
সাড়ে তিন থেকে চার হাজার বছর আগে বর্তমান ভিয়েতনামের কোনো এক কৃষিনির্ভর জনপদে শিশুটির জন্ম হয়েছিল। তার জীবন দীর্ঘ হয়নি। মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে অন্যদের সঙ্গে সমাধিস্থ করেছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে জনপদটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়; হারিয়ে যায় তার ভাষা, নাম ও পারিবারিক পরিচয়।
কিন্তু তার দাঁত একটি ইতিহাস ধরে রেখেছিল।
দাঁতের অস্বাভাবিক গঠন, এনামেলের অসম্পূর্ণ বিকাশ এবং হাড়ের ক্ষত দেখে আধুনিক গবেষকেরা বুঝতে পারেন, শিশুটি সম্ভবত জন্মের আগেই কিংবা জীবনের একেবারে শুরুতে Treponema pallidum গোষ্ঠীর কোনো ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল।
এই ব্যাকটেরিয়া গোষ্ঠীর বিভিন্ন উপপ্রজাতি যৌনবাহিত সিফিলিস, ইয়জ, বেজেল ও পিন্টার মতো রোগ সৃষ্টি করে। রোগগুলোর সংক্রমণপদ্ধতি ও পরিবেশগত বিস্তারে পার্থক্য থাকলেও হাড়ে রেখে যাওয়া চিহ্ন অনেক ক্ষেত্রে এতটাই কাছাকাছি যে শুধু কঙ্কাল দেখে কোন রোগটি হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
২০২৬ সালে International Journal of Osteoarchaeology-এ প্রকাশিত গবেষণাটি এই পুরোনো সমস্যাকেই আরও জটিল করে তুলেছে। গবেষণার শিরোনাম—Dental Stigmata and Skeletal Lesions of Congenital Treponematosis in Early Agricultural Vietnam (4000–3500 BP)। মূল গবেষণার রেকর্ড এবং Charles Sturt University Research Portal
এটি আধুনিক সিফিলিসের নিশ্চিত সন্ধান নয়। বরং এমন একটি আবিষ্কার, যা প্রাচীন কঙ্কালে জন্মগত সংক্রমণের চিহ্ন পেলেই তাকে সিফিলিস হিসেবে শনাক্ত করার প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
কী পেয়েছেন গবেষকেরা
মেলান্দ্রি ভলোক ও তাঁর সহকর্মীরা ভিয়েতনামের ১৬টি প্রত্নস্থল থেকে সংগৃহীত ৩০৯ জন মানুষের দেহাবশেষ পরীক্ষা করেন। এগুলোর বয়স বর্তমান সময়ের আনুমানিক ১০ হাজার থেকে এক হাজার বছর আগের মধ্যে।
তিন শিশুর দেহাবশেষে জন্মগত ট্রেপোনেমাল সংক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন পাওয়া যায়।
দুজনকে পাওয়া যায় উত্তর ভিয়েতনামের মান বাক প্রত্নস্থলে। তাদের একজনের বয়স মৃত্যুর সময় আনুমানিক ১৮ মাস, অন্যজনের প্রায় পাঁচ বছর। তৃতীয় শিশুটিকে পাওয়া যায় দক্ষিণ ভিয়েতনামের আন সন প্রত্নস্থলে; মৃত্যুর সময় তার বয়স আনুমানিক আড়াই বছর।
মান বাক ছিল প্রাথমিক কৃষি বিস্তারের সময়কার একটি জনপদ, যার বয়স আনুমানিক ৪ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ বছর। আন সনের সংশ্লিষ্ট দেহাবশেষও প্রায় ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো।
শিশুদের দাঁত ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কিছু দাঁতের বৃদ্ধি অসম্পূর্ণ, কিছু অস্বাভাবিক আকৃতির এবং কিছুতে গভীর খাঁজ বা গর্তের মতো ক্ষত ছিল। গবেষকেরা এসব পরিবর্তনের সঙ্গে জন্মের আগে বা শৈশবের একেবারে শুরুতে সংঘটিত দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের পরিচিত বৈশিষ্ট্যের মিল পেয়েছেন।
হাড়ের কিছু ক্ষতও একই রোগনির্ণয়কে সমর্থন করে। তিনটি আলাদা দেহাবশেষে দাঁত ও হাড়ের একাধিক বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে উপস্থিত থাকায় গবেষকেরা এগুলোকে শুধু অপুষ্টি, আঘাত কিংবা সাধারণ দাঁতের রোগ দিয়ে ব্যাখ্যা করেননি। গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক সারসংক্ষেপ
এটি কি সত্যিই সিফিলিস?
