
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৯৯ সালের এক দিন। এথেন্সের নাগরিক আদালতে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ। তাঁর হাতে কোনো অস্ত্র নেই, পেছনে কোনো সেনাবাহিনীও নেই। তিনি কোনো বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেননি, রাষ্ট্রের কোষাগার লুট করেননি। তাঁর অপরাধের কেন্দ্রে ছিল কথা—আর এমন কিছু প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে ক্ষমতাবান, জ্ঞানী ও সম্মানিত ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে পড়তে হতো।
বৃদ্ধের নাম সক্রেটিস। আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিল। কয়েক সপ্তাহ পর কারাগারে তিনি বিষাক্ত হেমলক পান করলেন। পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাসে ঘটনাটি হয়ে উঠল চিন্তার স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত বিবেকের সংঘাতের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকগুলোর একটি।
কিন্তু সক্রেটিস কি সত্যিই শুধু প্রশ্ন করার অপরাধে নিহত হয়েছিলেন? উত্তরটি সরল নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল ধর্মদ্রোহ ও এথেন্সের তরুণদের বিপথগামী করা। অথচ বিচারের পেছনে ছিল যুদ্ধপরাজিত একটি নগররাষ্ট্রের ভয়, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ এবং গণতন্ত্রের নিজের নিরাপত্তাহীনতা।
যে মানুষটি কোনো বই লিখে যাননি
সক্রেটিস আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭০ বা ৪৬৯ সালে এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিজে কোনো বই লিখে যাননি। তাঁর জীবন ও চিন্তা সম্পর্কে আমরা মূলত শিষ্য প্লেটো, সৈনিক-লেখক জেনোফন, নাট্যকার অ্যারিস্টোফেনিস এবং পরে অ্যারিস্টটলের লেখা থেকে জানতে পারি। এই উৎসগুলোর সক্রেটিস এক নন। প্লেটোর সংলাপে তিনি গভীর দার্শনিক; জেনোফনের বর্ণনায় বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন নৈতিক শিক্ষক; আর অ্যারিস্টোফেনিসের ব্যঙ্গনাট্যে উদ্ভট ও বিপজ্জনক বুদ্ধিজীবী।
তাঁর কাজের জায়গা ছিল বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ নয়—এথেন্সের বাজার, ব্যায়ামাগার ও জনসমাগম। তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন এবং প্রশ্ন করতেন: ন্যায় কী? সাহস কী? ভালো জীবন কাকে বলে? কেউ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিলে তিনি আরও প্রশ্ন করে দেখাতেন, সেই উত্তরের মধ্যেই অসংগতি রয়েছে। এই পদ্ধতিই পরে ‘সক্রেটিক মেথড’ নামে পরিচিত হয়।
সক্রেটিস নিজেকে সর্বজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে তুলে ধরতেন না। তাঁর বিখ্যাত অবস্থান ছিল—নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন থাকাই এক ধরনের জ্ঞান। সমস্যাটি ছিল, তাঁর প্রশ্নের মুখে রাজনীতিক, কবি ও কারিগরদের দাবিকৃত জ্ঞান প্রায়ই ভেঙে পড়ত। দর্শন তখন আর নিরীহ চিন্তাচর্চা থাকত না; তা হয়ে উঠত সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতার প্রকাশ্য পরীক্ষা।
অভিযোগ ছিল দুটি, ক্ষোভ ছিল অনেক দিনের
সক্রেটিসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগকারী ছিলেন মেলেটাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রভাবশালী রাজনীতিক অ্যানিটাস এবং বক্তা লাইকন। অভিযোগের ভাষ্য ছিল—সক্রেটিস নগরের স্বীকৃত দেবতাদের মানেন না, নতুন দৈব সত্তা প্রচলন করেন এবং তরুণদের নষ্ট করেন।
আজকের চোখে অভিযোগগুলো অস্পষ্ট মনে হলেও প্রাচীন এথেন্সে ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসমাত্র ছিল না। নগরের দেবতা, উৎসব ও আচার ছিল রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ। দেবতাদের অসম্মানকে সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ হিসেবেও দেখা হতে পারত। সক্রেটিস আবার নিজের অন্তরের একটি ‘দৈব সংকেত’ বা ডাইমোনিয়নের কথা বলতেন, যা তাঁকে কোনো কোনো কাজ থেকে বিরত রাখত। বিরোধীরা এটিকে নতুন ধর্মীয় ধারণা হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন।
‘তরুণদের বিপথগামী করা’র অভিযোগও শুধু নৈতিক আতঙ্ক ছিল না। সক্রেটিসের আশপাশে অভিজাত পরিবারের বহু তরুণ জড়ো হতেন। তাঁদের মধ্যে আলসিবিয়াদেস এবং ক্রিটিয়াসের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিও ছিলেন। আলসিবিয়াদেস পেলোপনেশীয় যুদ্ধে পক্ষবদল ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কুখ্যাত হন। ক্রিটিয়াস ছিলেন এথেন্সে স্পার্টা-সমর্থিত ‘ত্রিশ স্বৈরশাসক’-এর অন্যতম নেতা; তাঁর শাসনে হত্যা, নির্বাসন ও সম্পত্তি দখল চলেছিল।
