বিশ্বরাজনীতির ক্ষমতার মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। একসময় যে দেশগুলো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রান্তে অবস্থান করত, অর্থনৈতিক শক্তি অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে তারাই এখন বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে আসছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে ব্রিকস। এটি এখন আর কেবল পাঁচটি উদীয়মান অর্থনীতির সহযোগিতা কাঠামো নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, রাজনীতি ও কূটনীতিতে নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নামের আদ্যক্ষর থেকে ব্রিকস নামটির উৎপত্তি। পরবর্তী সময়ে এর সদস্যসংখ্যা বেড়েছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া—এই ১১টি দেশ এখন এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশকে অংশীদার দেশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
ফলে ব্রিকসের পরিসর আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত। এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে এটি বৃহত্তর দক্ষিণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশভূমিতে পরিণত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতা, অর্থ ও প্রতিনিধিত্বের যে অসম বণ্টন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, ব্রিকসের উত্থান সেই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল, তখনকার বিশ্ব আর আজকের বিশ্ব এক নয়। সেই সময় চীন, ভারত কিংবা অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির প্রভাব বর্তমানের মতো ছিল না। কিন্তু কয়েক দশকে বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র বদলে গেছে। চীন ও ভারত বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিজ নিজ অঞ্চল ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ব অর্থনীতির বাস্তব ক্ষমতাবিন্যাস যদি বদলে যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে কেন? ব্রিকস মূলত এই প্রশ্নের জায়গাতেই প্রবেশ করেছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও বহুকেন্দ্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল করা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও উন্নয়ন কাঠামোতে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো, অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নে অর্থায়ন বৃদ্ধি, সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সংকটে সহযোগিতা জোরদার—এসবই ব্রিকসের বৃহত্তর উদ্দেশ্যের অংশ। নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর আলোচনাও এর অর্থনৈতিক গুরুত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
তবে ব্রিকসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনগুলোর একটি হলো নতুন উন্নয়ন ব্যাংক। অবকাঠামো, জ্বালানি, পানি, পরিবহন, নগরায়ণ, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্য নিয়ে এই ব্যাংক গড়ে উঠেছে। প্রচলিত আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের অতিরিক্ত একটি পথ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের জন্য এখানেই ব্রিকসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। দেশের উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, শিল্প ও নগর ব্যবস্থাপনায় বিপুল অর্থায়ন প্রয়োজন হবে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য বিকল্প অর্থায়নব্যবস্থা যত বাড়বে, বাংলাদেশের মতো দেশের সামনে তত বেশি সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রথম আলোর দেওয়া কলামের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২১ সাল থেকে নতুন উন্নয়ন ব্যাংকের সদস্য। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের জন্য ব্যাংকটির অনুমোদিত অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ব্রিকসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক আগ্রহ বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর একটি কার্যকর আর্থিক ভিত্তিও তৈরি হয়েছে।
তবে এই অর্থায়নকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বড় সুযোগে পরিণত করতে হলে প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কোনো আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সদস্য হলেই অর্থায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। ভালো প্রকল্প, স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং দক্ষ আলোচনার মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে হয়।
ব্রিকস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির পরিসরও বাড়াতে পারে। চীন ও ভারত বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। মধ্যপ্রাচ্যের ব্রিকস সদস্যরাষ্ট্রগুলো জ্বালানি, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণেরও সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলাবে। বর্তমানের কিছু বাণিজ্য সুবিধা ভবিষ্যতে কমে যেতে পারে। বৈদেশিক অর্থায়ন, নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে। এই পরিবর্তনপর্বে ব্রিকস বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবলম্বন হতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’। ব্রিকসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এই নীতিকে আরও কার্যকর বহুমুখিতা দিতে পারে। একটি ছোট বা মাঝারি শক্তির রাষ্ট্রের সাফল্য সব সময় কোনো একটি শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে নিজেকে আবদ্ধ করার মধ্যে থাকে না। বরং একাধিক শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের দর-কষাকষির পরিসর বাড়ানোর মধ্যেই তার বড় সুযোগ।