সংক্ষিপ্ত উত্তর—এখনো নিশ্চিত নয়।
আধুনিক যৌনবাহিত সিফিলিসের জন্য দায়ী Treponema pallidum pallidum। ইয়জ সৃষ্টি করে ঘনিষ্ঠ ত্বকসংস্পর্শে ছড়ানো T. pallidum pertenue। বেজেলের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি ঘনিষ্ঠ উপপ্রজাতি। জেনেটিকভাবে এরা এত কাছাকাছি যে রোগগুলোর প্রাচীন ইতিহাস আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন।
শুধু হাড় বা দাঁতের গঠন দেখে সাধারণত কোন উপপ্রজাতি সংক্রমণ ঘটিয়েছিল, তা বলা যায় না। একই ধরনের হাড়ের প্রদাহ, বিকৃতি ও দাঁতের অস্বাভাবিকতা একাধিক ট্রেপোনেমাল রোগে দেখা যেতে পারে।
গবেষণাটিতে প্রাচীন ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ পাওয়া যায়নি। ভিয়েতনামের উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে কয়েক হাজার বছর ধরে ডিএনএ ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকা কঠিন। ফলে গবেষকেরা রোগজীবাণুর উপপ্রজাতি শনাক্ত করতে পারেননি।
তাঁরা যা বলেছেন, তা আরও সতর্ক: শিশুদের মধ্যে জন্মগত ট্রেপোনেমাটোসিসের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই ভাষাগত পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। “জন্মগত ট্রেপোনেমাটোসিস” বললে বোঝায়, Treponema গোষ্ঠীর কোনো সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় মা থেকে ভ্রূণে অথবা জন্মের আশপাশের সময়ে শিশুর শরীরে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেটিকে সরাসরি আধুনিক যৌনবাহিত সিফিলিস বলা হচ্ছে না।
অতএব সংবাদটির তাৎপর্য “সাড়ে তিন হাজার বছর আগেই আধুনিক সিফিলিস ছিল”—এমন সরল সিদ্ধান্তে নয়। তাৎপর্য হলো, জন্মগত সংক্রমণ হয়তো সিফিলিসের একচেটিয়া বৈশিষ্ট্য ছিল না।
কলম্বাসকে ঘিরে শতাব্দীপ্রাচীন বিতর্ক
ইউরোপে সিফিলিসের ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ১৪৯০-এর দশক। ১৪৯৪–৯৫ সালে ফরাসি রাজা অষ্টম শার্ল ইতালি আক্রমণ করার সময় নেপলসে ভয়াবহ একটি রোগ ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি দ্রুত ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যায়।
এই সময়টি ক্রিস্টোফার কলম্বাসের প্রথম আমেরিকা অভিযান থেকে ফেরার প্রায় দুই বছর পর। সেই সময়গত মিল থেকে জন্ম নেয় বহুল আলোচিত ‘কলম্বিয়ান হাইপোথিসিস’—কলম্বাসের নাবিকেরা আমেরিকা থেকে যৌনবাহিত সিফিলিস ইউরোপে নিয়ে এসেছিলেন।
এর বিপরীতে ‘প্রি-কলম্বিয়ান হাইপোথিসিস’ বলছে, রোগটি তার আগেই ইউরোপ, এশিয়া বা আফ্রিকায় ছিল; তবে সেটি অন্য রোগ হিসেবে ভুল শনাক্ত হয়েছিল অথবা পঞ্চদশ শতকের সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
আরেকটি ব্যাখ্যা, যাকে কখনো ‘ইউনিটারিয়ান হাইপোথিসিস’ বলা হয়, মনে করে সিফিলিস, ইয়জ ও বেজেল সম্পূর্ণ আলাদা উৎসের রোগ নয়; একই প্রাচীন জীবাণুবংশ ভিন্ন জলবায়ু, জীবনযাপন ও সংক্রমণপথের সঙ্গে মানিয়ে বিভিন্ন রোগরূপ তৈরি করেছে।
প্রাচীন কঙ্কাল নিয়ে গবেষণার সবচেয়ে বড় সমস্যা এখানেই। কোনো কঙ্কালে ট্রেপোনেমাল রোগের চিহ্ন পাওয়া মানেই আধুনিক যৌনবাহিত সিফিলিস পাওয়া নয়। রোগটি ইয়জ বা বেজেলের মতো অন্য রূপও হতে পারে। ট্রেপোনেমাল রোগের উৎপত্তি ও বিস্তার বোঝার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বহু দিন ধরেই গবেষণার অন্যতম বড় বাধা। PubMed-এ প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা
জন্মগত সংক্রমণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল
