সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের পরিমাণ এতটাই বড় যে, তা শুধু একজন সাবেক সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি নিয়োগ এবং অর্থপাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচারের অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জমা পড়েছে। সংস্থাটি অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের আওতায় নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, সারা দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অর্থ লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশে অর্থ পাচার করে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। নতুন করে পাওয়া অভিযোগটি দুদকের ঢাকা কার্যালয়ের নথির সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—অভিযোগের পরিমাণ কতটা সত্য, এর পেছনে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়ম ঘটেছিল কি না। কারণ, দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু অর্থের পরিমাণ বড় হওয়াই যথেষ্ট নয়; অভিযোগের প্রতিটি অংশের পক্ষে নথি, ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের হিসাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি। দুদকের অনুসন্ধান সেই যাচাইয়েরই একটি প্রাথমিক ধাপ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। সরকারি প্রশাসনে নিয়োগ ও পদায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবার কার্যকারিতা জড়িত। ফলে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির প্রশ্ন নয়; বরং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নও তৈরি করে।
তবে অভিযোগে উল্লেখ করা অঙ্কগুলোকে বাস্তব লেনদেন হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো নিয়োগ বা পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছিল কি না, হলে কার মাধ্যমে হয়েছিল, অর্থের উৎস কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযোগের নথিতে কোনো অঙ্ক উল্লেখ থাকলেই তা অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ হয়ে যায় না।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, কাজের মান কমে যেতে পারে এবং জনগণের অর্থের অপচয় হতে পারে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পগুলো সরাসরি নাগরিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। রাস্তা, সেতু, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার না হলে তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, কোনো প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে কি না এবং বাড়লে তার যৌক্তিকতা কী—তা যাচাই করা দরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নকশা পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর দাম, সময় বৃদ্ধি বা অন্যান্য কারণে ব্যয় বাড়তে পারে। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে যদি অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল, নিম্নমানের কাজ বা ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি গুরুতর দুর্নীতির বিষয় হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোনো কর্মকর্তার নিজ এলাকা বা নির্বাচনী এলাকার জন্য বরাদ্দ থাকলেই তা দুর্নীতির প্রমাণ নয়। বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অর্থ ব্যয়ের হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে।
নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি নিয়েও অভিযোগের বিস্তৃত তালিকা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে এসব ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি নিয়োগে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তে অর্থ লেনদেন প্রাধান্য পেলে তা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একজন অযোগ্য ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বলতা এবং জনসেবায় ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ে। তবে উল্লিখিত নিয়োগগুলোতে সত্যিই ঘুষ লেনদেন হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে নিয়োগের নথি, সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা, ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা ও দুবাইয়ের একটি ব্যবসায়ী গ্রুপে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের দাবিও করা হয়েছে।
অর্থপাচারের অভিযোগ সাধারণত বহুমাত্রিক। একটি দেশের অর্থ অন্য দেশে স্থানান্তর করা নিজে থেকেই সব ক্ষেত্রে অপরাধ নয়; বৈধ ব্যবসা, বিনিয়োগ বা অনুমোদিত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে যেতে পারে। কিন্তু অবৈধ আয়ের অর্থ গোপন করা, মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্থানান্তর, কর ফাঁকি বা দুর্নীতির অর্থ বিদেশে পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি অর্থপাচারের আওতায় আসতে পারে। তাই অভিযোগে উল্লেখ করা অর্থের উৎস, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির মালিকানা, কোম্পানির শেয়ার, লেনদেনের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
১১ হাজার কোটি টাকার অভিযোগের ক্ষেত্রে অনুসন্ধানকারীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থের গতিপথ শনাক্ত করা। অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কোন হিসাব থেকে কোন দেশে গেছে, কার নামে সম্পদ কেনা হয়েছে এবং এসব সম্পদের সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পর্ক কী—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। বিদেশে সম্পদ থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, ব্যাংক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অভিযোগের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বরং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং অর্থের আন্তর্জাতিক প্রবাহ—সবকিছুকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। যদি অভিযোগের কোনো অংশ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। আবার অভিযোগের কোনো অংশ প্রমাণিত না হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে তথ্যের ভিত্তিতে জনমত গড়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে অভিযোগ ব্যবহারের সুযোগ কমে।
দুদকের অনুসন্ধান তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনুসন্ধান মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, মামলা এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, নথিপত্র, আর্থিক হিসাব এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও থাকা জরুরি।
বাংলাদেশে দুর্নীতি ও অর্থপাচার নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। সরকারি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, নিয়োগে অনিয়ম কিংবা বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠলে মানুষের প্রথম প্রশ্ন থাকে—রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা কোথায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা হবে কি না। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে তদন্তকে হতে হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর। রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার অবস্থান যেন অনুসন্ধানের পথে বাধা না হয়, আবার কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া অপরাধীও বানানো না হয়।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। অভিযোগের পরিমাণ বড়, বিষয়গুলো গুরুতর এবং এর সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণের অর্থ জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নির্ভর করবে প্রমাণের ওপর। দুদকের অনুসন্ধান সেই প্রমাণ যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
এখন দেখার বিষয়, অনুসন্ধানে কী তথ্য উঠে আসে, অভিযোগের আর্থিক অঙ্কগুলোর পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কেউ অবৈধ সুবিধা নিয়ে থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইভাবে অভিযোগের কোনো অংশ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো দরকার। কারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু শাস্তি দেওয়ার বিষয় নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা, আইনের শাসন এবং জনগণের অর্থের সুরক্ষার বিষয়।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান সেই বৃহত্তর প্রশ্নেরই একটি নতুন পরীক্ষা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, অভিযোগের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত আসে—তার ওপর নির্ভর করবে এই ঘটনার পরবর্তী গতিপথ। আপাতত ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ নানা অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। চূড়ান্ত সত্য জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে তদন্তের ফলাফল এবং প্রয়োজন হলে আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত।
আপনার মতামত জানানঃ