নাম অন্তর্জাত রেট্রোভাইরাস। সাধারণত ভাইরাস কোনো জীবের শরীরে প্রবেশ করে তার কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিজের বংশবৃদ্ধি ঘটায়। কিন্তু রেট্রোভাইরাসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এরা নিজেদের জিনগত উপাদানকে আক্রান্ত কোষের ডিএনএর সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। ফলে ভাইরাসের জিনগত উপাদান আক্রান্ত কোষের জিনগত কাঠামোর অংশ হয়ে যায়।
সাধারণ সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভাইরাসের এই উপস্থিতি স্থায়ী বংশগত পরিবর্তন তৈরি করে না। কিন্তু কোনো রেট্রোভাইরাস যদি এমন একটি কোষকে সংক্রমিত করে, যেটি থেকে পরবর্তী প্রজন্মের সৃষ্টি হয়, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণু বা ডিম্বাণু তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত কোষে এমন সংক্রমণ ঘটলে ভাইরাসের জিনগত উপাদান সন্তানদের শরীরেও পৌঁছাতে পারে। পরবর্তী প্রজন্ম থেকে তার পরবর্তী প্রজন্মে এভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে সেই জিনগত চিহ্ন।
বিজ্ঞানীরা এমন ভাইরাসের রেখে যাওয়া জিনগত অংশকে অন্তর্জাত রেট্রোভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মানুষের জিনোমে এ ধরনের অসংখ্য প্রাচীন ভাইরাসের অবশেষ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের মোট ডিএনএর প্রায় ৮ শতাংশ এই ধরনের প্রাচীন রেট্রোভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কোনো সাম্প্রতিক সংক্রমণের ফল নয়। বরং কোটি কোটি বছর ধরে চলা বিবর্তনীয় ইতিহাসের একটি জিনগত স্মৃতি।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। মানুষের শরীরে পাওয়া এই ভাইরাসের সব জিন এখনো সক্রিয় নয়। অধিকাংশই বহু আগেই পরিবর্তিত হয়েছে, ভেঙে গেছে কিংবা কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে এগুলোকে জীবিত ভাইরাস মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং এগুলো এমন একসময়কার জিনগত অবশেষ, যখন আমাদের বহু প্রাচীন পূর্বপুরুষের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। সেই সংক্রমণের কিছু চিহ্ন পরবর্তী সময়ে বংশগত উপাদানের অংশ হয়ে যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা হলো, বিবর্তনের ইতিহাসে ভাইরাসের রেখে যাওয়া কিছু জিনগত উপাদান নতুন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, একসময় যে জিনগুলো ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির কাজে সহায়তা করত, সেগুলোর কিছু অংশ পরবর্তী সময়ে প্রাণীর শরীরে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ভূমিকা পালন করতে শুরু করে।
এর সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ পাওয়া যায় মানুষের গর্ভধারণের প্রক্রিয়ায়।
মানুষের গর্ভাবস্থায় অমরার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণের কাছে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ভ্রূণের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু এই অমরার গঠনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন একটি প্রোটিন, যার বিবর্তনীয় ইতিহাসের সঙ্গে প্রাচীন ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
এই প্রোটিনের নাম সিনসাইটিন।
বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, সিনসাইটিন তৈরির জন্য দায়ী জিনের উৎপত্তি প্রাচীন রেট্রোভাইরাসের একটি জিনগত অংশ থেকে। একসময় এই জিন ভাইরাসকে তার সংক্রমণপ্রক্রিয়ায় সাহায্য করত। বিশেষ করে আক্রান্ত কোষের সঙ্গে অন্য কোষের সংযুক্তি ঘটাতে এই ধরনের ভাইরাসীয় প্রোটিন ভূমিকা রাখে। কিন্তু বিবর্তনের ধারায় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পূর্বপুরুষদের জিনোমে এমন একটি ভাইরাসীয় জিন স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রাণীর শরীর সেই জিনকে নতুন কাজে ব্যবহার করতে শুরু করে।
মানুষের ক্ষেত্রে সিনসাইটিন নামের প্রোটিনটি অমরার বিশেষ কোষগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির সংযুক্তি ঘটাতে সাহায্য করে। এর ফলে একাধিক কোষ মিলে একটি বৃহৎ কোষীয় স্তর তৈরি করতে পারে, যা অমরার স্বাভাবিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তর মায়ের শরীর ও ভ্রূণের মধ্যে পদার্থ আদান-প্রদানের ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ, মানুষের গর্ভধারণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রাচীন ভাইরাস থেকে আসা জিনের অবদান রয়েছে।
বিষয়টি আরও আকর্ষণীয়, কারণ শুধু মানুষ নয়, বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যেও এ ধরনের ভাইরাসীয় জিনের বিবর্তনীয় ব্যবহার দেখা যায়। বিভিন্ন স্তন্যপায়ী গোষ্ঠী নিজেদের বিবর্তনের পৃথক পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাইরাসীয় জিনকে অমরার কাজে ব্যবহার করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে সিনসাইটিনের উৎপত্তি একই ভাইরাসীয় সংক্রমণ থেকে হয়নি। বরং বিবর্তনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা একে বিবর্তনের পুনরাবৃত্তিমূলক জিনগত অভিযোজনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখেন।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে, মানুষের শরীরের ভেতরে ভাইরাসের জিনগত উপাদান কীভাবে স্থায়ী হয়ে গেল? আর কীভাবেই বা সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জিন পরবর্তী সময়ে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু করল?