দীর্ঘদিন ধরে অনেক গবেষক মনে করতেন, মা থেকে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা মূলত যৌনবাহিত সিফিলিসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ফলে কোনো প্রাচীন শিশুর দাঁতে জন্মগত সিফিলিসের পরিচিত চিহ্ন পাওয়া গেলে সেটি সিফিলিসের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতো।
ভিয়েতনামের নতুন গবেষণা সেই যুক্তির ভিত্তিটিই দুর্বল করছে।
মান বাক ও আন সনের সমাজে পাওয়া অন্যান্য রোগচিহ্ন এবং সংক্রমণের বয়সবিন্যাস দেখে গবেষকেরা মনে করছেন, সেখানে ইয়জের মতো ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছড়ানো অযৌন ট্রেপোনেমাল রোগও থাকতে পারে। অথচ তিন শিশুর মধ্যে জন্মগত সংক্রমণের মতো চিহ্ন দেখা গেছে।
যদি ইয়জ বা অন্য অযৌন ট্রেপোনেমাল রোগও কখনো মা থেকে শিশুর শরীরে পৌঁছাতে পারে, তাহলে প্রাচীন শিশুর দাঁতের পরিচিত চিহ্নকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌনবাহিত সিফিলিসের প্রমাণ বলা যাবে না।
এর ফলে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার যেসব পুরোনো কঙ্কাল জন্মগত সিফিলিসের সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, সেগুলোর কিছু নতুন করে মূল্যায়ন করতে হতে পারে।
অর্থাৎ নতুন আবিষ্কারটি সিফিলিস কোথায় জন্মেছিল, তার সরাসরি উত্তর দেয়নি। বরং ইতিহাসের উত্তর খোঁজার জন্য ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ডায়াগনস্টিক শর্টকাট’কে অনির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
এশিয়ার অনুপস্থিত ইতিহাস
সিফিলিসের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ইউরোপ ও আমেরিকাকেন্দ্রিক ছিল। কলম্বাসের যাত্রা, নেপলসের মহামারি এবং ইউরোপীয় কঙ্কালকে ঘিরেই অধিকাংশ তর্ক গড়ে উঠেছে।
এশিয়া, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রাচীন দেহাবশেষ তুলনামূলকভাবে কম পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে রোগটির বৈশ্বিক ইতিহাস অসম্পূর্ণ নমুনার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
ভিয়েতনামের আবিষ্কার দেখায়, প্রাথমিক কৃষির বিস্তার, জনবসতির ঘনত্ব বৃদ্ধি এবং মানুষের দীর্ঘ দূরত্বে স্থানান্তরের সঙ্গে ট্রেপোনেমাল রোগও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকতে পারে।
মান বাকের মানুষের মধ্যে স্থানীয় শিকারি-সংগ্রাহক জনগোষ্ঠী এবং উত্তর দিক থেকে আসা কৃষিজীবী মানুষের জৈবিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রমাণ রয়েছে। মানুষের এই চলাচল নতুন জীবাণু নিয়ে এসেছিল, নাকি আগে থেকে থাকা রোগের বিস্তার বাড়িয়েছিল—তা এখনো অজানা।
তবে আবিষ্কারটি মনে করিয়ে দেয়, কোনো রোগের ইতিহাস শুধু সেই অঞ্চলের নথিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, যেখানে প্রথম বড় মহামারি লিখিত হয়েছিল। জীবাণুর ইতিহাস লিখিত নথির চেয়ে অনেক পুরোনো হতে পারে।
কঙ্কাল কী বলে, আর কী বলে না
প্রাচীন রোগ শনাক্ত করার সময় গবেষকেরা এক ধরনের গোয়েন্দার কাজ করেন। জীবিত রোগীর রক্ত পরীক্ষা, উপসর্গের ইতিহাস বা চিকিৎসা-নথি সেখানে নেই। তাঁদের হাতে থাকে দাঁত, হাড়, সমাধির বয়স এবং প্রত্নতাত্ত্বিক পরিবেশ।
কিন্তু একটি হাড়ের ক্ষত একাধিক কারণে হতে পারে। সংক্রমণ, অপুষ্টি, জেনেটিক সমস্যা এবং পরিবেশগত চাপ অনেক সময় কাছাকাছি ধরনের পরিবর্তন তৈরি করে। তাই একটি বৈশিষ্ট্য নয়, একাধিক স্বতন্ত্র চিহ্নের সমন্বয় প্রয়োজন।
