বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে টিকে থাকতে এখন শুধু কম মজুরির শ্রমশক্তির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই দেশের পোশাক কারখানাগুলো ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের যুগে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার বদলে দিচ্ছে কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপনার পুরোনো চিত্র।
একসময় একটি পোশাক কারখানায় উৎপাদনের অবস্থা জানতে ব্যবস্থাপকদের নির্ভর করতে হতো সুপারভাইজার, লাইন চিফ কিংবা হাতে লেখা হিসাবের ওপর। কোনো মেশিন বন্ধ হয়ে গেলে বা উৎপাদনের গতি কমে গেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসতে সময় লাগত। একটি লাইনে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কোন অপারেটরের উৎপাদন কম, কোন মেশিনে ত্রুটি রয়েছে—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া ছিল কঠিন। এখন প্রযুক্তি সেই ব্যবস্থাকে অনেকটাই পাল্টে দিচ্ছে।
দেশের কয়েকটি বড় পোশাক কারখানায় প্রতিটি সেলাই মেশিনের সঙ্গে আইওটি ডিভাইস যুক্ত করা হয়েছে। এসব ডিভাইস মেশিন থেকে উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারে পাঠায়। ফলে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা রিয়েল-টাইমে দেখতে পারেন কোন মেশিন কতটা উৎপাদন করছে, কোথায় উৎপাদন কমে গেছে এবং কোথায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ধামরাইয়ের স্নোটেক্স গ্রুপ এ ধরনের প্রযুক্তি তুলনামূলক বড় পরিসরে ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটির সব কারখানার প্রায় ১০ হাজার সেলাই মেশিনে আইওটি-ভিত্তিক ডিভাইস ব্যবহারের কথা জানা গেছে। তাদের দাবি, প্রযুক্তি ব্যবহারের পর উৎপাদনশীলতা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থাৎ একই ধরনের উৎপাদন অবকাঠামো ব্যবহার করেও প্রযুক্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অতিরিক্ত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
এখানে প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে তথ্যের গতি। কোনো মেশিনের উৎপাদন কমে গেলে তা কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থায় দ্রুত ধরা পড়ে। কোনো জায়গায় মেশিনের সমস্যা, অপারেটরের ভুল কিংবা উৎপাদন প্রক্রিয়ার অন্য কোনো বাধা থাকলেও তা শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। ফলে একটি মেশিন বা উৎপাদন লাইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার ঝুঁকি কমে আসে।
শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, প্রযুক্তিটি কর্মীদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কোন অপারেটর কত পণ্য তৈরি করছেন, কত সময় মেশিন সচল ছিল, কোথায় উৎপাদন থেমেছে—এসব তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা যায়। কোনো সমস্যা সমাধানের পর সেটিও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সিস্টেমে নথিভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কে সমস্যাটি সমাধান করলেন, কত সময় লাগল এবং একই ধরনের সমস্যা কতবার হয়েছে—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করা যায়।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অ্যাপারেলস ২০২০ সালের শেষ দিকে উৎপাদন পর্যায়ে আইওটি-ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যবহার যে নতুন কোনো ধারণা নয়, বরং কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট হয়।
ময়মনসিংহের ভালুকার স্প্যারো গ্রুপও এ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট সেলাই মেশিনের প্রায় অর্ধেক আইওটি ডিভাইসের আওতায় এসেছে বলে জানা গেছে। তাদের হিসাবে, ম্যানুয়াল ব্যবস্থার তুলনায় উৎপাদনশীলতা প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব সেলাই মেশিনকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই পরিবর্তন শুধু কয়েকটি কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে হচ্ছে। হা-মীম, ডিবিএল, উর্মি ও ফকির ফ্যাশন্সের মতো বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানও ডিজিটাল উৎপাদন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি শিল্পমানদণ্ডে পরিণত হতে পারে।
এর পেছনে মূল কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়। কিন্তু বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা এখন অনেক বেশি কঠিন। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোও উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে দ্রুত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ক্রেতারা একই সঙ্গে কম দাম, উন্নত মান, দ্রুত সরবরাহ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চান। ফলে বাংলাদেশ যদি শুধু শ্রমনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের বক্তব্যও বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে। তাঁর মতে, উৎপাদনশীলতার দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এমনকি কম্বোডিয়ার তুলনায় পিছিয়ে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের দক্ষতার হার যেখানে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ, সেখানে চীন ও ভিয়েতনামে তা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মতো। এই ব্যবধান কমাতে শিল্প খাতে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই।
তবে প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে নতুন কিছু প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য কি শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে? ডিজিটাল মনিটরিং কি কর্মীদের কাজের প্রতিটি মুহূর্তকে অতিরিক্ত নজরদারির মধ্যে নিয়ে আসবে? নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক চাপ কতটা বাড়বে?