এর উত্তর খুঁজতে হলে বিবর্তনের একটি মৌলিক ধারণা বুঝতে হবে। প্রকৃতিতে কোনো জীবের শরীরে নতুন জিনগত পরিবর্তন ঘটলে তার কিছু অংশ পরবর্তী প্রজন্মে যেতে পারে। কোনো পরিবর্তন যদি জীবের বেঁচে থাকা বা প্রজননে সহায়ক হয়, তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে ক্ষতিকর পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যায়। আবার কিছু পরিবর্তন কোনো বিশেষ সুবিধা বা অসুবিধা ছাড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকতে পারে।
প্রাচীন ভাইরাসের কিছু জিনগত অংশের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে সেগুলো ছিল ভাইরাসের নিজস্ব জীবনচক্রের অংশ। কিন্তু একবার কোনো পূর্বপুরুষের বংশগত উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সেগুলো বিবর্তনের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। সময়ের সঙ্গে কিছু অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কিছু অংশ পরিবর্তিত হয়ে যায়। আর কিছু অংশ এমন নতুন কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু করে, যা সংশ্লিষ্ট প্রাণীর শরীরের জন্য উপকারী হয়ে ওঠে।
এটি বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। প্রকৃতি সব সময় একেবারে নতুন উপাদান তৈরি করেই নতুন কাঠামো গড়ে তোলে না। অনেক সময় আগে থেকে থাকা কোনো উপাদানকে নতুন কাজে ব্যবহার করে। জীবনের ইতিহাসে পুরোনো জিনগত উপাদানের এমন পুনর্ব্যবহার একটি পরিচিত ঘটনা।
মানুষের ডিএনএতে প্রাচীন ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করার বিষয়টি আধুনিক জিনতত্ত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রাণীর জিনোম তুলনা করে দেখেন, কোন জিনগত অংশগুলো একাধিক প্রজাতির মধ্যে একই অবস্থানে রয়েছে। যদি মানুষের এবং অন্য কোনো প্রাণীর জিনোমে একই ধরনের প্রাচীন ভাইরাসের সংযুক্তি একই স্থানে পাওয়া যায়, তাহলে সেটি তাদের বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
ধরা যাক, মানুষের জিনোমের একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রাচীন ভাইরাসের একটি জিনগত অংশ রয়েছে। একই ধরনের অংশ যদি শিম্পাঞ্জির জিনোমের সংশ্লিষ্ট স্থানেও পাওয়া যায়, তাহলে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করতে পারেন, এই মিল কি তাদের সাধারণ পূর্বপুরুষের কাছ থেকে পাওয়া? যদি তাই হয়, তাহলে ওই ভাইরাসীয় সংক্রমণটি মানুষ ও শিম্পাঞ্জির বিবর্তনীয় বংশধারা আলাদা হওয়ার আগেই ঘটেছিল বলে ধারণা করা যায়।
এভাবে মানুষের ডিএনএ শুধু আমাদের বর্তমান শারীরিক বৈশিষ্ট্যের নির্দেশনা বহন করে না; এটি অতীতের সংক্রমণ, জিনগত পরিবর্তন এবং বিবর্তনের ইতিহাসও সংরক্ষণ করে।
এই আবিষ্কার মানুষের উৎপত্তি নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা মনে করেন, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে কোনো বিবর্তনীয় সম্পর্ক নেই, তাদের জন্য এই জিনগত প্রমাণগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। কারণ মানুষের শরীরে পাওয়া প্রাচীন ভাইরাসের চিহ্ন শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য প্রাণীর জিনোমের সঙ্গে তুলনা করে বিজ্ঞানীরা জীবের বংশগত সম্পর্ক এবং বিবর্তনীয় ইতিহাসের বিভিন্ন সূত্র খুঁজে পান।
তবে এই গবেষণাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের চূড়ান্ত খণ্ডন হিসেবে উপস্থাপন করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে না। বিজ্ঞান এখানে যে বিষয়টি দেখায়, তা হলো মানুষের জিনগত গঠন একটি দীর্ঘ বিবর্তনীয় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং সেই ইতিহাসে প্রাচীন ভাইরাসেরও ভূমিকা ছিল। এই তথ্যের দার্শনিক বা ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু জিনগত প্রমাণের গুরুত্ব তাতে কমে যায় না।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের শরীরের ভেতরে আজও কোটি বছরের পুরোনো সেই সংক্রমণের চিহ্ন বহন করে চলেছে প্রতিটি প্রজন্ম। যে ভাইরাস একসময় আমাদের পূর্বপুরুষদের কোষে প্রবেশ করেছিল, তার কিছু জিনগত অংশ আজ মানুষের বংশগত উপাদানের অংশ। এমনকি সেই ভাইরাসের রেখে যাওয়া একটি জিনগত উত্তরাধিকার মানুষের গর্ভে নতুন প্রাণের বিকাশে সহায়তা করছে।
একসময় যা ছিল সংক্রমণের চিহ্ন, বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাসে তার কিছু অংশ হয়ে উঠেছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
তাহলে আমরা আসলে কারা? আমাদের শরীর কি শুধু আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি, নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে আরও বহু প্রাচীন জীবের ইতিহাস? মানুষের ডিএনএ নিয়ে গবেষণা এই প্রশ্নের সামনে নতুন এক বাস্তবতা তুলে ধরছে। আমরা নিজেদের শরীরের ভেতরে বহন করছি এমন এক জিনগত ইতিহাস, যার কিছু অধ্যায় লেখা হয়েছিল মানুষের আবির্ভাবের বহু আগে।
হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর সত্যটি হলো, মানুষের শরীরের ইতিহাস শুধু মানুষের ইতিহাস নয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন জীব, ভাইরাস, সংক্রমণ এবং কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের ছাপ। যে ভাইরাস একসময় আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য ছিল সংক্রমণের কারণ, তারই রেখে যাওয়া জিনগত উপাদানের একটি অংশ আজ আমাদের অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
আপনার মতামত জানানঃ