সক্রেটিস তাঁদের অপরাধের নির্দেশদাতা ছিলেন—এমন প্রমাণ নেই। কিন্তু যুদ্ধ, পরাজয় ও স্বৈরশাসনের ক্ষত বহন করা নাগরিকদের চোখে তাঁর সঙ্গে এই ব্যক্তিদের সম্পর্ক সন্দেহ তৈরির জন্য যথেষ্ট ছিল।
যুদ্ধহারা এথেন্সের আদালত
বিচারের রাজনৈতিক পটভূমি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় তিন দশকের পেলোপনেশীয় যুদ্ধে স্পার্টার কাছে এথেন্স পরাজিত হয়েছিল। সাম্রাজ্য, নৌক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়েছিল। এরপর ত্রিশ স্বৈরশাসকের রক্তাক্ত শাসন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পালা আসে।
পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র অতীতের রাজনৈতিক অপরাধের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। ফলে সক্রেটিসকে সরাসরি তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অভিযুক্ত করা কঠিন ছিল। ধর্মদ্রোহ ও যুবসমাজকে নষ্ট করার অভিযোগ সেই চাপা রাজনৈতিক ক্ষোভের বৈধ পথ হয়ে উঠেছিল—এমন ব্যাখ্যা বহু ইতিহাসবিদের।
তবে সক্রেটিসকে কেবল নির্দোষ উদারপন্থী হিসেবে দেখলেও ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকে। তিনি এথেন্সের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলতেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট জ্ঞান বা ন্যায় নিশ্চিত করে কি না, দক্ষতা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব কি না—এসব বিষয়ে তাঁর সংশয় ছিল। যুদ্ধের সময় তিনি সৈনিক হিসেবে সাহস দেখিয়েছিলেন; আবার নাগরিক দায়িত্ব পালনকালে বেআইনি গণবিচারে সায় দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ত্রিশ স্বৈরশাসক তাঁকে এক নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করতে বললেও তিনি তা মানেননি। অর্থাৎ তিনি কোনো শাসনের অনুগত মুখপাত্র ছিলেন না; গণতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র—দুটির অন্যায়ের সামনেই নিজের বিবেককে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
আদালতে আত্মরক্ষা, নাকি শেষ পাঠ?
প্লেটোর ‘অ্যাপোলজি’ অনুযায়ী, সক্রেটিস আদালতে ক্ষমা ভিক্ষা করেননি। তিনি আবেগ সৃষ্টি করতে স্ত্রী-সন্তানদের সামনে আনেননি, কান্নায় বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি। বরং অভিযোগকারীদের জেরা করেছেন এবং নিজের প্রশ্ন করার কাজকে এথেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন।
তিনি নিজেকে এমন এক ‘ঘোড়ামাছি’র সঙ্গে তুলনা করেন, যা বড় কিন্তু অলস ঘোড়া এথেন্সকে কামড়ে জাগিয়ে রাখে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল: নাগরিকদের সম্পদ, খ্যাতি ও ক্ষমতার চেয়ে আত্মার উৎকর্ষ এবং ন্যায় নিয়ে বেশি ভাবতে বাধ্য করাই তাঁর দায়িত্ব।
এই আত্মপক্ষ সমর্থন দর্শনের ইতিহাসে মহৎ, কিন্তু আদালতের কৌশল হিসেবে বিপজ্জনক ছিল। বিচারকরা তাঁর মধ্যে অনুতাপের বদলে চ্যালেঞ্জ দেখেছেন। অল্প ব্যবধানে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর এথেন্সের নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগকারী মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব করলে অভিযুক্ত বিকল্প শাস্তির প্রস্তাব দিতে পারতেন। সক্রেটিস প্রথমে ব্যঙ্গ করে বলেন, নগরের উপকারী মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ভোজশালায় তাঁর বিনা মূল্যে আহার পাওয়া উচিত। পরে জরিমানার প্রস্তাব এলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠে। মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে ব্যবধান বেড়ে যায়।
পালানোর সুযোগ কেন নিলেন না
রায় কার্যকর হতে বিলম্ব হয়েছিল ধর্মীয় কারণে। এ সময় বন্ধু ক্রিটো তাঁকে কারাগার থেকে পালানোর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। সক্রেটিস তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্লেটোর ‘ক্রিটো’ সংলাপে তাঁর যুক্তি—অন্যায়ের জবাবে অন্যায় করা যায় না। যে নগরের আইন ও প্রতিষ্ঠান তাঁকে সারাজীবন নাগরিক হিসেবে ধারণ করেছে, রায় অপছন্দ হলেই সেই আইনের বন্ধন ভেঙে পালানো তাঁর নীতির সঙ্গে অসংগত।