ভিয়েতনামের তিন শিশুর ক্ষেত্রে দাঁতের নির্দিষ্ট অস্বাভাবিকতা ও হাড়ের ক্ষত একসঙ্গে থাকায় গবেষকেরা জন্মগত ট্রেপোনেমাটোসিসকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবু ‘সম্ভাব্য’ শব্দটি বাদ দেওয়া যায় না।
চূড়ান্ত নিশ্চয়তার জন্য প্রয়োজন হবে জীবাণুর প্রাচীন ডিএনএ অথবা প্রোটিনের সরাসরি প্রমাণ। ভবিষ্যতের উন্নত প্রযুক্তি হয়তো ক্ষয়প্রাপ্ত নমুনা থেকেও জীবাণুর জেনেটিক সংকেত উদ্ধার করতে পারবে।
তার আগে কঙ্কাল আমাদের শক্তিশালী সাক্ষ্য দেবে, কিন্তু অভিযুক্ত জীবাণুটির সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।
আধুনিক সিফিলিস সম্পর্কে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই
প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে অনিশ্চয়তা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানকে অনিশ্চিত করে না। বর্তমান সিফিলিস একটি সুস্পষ্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। এটি প্রধানত যৌনসংস্পর্শে ছড়ায় এবং গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত মা থেকে ভ্রূণের শরীরেও যেতে পারে।
চিকিৎসা না হলে রোগটি স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক, চোখ ও হৃদ্যন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু অথবা জন্মগত জটিলতার কারণ হতে পারে। তবে সময়মতো পরীক্ষা ও পেনিসিলিন চিকিৎসায় রোগটি নিরাময়যোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের NIAID-এর তথ্য
ভিয়েতনামের আবিষ্কার আধুনিক সিফিলিসের সংক্রমণপথ বা চিকিৎসা নিয়ে কোনো সন্দেহ তৈরি করে না। এটি শুধু জীবাণুগোষ্ঠীটির প্রাচীন বিবর্তন ও রোগের বিভিন্ন রূপ নিয়ে আমাদের ধারণাকে সংশোধন করছে।
ইতিহাস কি তাহলে ভুল লেখা হয়েছিল?
হ্যাঁ—কিন্তু পুরো ইতিহাস নয়।
ভুলটি সম্ভবত ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে। গবেষকেরা কখনো কখনো ভেবেছিলেন, শিশুর দাঁতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের বিকৃতি পাওয়া গেলে তাকে জন্মগত সিফিলিস বলা যাবে। নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, এই বৈশিষ্ট্য অন্য ট্রেপোনেমাল রোগেও দেখা যেতে পারে।
তবে এটি প্রমাণ করে না যে কলম্বিয়ান তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভুল, কিংবা আধুনিক সিফিলিস নিশ্চিতভাবেই প্রাগৈতিহাসিক এশিয়ায় ছিল। বরং তিনটি সম্ভাবনা সামনে আনে।
প্রথমত, সিফিলিসসদৃশ ট্রেপোনেমাল রোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অন্তত সাড়ে তিন হাজার বছর আগে উপস্থিত ছিল। দ্বিতীয়ত, অযৌন ট্রেপোনেমাল রোগও সম্ভবত জন্মগতভাবে সংক্রমিত হতে পারত। তৃতীয়ত, শুধু কঙ্কালের গঠন দিয়ে রোগের নির্দিষ্ট উপপ্রজাতি শনাক্ত করা আরও কঠিন, যতটা আগে ভাবা হয়েছিল।
বিজ্ঞানের সৌন্দর্য এখানেই। নতুন আবিষ্কার সব সময় পুরোনো ইতিহাস মুছে ফেলে না; কখনো এটি ইতিহাসের পাশে একটি প্রশ্নচিহ্ন বসায়।
ভিয়েতনামের তিন শিশু সিফিলিসের জন্মস্থান জানিয়ে যায়নি। কিন্তু তাদের দাঁত আমাদের শিখিয়েছে—মানুষের রোগের ইতিহাস সরল কোনো রেখা নয়। জীবাণু বদলায়, সংক্রমণের পথ বদলায় এবং প্রমাণ ব্যাখ্যা করার ভাষাও বদলে যায়।
সাড়ে তিন হাজার বছর পর সেই নীরব কঙ্কালগুলো তাই শুধু একটি রোগের সাক্ষ্য নয়; বিজ্ঞান কীভাবে নিজের পুরোনো নিশ্চিত ধারণাকেও সংশোধন করে, তারও সাক্ষ্য।
আপনার মতামত জানানঃ