লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি দখলের দাবি করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে এসেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একসময় উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা এই সংগঠন এখন দেশটির রাজধানী সানা, গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা এবং জনবহুল উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের হাতে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার কারণে হুতিরা এখন আঞ্চলিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের কোনো সাধারণ সামরিক সাফল্য নয়। এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলাচল করে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই জলপথে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়লে তার প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ববাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় পড়তে পারে।
কিন্তু হুতিদের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায়। হুতিরা জায়দি সম্প্রদায়ভুক্ত। জায়দিরা শিয়া ইসলামের একটি শাখা। ইয়েমেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সুন্নি হলেও উত্তরাঞ্চলে জায়দিদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের মানুষ রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছিলেন। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে ধর্মীয় পরিচয়, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
এই পরিবেশেই জায়দি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে হুতিদের উত্থান শুরু হয়। সংগঠনটি ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। এর অর্থ ‘আল্লাহর সমর্থক’। সংগঠনের নামকরণ করা হয় প্রয়াত ধর্মীয় নেতা বদরেদ্দিন আল-হুতির নামানুসারে। তাঁর ছেলে হুসেইন বদরেদ্দিন আল-হুতিও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ২০০৪ সালে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাতে হুসেইন নিহত হলে আন্দোলন আরও সংঘাতমুখী হয়ে ওঠে।
হুসেইনের মৃত্যুর পর নেতৃত্বে আসেন তাঁর ভাই আবদুলমালিক আল-হুতি। জ্বালাময়ী বক্তৃতা, ধর্মীয় পরিচয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করেন। উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হুতিদের ঘাঁটি গড়ে ওঠে। এসব এলাকায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক দুর্বল ছিল। ফলে হুতিরা স্থানীয় অসন্তোষ, ধর্মীয় পরিচয় ও সামরিক সংগঠনকে একত্র করে ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হয়।
২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হুতিরা ইয়েমেনের তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ছয়টি যুদ্ধে জড়ায়। এই সংঘাতগুলোতে তাদের সামরিক অভিজ্ঞতা বাড়ে। ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের লড়াই হয়। সে সময় হুতি যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। এই সংঘাত হুতিদের শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী সংগঠন হিসেবে নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
হুতিদের বড় রাজনৈতিক উত্থান ঘটে আরব বসন্তের সময়। ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে ইয়েমেনেও প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সালেহ শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। হুতিরা সেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আন্দোলনে অংশ নেয়। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পরও ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকট কাটেনি।
পরবর্তী সময়ে হুতিরা আলী আবদুল্লাহ সালেহর সঙ্গে জোট গড়ে। একসময় যাঁর সরকারের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ করেছিল, সেই সাবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাদের এই জোট ছিল ইয়েমেনের জটিল রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে জোট বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিরোধ আবার তীব্র হলে ২০১৭ সালে হুতিরা সালেহকে হত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে সংগঠনটি ইয়েমেনের রাজনীতিতে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে।
২০১৪ সালে হুতিদের উত্থান নতুন পর্যায়ে পৌঁছায়। সে বছর তারা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে হুতিরা শুধু একটি আঞ্চলিক বিদ্রোহী সংগঠন থাকেনি; তারা রাষ্ট্রক্ষমতার অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তারা উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হয়। সৌদি আরবের আশঙ্কা ছিল, ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ইরান-সমর্থিত একটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করবে। এই সামরিক অভিযান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত করে। একদিকে হুতিরা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও তাদের সমর্থক বিভিন্ন শক্তি—এই সংঘাতের ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।
যুদ্ধের বছরগুলোতে ইয়েমেনের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয়েছে। সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। বরং দীর্ঘ যুদ্ধ তাদের সংগঠনকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলেছে।
২০২২ সালে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের একটি যুদ্ধবিরতি হয়। এতে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ, রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়। দেশটির অন্য অংশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও বিভিন্ন স্থানীয় শক্তির প্রভাব বজায় থাকে। ফলে ইয়েমেন কার্যত বিভক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় আটকে থাকে।
