ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আমিরাতসহ আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। শুধু স্বাগত জানানোতেই থেমে থাকেনি তারা; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার, তুরস্ক, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি স্থাপন এবং এসব বসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এই যৌথ অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারণে। ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। সেই আমিরাতই এখন ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে ব্রিটেনের পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছে। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব বিশ্বের অবস্থান, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই তিনটি বিষয় আবারও একই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
ব্রিটেনের সিদ্ধান্তের আগে থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ছিল। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা হয়। বসতি সম্প্রসারণের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠছে—এমন আশঙ্কা দীর্ঘদিনের।
এই বাস্তবতায় ব্রিটিশ পদক্ষেপকে শুধু বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখলে বিষয়টির পূর্ণ গুরুত্ব বোঝা যাবে না। কারণ কোনো দেশের বসতি থেকে পণ্য আমদানি সীমিত করা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হলেও এর সঙ্গে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও যুক্ত থাকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি অংশ ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি নয়—এই বার্তাই এমন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এবং এসব বসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এর পরদিনই আট মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। ফলে ব্রিটেনের পদক্ষেপটি দ্রুতই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে।
এর আগে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডা যৌথভাবে ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বসতি এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে কানাডা, ফ্রান্স, ব্রিটেনের পাশাপাশি ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনও ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে অবস্থান জানায়।
ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশের এই অবস্থানের সঙ্গে এবার আট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সমর্থন যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুসলিম দেশগুলোর বিবৃতিতে ব্রিটেনের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই সিদ্ধান্ত অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করবে।
কূটনৈতিকভাবে এর অর্থ হলো, ইসরাইলি বসতি প্রশ্নটি কেবল আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্বের সীমার মধ্যে থাকছে না। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রনীতির আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে। কোনো রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করতে পারে—আমিরাতের সাম্প্রতিক অবস্থান সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর আবুধাবি একদিকে তেলআবিবের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ও আরব অবস্থানের সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত রাখার চেষ্টা করেছে। ফলে ইসরাইলি বসতির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করা আমিরাতের জন্য একই সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
তবে এই অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। নিষেধাজ্ঞা তখনই কার্যকর হয়, যখন তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী হয়। কয়েকটি দেশ কোনো নির্দিষ্ট পণ্য আমদানি বন্ধ করলেই বসতি স্থাপন বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে আরও দেশ যদি একই অবস্থান নেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে।
বিশেষ করে বসতির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। কারণ এতে শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয় না, বরং নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও আন্তর্জাতিক বাজারে সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
আট মুসলিম দেশের যৌথ বিবৃতিতে শুধু বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নয়, বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টিকে সামনে এনেছে। অর্থাৎ তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকে কেবল রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।
একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রতি বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া সব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশগুলো। এই বক্তব্যের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ ফুটে উঠেছে।
ফিলিস্তিনিদের জন্য পশ্চিম তীর শুধু একটি ভূখণ্ড নয়; এটি ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্ভাব্য অংশ। সেখানে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি ভূখণ্ডের বিভাজন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বসতি প্রশ্নটি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
অন্যদিকে ইসরাইলের জন্য পশ্চিম তীরে বসতি একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিতর্কের বিষয়। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বসতি সম্প্রসারণকে সমর্থনকারী শক্তিশালী মত রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও বসতি নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
তবু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কারণ একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক বা রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত সেই চাপেরই একটি রূপ।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের সম্ভাবনা। ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর অবস্থান সবসময় এক নয়। বিভিন্ন দেশের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ভিন্ন। তারপরও আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একই বিবৃতিতে বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি অভিন্ন কূটনৈতিক বার্তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, কাতার, মিসর, জর্ডান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশ একই অবস্থানে আসায় এর প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে তারা যদি শুধু বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে বাস্তব নীতিগত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক চাপের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
তবে এর বিপরীতে প্রশ্নও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ কতটা বিস্তৃত হবে, কোন কোন পণ্য এর আওতায় পড়বে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কীভাবে চিহ্নিত হবে এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কী ধরনের নজরদারি থাকবে—এসব বিষয় বাস্তব ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করা কঠিন।
আরেকটি বিষয় হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিকতা। কিছু দেশ নিষেধাজ্ঞা দিলেও অন্য দেশগুলো যদি একই ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যায়, তাহলে তার প্রভাব সীমিত হতে পারে। বিপরীতে আরও বেশি দেশ একই নীতি অনুসরণ করলে ইসরাইলি বসতির সঙ্গে যুক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ইতিমধ্যে বহুস্তরীয় হয়ে উঠেছে। একদিকে ইসরাইলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রীয় অধিকার ও মানবিক সংকট; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি। ফলে কোনো দেশের সিদ্ধান্তকে শুধু একক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা কঠিন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানও সেই জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন। ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেও ইসরাইলি বসতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দেখাচ্ছে যে রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রনীতি সবসময় সরল সমীকরণে চলে না। কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা মানেই প্রতিটি নীতিতে একমত হওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট ইস্যুতে স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভিন্ন নীতি গ্রহণের সুযোগ থাকে।
এখন দেখার বিষয়, ব্রিটেনের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা এবং আট মুসলিম দেশের সমর্থন কতটা বিস্তৃত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে রূপ নেয়। আরও দেশ যদি ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং বসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ইসরাইলের ওপর কূটনৈতিক চাপ নিঃসন্দেহে বাড়বে।
তবে শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ থামছে কি না, নতুন করে ভূখণ্ডের চরিত্র পরিবর্তনের উদ্যোগ বন্ধ হচ্ছে কি না এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে নিষেধাজ্ঞাগুলো কতটা কার্যকর।
ব্রিটেনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আট মুসলিম দেশের যৌথ অবস্থান তাই কেবল একটি কূটনৈতিক বিবৃতি নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বার্তা। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বসতি স্থাপনের প্রশ্নে আপস না করার অবস্থান সামনে এনে দেশগুলো বোঝাতে চেয়েছে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্ন এখনও গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেই রাজনৈতিক বার্তা বাস্তব নীতিতে কতটা রূপ নেয় এবং ইসরাইলি বসতি নীতিতে তার কতটা প্রভাব পড়ে—সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
আপনার মতামত জানানঃ