একটি সকাল বদলে দিয়েছিল বিশ্বরাজনীতির গতিপথ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এক নতুন যুগ। চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে আল-কায়েদার চালানো ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। কিন্তু সেই হামলার ধাক্কা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া যুদ্ধ, সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও ড্রোন অভিযানের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। হামলার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে শুরু হয় মার্কিন সামরিক অভিযান। এর দুই বছরেরও কম সময় পর ইরাকে শুরু হয় আরেকটি বড় যুদ্ধ। পরে পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লিবিয়া, সিরিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলেও মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়। উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে দমন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন দেশে হুমকি মোকাবিলা করা। কিন্তু এসব অভিযানের পাশাপাশি সামনে এসেছে বিপুল প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট, অবকাঠামোগত ধ্বংস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক দুর্ভোগের চিত্র।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, ২০০১ সালের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। এই হিসাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের নিয়ে নয়। সরাসরি যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। আর রোগ, অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয়সহ যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাবে মারা গেছেন আরও ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ। অর্থাৎ যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক মূল্য শুধু বোমা বা গুলিতে নিহত মানুষের সংখ্যা দিয়ে বোঝা যায় না; যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাতও এর অংশ।
আফগানিস্তান ছিল এই দীর্ঘ যুদ্ধের প্রথম বড় ক্ষেত্র। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবান সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু এর পর যুদ্ধ থামেনি। চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পেরিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে চলতে থাকে সামরিক অভিযান। কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে সরাসরি প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হন। এর বাইরে ক্ষুধা, রোগ, আঘাত এবং চিকিৎসার অভাবে আরও বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
যুদ্ধের প্রভাব আফগান মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও গভীরভাবে পড়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের আগে দেশটির ৬২ শতাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। যুদ্ধের পর এই হার বেড়ে ৯২ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই জীবন কেড়ে নেয়নি; খাদ্য ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকেও বিপন্ন করেছে। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও স্থলমাইনও যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে থেকেছে।
প্রায় দুই দশকের যুদ্ধের পর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর প্রত্যাহার ঘটে। শেষ পর্যন্ত তালেবান আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসে। এতে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—দুই দশকের সামরিক অভিযান, বিপুল অর্থব্যয় এবং প্রাণহানির পর সেই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি অর্জন কী? একই সঙ্গে আরও বড় প্রশ্ন থেকে যায়, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য কে দিয়েছে? উত্তরটি অনেক ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় সাধারণ মানুষের জীবনে।
আফগানিস্তানের পর ২০০৩ সালে ইরাক হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র। ১৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন শুরু করে। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই অস্ত্রের দাবিকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অবশ্য সাধারণ মানুষের জন্য ছিল বাস্তব এবং তাৎক্ষণিক।
ইরাকের এক তরুণ, প্রতিবেদনে যাকে ওমর নামে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন মাত্র ১৮ বছরের শিক্ষার্থী। যুদ্ধের স্মৃতি এখনও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। বোমার শব্দ, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা তার প্রজন্মের অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে যায়। তার কয়েকজন বন্ধু যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখতে বাগদাদে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তারা আর ফিরে আসেননি। বহু বছর পরও সেই স্মৃতি তাকে কষ্ট দেয়।
কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধে সরাসরি প্রায় তিন লাখ ১৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধের মানবিক মূল্য এখানেই শেষ নয়। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অবকাঠামো, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি যুদ্ধ শেষ হলেও তার ক্ষত বহু বছর ধরে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে—ইরাক তার অন্যতম বড় উদাহরণ।
স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি ৯/১১-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা ও ড্রোন যুদ্ধের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় মার্কিন ড্রোন ও বিমান হামলার তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নথিভুক্ত করেছে। ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে পাকিস্তানে ৪২৩টি মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় দুই হাজার ৪৯৯ থেকে চার হাজার একজন পর্যন্ত মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২৪ থেকে ৯৬৬ জন বেসামরিক নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনেও চালানো হয়েছে বহু হামলা ও অভিযান। সেখানে অন্তত ১৮৬টি হামলা ও অভিযানে অন্তত ৮৫৩ জন নিহত হয়েছেন বলে ওই তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫৮ জন বেসামরিক নাগরিক। সোমালিয়ায় ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯ থেকে ২৩টি হামলায় ১৮৮ থেকে ২৭৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