হুতিদের শক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো তাদের পাহাড়ি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। উত্তর ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘদিন লড়াই করার কারণে তারা ভূখণ্ডের সুবিধা কাজে লাগাতে সক্ষম। সংগঠনটির হাজার হাজার যোদ্ধা রয়েছে। তাদের সামরিক কাঠামো শুধু স্থানীয় অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়; ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তিও তাদের হাতে এসেছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে তারা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।
হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তেহরান অতীতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে ইরানের সামরিক প্রযুক্তি ও সহায়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে আলোচনা হয়েছে।
হুতিরা ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ হিসেবে পরিচিত। এই জোটে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেও প্রত্যেকের নিজস্ব নেতৃত্ব ও স্বার্থ রয়েছে। হুতিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হিজবুল্লাহর মতো চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে মানে না। তবু বছরের পর বছর ধরে তেহরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
হুতিদের রাজনৈতিক পরিচয় শুধু জায়দি সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই। তারা নিজেদেরকে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের বিষয়টি তাদের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর তারা ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে। এসব হামলার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হলেও রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ছিল বড়।
২০২৪ সালে হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, এসব জাহাজের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক রয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা এই অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাহাজকে লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে পরিবহন খরচ, সময় এবং বীমা ব্যয় বেড়ে যায়।
বাব আল-মানদেব প্রণালি এই পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। একদিকে ইয়েমেন, অন্যদিকে আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়া—এই ভূগোলের কারণে প্রণালিটি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের একটি কৌশলগত কেন্দ্র। সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ বা হামলার সক্ষমতা যেকোনো পক্ষকে বড় কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর হুতিরা বাব আল-মানদেব দখলের লক্ষ্যে বড় ধরনের হামলা শুরু করে। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো লোহিত সাগর উপকূল এবং প্রণালির ভেতর ও আশপাশের কৌশলগত দ্বীপগুলো দখলের দাবি ওঠে। এর ফলে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজে হামলার সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই অগ্রগতি সৌদি আরবের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ। দেশটির তেল রপ্তানির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে লোহিত সাগরের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। হুতিদের হাতে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ থাকলে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে তেল পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু সৌদি আরব নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে হুতিদের সামরিক সাফল্যকে এককভাবে দেখলে ভুল হবে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ বহু পক্ষের সংঘাত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার, স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠী, আঞ্চলিক শক্তি এবং বিদেশি সামরিক জোট—সবাই এই সংঘাতের অংশ। হুতিরা জনবহুল উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী নিয়ন্ত্রণ করলেও দেশের পুরো ভূখণ্ড তাদের হাতে নেই। ফলে বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দাবি এবং বাস্তব সামরিক নিয়ন্ত্রণের পরিধি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
হুতিদের উত্থান দেখায়, একটি স্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলন কীভাবে দীর্ঘ যুদ্ধ, রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগে শক্তিশালী সামরিক সংগঠনে পরিণত হতে পারে। তাদের শক্তি শুধু অস্ত্রে নয়; রয়েছে সংগঠনের দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো, পাহাড়ি ভূখণ্ডের সুবিধা, স্থানীয় রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক।
অন্যদিকে তাদের উত্থান ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট তৈরি করছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, সামরিক অভিযান এবং আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে অর্থনীতি আরও দুর্বল হতে পারে। খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরবরাহের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তাই শুধু একটি সামরিক ঘটনার খবর নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য, ইরান-সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধ এবং বিশ্ববাণিজ্যের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা হুতিরা এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে তাদের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তায়।
প্রশ্ন হলো, এই উত্থান কি হুতিদের আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করবে, নাকি তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ফলে নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হবে? ইয়েমেনের রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন। কারণ হুতিদের সামরিক শক্তি যতই বাড়ুক, দেশটির বিভক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা, মানবিক বিপর্যয় এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।
হুতিদের উত্থান তাই একই সঙ্গে একটি বিদ্রোহী সংগঠনের সামরিক সাফল্যের গল্প, একটি রাষ্ট্রের ভাঙনের ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন সংকটের প্রতিচ্ছবি।
আপনার মতামত জানানঃ