কিন্তু সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে জটিলতা। বাংলাদেশের প্রথম চ্যালেঞ্জ ভারসাম্য রক্ষা। দেশের রপ্তানি, উন্নয়ন সহযোগিতা ও আর্থিক ব্যবস্থায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার গুরুত্ব অনেক। অন্যদিকে চীন, ভারত, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য এশীয় রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
ফলে ব্রিকসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে যদি কোনো পক্ষ বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখে, তাহলে অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশকে তাই স্পষ্ট করতে হবে, ব্রিকসের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার পরিসর বাড়ানো।
ব্রিকসের অভ্যন্তরেও স্বার্থের বৈচিত্র্য রয়েছে। চীন ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের গভীর বিরোধ রয়েছে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-অগ্রাধিকারও এক নয়। এসব ভিন্নতা ব্রিকসকে কতটা সুসংহত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবে, তা এখনো নির্ধারিত নয়।
এই কারণে ব্রিকসকে পশ্চিমবিরোধী জোট হিসেবে দেখা অতিসরলীকরণ হবে। ভারত যেমন ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও তার গভীর কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় রাখে।
অতএব, ব্রিকসের প্রকৃত তাৎপর্য সম্ভবত পশ্চিমকে প্রতিস্থাপন করার মধ্যে নয়; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিকল্প দর-কষাকষির ক্ষেত্র সৃষ্টি করার মধ্যে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থ তুলে ধরার জন্য আরও একটি প্ল্যাটফর্ম পেতে পারে। এই সুযোগ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সামনে তাই প্রশ্নটি কেবল ‘ব্রিকসে যোগ দেওয়া উচিত কি না’—এত সরল নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ব্রিকসকে বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থে কীভাবে ব্যবহার করবে। সদস্যপদ কোনো অলংকার নয়, এটি একটি উপকরণ। এর মাধ্যমে অবকাঠামো অর্থায়ন, নতুন বাজার, জ্বালানিনিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব হলে এর মূল্য অনেক বেশি।
এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের প্রয়োজন সুস্পষ্ট জাতীয় কৌশল। কোন খাতে অর্থায়ন দরকার, কোন দেশে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব, কোথায় বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যাবে এবং কোন সহযোগিতা দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে কাজে লাগবে—এসব বিষয়ে পরিকল্পনা থাকতে হবে। শুধু কূটনৈতিক সফর বা সদস্যপদ অর্জন দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য তখনই হবে, যখন ঢাকা বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেও ওয়াশিংটনকে হারাবে না, দিল্লির সঙ্গে সহযোগিতা রেখেও নিজস্ব কৌশলগত স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখবে, মস্কোর সঙ্গে কাজ করেও ব্রাসেলসের বাজারকে বিপন্ন করবে না এবং ব্রিকসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েও অন্য অংশীদারদের কাছে নিজেকে কোনো ভূরাজনৈতিক শিবিরের অনুসারী হিসেবে তুলে ধরবে না।
এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ অর্থনৈতিক কূটনীতি, বাণিজ্যিক পরিকল্পনা এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা। বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একাধিক শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোই হতে পারে অধিক কার্যকর পথ।
আজকের বিশ্ব আর একক কেন্দ্রকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে না। ক্ষমতা ছড়িয়ে পড়ছে, নতুন মেরু তৈরি হচ্ছে, পুরোনো জোটের পাশাপাশি নতুন সমীকরণ গড়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত বিশ্বে বাংলাদেশের প্রয়োজন কোনো একটি শিবির নির্বাচন করা নয়; প্রয়োজন নিজের অবস্থানের মূল্য বৃদ্ধি করা।
ব্রিকস সেই সুযোগগুলোর একটি। তবে সুযোগকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে কূটনৈতিক বিচক্ষণতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সদস্যপদ যদি কেবল নতুন পরিচয় অর্জনের মাধ্যম হয়, তাহলে তার মূল্য সীমিত থাকবে। কিন্তু যদি এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়ন অর্থায়ন, নতুন বাজার, জ্বালানিনিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং বৃহত্তর দক্ষিণের রাজনৈতিক মঞ্চে অধিক কণ্ঠস্বর অর্জন করতে পারে, তবে এর কৌশলগত মূল্য অনেক বেশি।
ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি সব সময় তার সামরিক সামর্থ্য নয়। অনেক সময় তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—কোনো শক্তির স্যাটেলাইট রাষ্ট্র না হয়ে সবার কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠার কূটনৈতিক সক্ষমতা। বাংলাদেশকে সেই সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ব্রিকস বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পথ হতে পারে। কিন্তু সেই পথের সাফল্য নির্ভর করবে ঢাকা কতটা দক্ষতার সঙ্গে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে তার ওপর। জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে বহুমুখী সম্পর্ক, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে ব্রিকস বাংলাদেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ব্রিকস বাংলাদেশের জন্য কোনো গন্তব্য নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ অর্জনের একটি উপকরণ। পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক অবস্থান তৈরি করা, যেখানে কোনো একটি শক্তিকেন্দ্রের অনুগ্রহের ওপর নির্ভর না করে বহু পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা যায়।
আপনার মতামত জানানঃ