দেশজুড়ে সন্ত্রাসীরা কেন এতটা বেপরোয়া—এই প্রশ্নটি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, রাজনীতির চরিত্র এবং রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড, দখলদারি কিংবা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধীদের দাপট—বিভিন্ন ঘটনায় এসব অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও বাজারের মধ্যে অস্ত্র হাতে হামলা, কোথাও ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি, আবার কোথাও হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তদের দীর্ঘ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার অভিযোগ উঠছে। ফলে মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ভয়, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা।
সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের আলোচনায় অপরাধকে সমাজের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত একটি বাস্তবতা হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ সমাজ যত দিন থাকবে, অপরাধও কোনো না কোনোভাবে থাকবে। কিন্তু অপরাধ থাকা আর অপরাধীদের অবাধে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ থাকা এক বিষয় নয়। একটি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ সংঘটনের সুযোগ কমিয়ে আনা।
অপরাধবিজ্ঞানী সিজার বেকারিয়ার আলোচনায় ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে আসে। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন অপরাধ করে যে লাভ পাওয়া যাবে, তার তুলনায় শাস্তি বা ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তাহলে অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। বিপরীতে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর নিশ্চিত ও কার্যকর শাস্তির সম্ভাবনা বেশি হলে অপরাধের প্রণোদনা কমতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আইন প্রয়োগ ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অপরাধ ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় আশ্রয় কিংবা স্থানীয় প্রভাবের বিষয় সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক আলোচনায়ও অভিযোগ উঠেছে, অপরাধীরা কখনো কখনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পায়। কেউ কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়, নির্বাচনে অংশ নেয় কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও হয়ে ওঠে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়—আইনগতভাবে এই পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দলীয় পদ বণ্টন, স্থানীয় প্রভাব বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থের ব্যবহার যদি স্বচ্ছ ও জবাবদিহির বাইরে চলে যায়, তাহলে অপরাধী চক্রের রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নিয়মিত নির্বাচন এবং গঠনতন্ত্রের যথাযথ প্রয়োগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অপরাধীরা যখন কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের নিরাপদ মনে করতে শুরু করে, তখন সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ একজন সাধারণ নাগরিক তখন শুধু অপরাধীর ভয়েই নয়, তার সম্ভাব্য প্রভাব ও যোগাযোগের ভয়েও কথা বলতে অনিচ্ছুক হতে পারেন। অপরাধ প্রত্যক্ষ করেও অনেকে নীরব থাকেন। অভিযোগ করার পর প্রতিশোধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা এই নীরবতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এখানেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রশ্নটি সামনে আসে। কোনো অপরাধের তদন্ত দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে, আসামি শনাক্ত না হলে, মামলা হলেও কার্যকর অগ্রগতি না হলে কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার জামিনে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সমাজে একটি বার্তা যেতে পারে যে অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব। অপরাধবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে এই ধারণা অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারাগারে থাকা কোনো চিহ্নিত অপরাধীর প্রভাবও সব সময় কারাগারের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—এমন অভিযোগ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় শোনা যায়। কোনো অপরাধী চক্রের প্রধান ব্যক্তি আটক থাকলেও তার সহযোগীরা বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। ফলে শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; অপরাধী নেটওয়ার্কের অর্থের উৎস, যোগাযোগব্যবস্থা, সহযোগী এবং অস্ত্রের সরবরাহব্যবস্থাও চিহ্নিত করা জরুরি।
অস্ত্রের সহজলভ্যতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। বিভিন্ন সময়ে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের হাতে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অস্ত্র তৈরির উপকরণ সহজলভ্য হলে অপরাধ সংঘটনের সক্ষমতাও বাড়ে। চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের মতো ঘটনাও তখন প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। সাধারণ একটি বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে গুলির ঘটনায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ তাই শুধু অস্ত্র উদ্ধার বা কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় নয়। অস্ত্র কোথা থেকে আসছে, কীভাবে পরিবহন হচ্ছে, কারা অর্থ দিচ্ছে, কারা সরবরাহ করছে এবং কোথায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে—পুরো সরবরাহশৃঙ্খল চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অস্ত্রের অপব্যবহারের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