এখানে একটি স্থায়ী দার্শনিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। অন্যায় রায় মেনে নেওয়া কি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, নাকি অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ? সক্রেটিসের সিদ্ধান্ত আধুনিক নাগরিক অবাধ্যতার ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তিনি আইনকে প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য গোপনে আইন ভাঙতে চাননি। মৃত্যু গ্রহণ করে তিনি বিচারকদের জয়ী করেননি; বরং নিজের জীবন ও বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করেছেন।
হেমলকের শেষ পেয়ালা
প্লেটোর ‘ফাইডো’ সক্রেটিসের শেষ সময়ের সবচেয়ে পরিচিত বর্ণনা দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে আত্মা ও মৃত্যুর অর্থ নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি বিষের পেয়ালা গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে তাঁর পা ভারী ও অসাড় হয়ে আসে; শীতলতা শরীরের ওপরের দিকে উঠতে থাকে। শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্র থেমে যায়।
এই বিবরণ নিখুঁত চিকিৎসা-প্রতিবেদন নয় এবং প্লেটো ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে সংলাপেই উল্লেখ আছে। তবু হেমলকের পেয়ালা ইতিহাসে একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে—রাষ্ট্র একজন মানুষকে হত্যা করতে পারে, কিন্তু তাঁর প্রশ্নকে সব সময় হত্যা করতে পারে না।
সক্রেটিসের শেষ কথাও রহস্যময়: তিনি ক্রিটোকে মনে করিয়ে দেন, চিকিৎসার দেবতা অ্যাসক্লেপিয়াসের কাছে একটি মোরগ ঋণ আছে। কেউ মনে করেন, তিনি মৃত্যুকে জীবনের অসুস্থতা থেকে আরোগ্য হিসেবে দেখেছিলেন। কেউ বলেন, এটি ছিল কোনো ব্যক্তিগত মানতের কথা। নিশ্চিত ব্যাখ্যা নেই। সক্রেটিসের জীবনের মতো তাঁর শেষ বাক্যও একটি প্রশ্ন রেখে গেছে।
গণতন্ত্রের লজ্জা, না আত্মরক্ষার চেষ্টা?
সক্রেটিসের মৃত্যু প্রায়ই প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনও অন্যায় করতে পারে। এথেন্স ছিল নাগরিক অংশগ্রহণের অসাধারণ পরীক্ষাগার; আবার সেই গণতন্ত্রই নিজের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রশ্নকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তাই ঘটনাটি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্রের আত্মসংশোধনের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে সতর্কবার্তা।
তৎকালীন নাগরিকদের ভয়কেও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলা যায় না। তারা যুদ্ধ, স্বৈরশাসন ও রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সংকটের সময় সমাজ প্রায়ই ব্যক্তি ও মতাদর্শের পার্থক্য মুছে ফেলে। কারও ছাত্র অপরাধী হলে শিক্ষকও অপরাধী—এই সহজ সমীকরণ তৈরি হয়। প্রশ্ন রাষ্ট্রকে দুর্বল করছে, এমন ধারণা জন্মায়। তখন সমালোচককে যুক্তিতে পরাজিত করার বদলে তাঁর কণ্ঠ থামানো নিরাপদ মনে হয়।
সক্রেটিসের বিচার তাই শুধু প্রাচীন এথেন্সের গল্প নয়। প্রত্যেক যুগে ক্ষমতা প্রশ্নকারীকে ‘যুবসমাজ নষ্টকারী’, ‘ধর্মবিরোধী’, ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ কিংবা ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ নামে চিহ্নিত করতে পারে। অভিযোগের ভাষা বদলায়, কিন্তু অস্বস্তিকর প্রশ্নকে অপরাধে পরিণত করার প্রবণতা থেকে যায়।
যে রায়ে সক্রেটিস পরাজিত হননি
আদালত সক্রেটিসের শরীরের ওপর চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্থায়ী সত্যতা প্রতিষ্ঠা করেনি। বরং তাঁর মৃত্যু প্লেটোসহ পরবর্তী প্রজন্মকে আরও বড় প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে: ন্যায় কী, ভালো রাষ্ট্র কেমন, আইন ও বিবেকের সংঘাতে মানুষ কোনটি বেছে নেবে?
সম্ভবত সক্রেটিসের সবচেয়ে বিপজ্জনক শিক্ষা ছিল—কোনো পদ, জনপ্রিয়তা বা প্রাচীন বিশ্বাস শুধু প্রচলিত বলেই সত্য হয়ে যায় না। মানুষকে নিজের বিশ্বাসের কারণ পরীক্ষা করতে হবে। অজ্ঞতাকে জ্ঞান বলে চালানো এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনকে ন্যায় বলে ধরে নেওয়া—দুটিই বিপজ্জনক।
হেমলকের পেয়ালা তাই কেবল একজন দার্শনিকের মৃত্যুর স্মারক নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, যে রাষ্ট্র প্রশ্নকে ভয় পায়, সে শেষ পর্যন্ত নিজের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। সক্রেটিসকে নীরব করা হয়েছিল; কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া প্রশ্ন আজও আদালত, সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি নাগরিকের বিবেকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে: পরীক্ষা না করা জীবন কি সত্যিই বেঁচে থাকার যোগ্য?
আপনার মতামত জানানঃ