ড্রোন যুদ্ধের একটি বড় বিতর্ক হলো—দূর থেকে পরিচালিত হামলা কি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঝুঁকি কমায়, নাকি বেসামরিক মানুষের জন্য নতুন ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে? প্রযুক্তিগতভাবে এসব অস্ত্র নির্ভুলতার দাবি করলেও বাস্তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নির্ভুলভাবে যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে আলাদা করা সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে একটি হামলার পর শুধু নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নয়, তাদের পরিবার, সন্তান এবং পুরো সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হয়।
২০১১ সালে লিবিয়াতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নেতৃত্বে বিমান অভিযান শুরু হয়। দেশটিতে বিক্ষোভ দমনের জন্য তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যুক্তিতে জাতিসংঘের অনুমোদনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, সাত মাসে লিবিয়ায় প্রায় নয় হাজার ৭০০টি হামলা চালানো হয়। পরে বিদ্রোহীদের হাতে গাদ্দাফি নিহত হন।
কিন্তু সামরিক হস্তক্ষেপের পর লিবিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাতের মধ্যে পড়ে থাকে। একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব পরিবর্তন বা একটি সামরিক লক্ষ্য অর্জন করলেই যে শান্তি নিশ্চিত হয় না, লিবিয়ার অভিজ্ঞতা সেই প্রশ্নকে সামনে আনে।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হয় ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’। লক্ষ্য ছিল আইএসআইএলকে পরাজিত করা। এই অভিযানে বিমান ও স্থল অভিযান চালানো হয় এবং বিপুল পরিমাণ বোমা ব্যবহার করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৪১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে লন্ডনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা এয়ারওয়ার্সের হিসাবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আট হাজার ২৬৪ থেকে ১৩ হাজার ৩৬০ জনের মধ্যে হতে পারে।
যুদ্ধের আরেকটি ভয়াবহ পরিণতি হলো বাস্তুচ্যুতি। ঘরবাড়ি হারানোর বিষয়টি অনেক সময় যুদ্ধের পরিসংখ্যানে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। অথচ একটি পরিবার যখন নিজের বাড়ি, জমি, স্কুল, কর্মস্থল এবং পরিচিত পরিবেশ হারিয়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, তখন তাদের জীবনে যুদ্ধের প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে থেকে যেতে পারে।
কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের হিসাবে, ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তিন কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের কেউ দেশের বাইরে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ নিজ দেশের মধ্যেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এই বাস্তুচ্যুতি অনেক ক্ষেত্রে শেষ হয়নি। ইরাকে আগ্রাসনের দুই দশক পরও ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একইভাবে জটিল। গত বছর ইরান ও পাকিস্তান প্রায় ২৯ লাখ আফগানকে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
এই বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনের গল্পই যুদ্ধের সবচেয়ে মানবিক ও বেদনাদায়ক দিকটি তুলে ধরে। ৪০ বছর বয়সী এক আফগান নারী, প্রতিবেদনে যাকে আয়েশা নামে উল্লেখ করা হয়েছে, জীবনের বড় একটি সময় আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে যাতায়াত করে কাটিয়েছেন। তার পরিবার ১৯৯৪ সালে প্রথম আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়েছিল। ২০০০ সালে তারা দেশে ফিরেছিল। কিন্তু ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর আবারও পালিয়ে যেতে হয়।
ইরানে ১১ বছর থাকার পর আয়েশা ও তার সন্তানদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে সন্তানদের স্কুল থেকে বহিষ্কারের অভিজ্ঞতাও হয়েছে তাদের। বারবার দেশ বদল, ঘর হারানো এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে সন্তানদের বড় করা—একজন বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনের এই অভিজ্ঞতা যুদ্ধের পরিসংখ্যানের বাইরের এক নির্মম বাস্তবতা।
২৫ বছর আগে নিউইয়র্কে একটি সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে যে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শুরু হয়েছিল, তার পরবর্তী ইতিহাস তাই শুধু সামরিক অভিযানের ইতিহাস নয়। এটি লাখ লাখ নিহত মানুষের গল্প, কোটি কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষের গল্প, ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর ও গ্রাম, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্যসংকট এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা মানসিক ক্ষতের গল্প।
এই দীর্ঘ সময়ের দিকে ফিরে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—যুদ্ধের হিসাব শুধু বিজয় বা পরাজয়ের মাপকাঠিতে করা যায় না। যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য বুঝতে হলে দেখতে হয় সাধারণ মানুষের জীবন কতটা বদলে গেছে, কত পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, কত শিশু শৈশব হারিয়েছে এবং কত মানুষ নিজের ঘরবাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিশ্ব এখনও সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ ও নিরাপত্তার প্রশ্নের মুখোমুখি। কিন্তু গত আড়াই দশকের অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, সামরিক শক্তি দিয়ে একটি সংঘাতকে দমন করা সম্ভব হলেও তার মানবিক ও রাজনৈতিক পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও তার শব্দ থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে, ধ্বংসস্তূপে, উদ্বাস্তু শিবিরে এবং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যতের ওপর।
শেষ পর্যন্ত তাই ৯/১১-পরবর্তী ২৫ বছরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে—নিরাপত্তার নামে পরিচালিত যুদ্ধগুলো বিশ্বকে কতটা নিরাপদ করেছে, আর এর বিনিময়ে মানবজাতিকে কতটা মূল্য দিতে হয়েছে?
আপনার মতামত জানানঃ