অপরাধের পেছনে শুধু রাজনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলাজনিত কারণ খুঁজলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। ব্যক্তির সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক অবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, সামাজিক সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার প্রত্যাশাও অপরাধপ্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, হতাশা কিংবা সমাজের প্রচলিত নিয়মের প্রতি অনাস্থা একজন ব্যক্তিকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে—এমন ব্যাখ্যাও অপরাধবিজ্ঞানে রয়েছে।
মানুষ যখন তার প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখতে পায়, তখন হতাশা তৈরি হতে পারে। কাঙ্ক্ষিত সামাজিক মর্যাদা বা অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনের বৈধ পথ যদি তার কাছে বন্ধ মনে হয়, তখন কেউ কেউ অবৈধ পথ বেছে নিতে পারে। অবশ্যই এটি অপরাধের একমাত্র কারণ নয় এবং দারিদ্র্য বা বেকারত্ব নিজে কাউকে অপরাধী বানায় না। কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনা অপরাধপ্রবণতার কিছু ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এ বিষয়টি নীতিনির্ধারণে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুলিশের কার্যকারিতা শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না। একটি অভিযোগ গ্রহণ করা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্ত করা, প্রমাণ সংগ্রহ করা, সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং আদালতে মামলাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার পুরো প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পর্যায়ে দুর্বলতা তৈরি হলে অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে অপরাধীদের যোগসাজশের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে আসে। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় নয়; এটি পুরো আইন প্রয়োগব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা দরকার। কোনো অপরাধী যদি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার সুযোগ পায়, তাহলে আইনের শাসন দুর্বল হয়। আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যাচাইহীনভাবে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তাই অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ, তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভূমিকাও রয়েছে। তবে মানুষকে অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে বলার আগে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে অভিযোগকারী নিরাপদ থাকবেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী যদি মনে করেন তার তথ্য দেওয়ার কারণে তিনি নিজেই হামলার শিকার হতে পারেন, তাহলে তিনি পুলিশের কাছে যেতে চাইবেন না। সাক্ষী সুরক্ষা, গোপনীয় অভিযোগ ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
অপরাধ দমনে সামাজিক প্রতিরোধও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র বা দখলদারি চললেও যদি স্থানীয় মানুষ সেটিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেয়, তাহলে অপরাধীরা সামাজিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তবে এই প্রতিরোধ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা গণপিটুনির রূপ নিতে পারে না। অপরাধ দমনের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক দলগুলোরও এখানে দায়িত্ব রয়েছে। কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলে দলীয় পদ বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তদন্তকে প্রভাবিত করার সুযোগ যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে দলীয় শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করে, তাহলে অপরাধী চক্রের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শুধু কঠোর শাস্তির প্রশ্ন নয়; এটি আইনের শাসন, রাজনৈতিক জবাবদিহি, কার্যকর পুলিশি তদন্ত, দ্রুত বিচার, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, অর্থের উৎস শনাক্তকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার সম্মিলিত বিষয়। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি হয় এমন কারণগুলোও চিহ্নিত করা দরকার।
দেশের মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে আবার ঘরে ফিরতে চায়। বাজারে, রাস্তায়, কর্মস্থলে কিংবা নিজ এলাকায় অস্ত্রধারীদের ভয় ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাপন করা একজন নাগরিকের মৌলিক প্রত্যাশা। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের নয়; পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজ—সব পক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।
অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ তখনই সম্ভব, যখন অপরাধী বুঝবে যে তার রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ, অস্ত্র কিংবা প্রভাব কোনো কিছুই তাকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখবে না। একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানি বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে অপরাধের সুযোগ কমবে, অপরাধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হবে। সেই ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভয় কাটিয়ে নিরাপদ সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