শ্রমিক নেতাদের একটি অংশ ইতোমধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার যুক্তি দেখিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের সক্ষমতার তুলনায় বেশি কাজ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে যখন প্রতিটি ঘণ্টার উৎপাদন পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিমাপ করা সম্ভব, তখন শ্রমিকদের ওপর লক্ষ্য পূরণের চাপ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কিছু কারখানায় ইতোমধ্যে ঘণ্টাভিত্তিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্য পূরণ করলে বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নির্দিষ্ট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ বা অতিক্রম করলে শ্রমিকরা অতিরিক্ত অর্থ পাচ্ছেন। আবার উৎপাদনের পাশাপাশি পণ্যের ত্রুটির হারও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এতে শ্রমিকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো শ্রমিকের মাসিক আয় নিয়মিত বেতনের বাইরে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ছে। একজন শ্রমিক জানিয়েছেন, উৎপাদন প্রণোদনার মাধ্যমে তিনি মাসে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। আরেকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কারণে বাড়তি বোনাস পাওয়া যাচ্ছে।
অর্থাৎ প্রযুক্তির প্রভাব একমুখী নয়। এটি যেমন উৎপাদন বাড়াতে পারে, তেমনি শ্রমিকদের আয় বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই সুফল নিশ্চিত করতে হলে প্রণোদনা ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে। শ্রমিকের ওপর বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়ে যদি সেই অনুযায়ী ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেওয়া হয়, তাহলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
কারখানা মালিকদের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য শ্রমিকদের ওপর চাপ বাড়ানো নয়; বরং উৎপাদনের অপচয়, অকার্যকর সময় এবং মেশিনের ডাউনটাইম কমানো। কোনো মেশিন অকারণে বন্ধ থাকলে আগে সেটি শনাক্ত করতে যে সময় লাগত, এখন তা দ্রুত জানা যাচ্ছে। একইভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেটিও দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব। ফলে শ্রমিককে বেশি সময় কাজ করানোর পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মঘণ্টার মধ্যেই উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
এখানে এআইয়ের ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও বড় হতে পারে। বর্তমানে আইওটি ডিভাইসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এআই অনুমান করতে পারবে কোন মেশিনে কখন ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কোন উৎপাদন লাইনে কোথায় bottleneck তৈরি হতে পারে কিংবা কোন পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ শুধু সমস্যা হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, সমস্যা হওয়ার আগেই তা অনুমান করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এটি পোশাকশিল্পে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ একটি বড় কারখানায় কয়েক ঘণ্টার উৎপাদন ব্যাহত হওয়াও বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোনো রপ্তানি আদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় পূর্বাভাসভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতাও বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতের পোশাক কারখানায় শুধু সেলাই জানা যথেষ্ট নাও হতে পারে। মেশিনের ডিজিটাল ইন্টারফেস ব্যবহার, উৎপাদন তথ্য বোঝা, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির সঙ্গে কাজ করা এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার প্রাথমিক সমাধান করার মতো দক্ষতা প্রয়োজন হবে। ফলে শিল্পের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের পাশাপাশি বড় পরিসরে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালানো জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের খরচ। ছোট ও মাঝারি কারখানার পক্ষে প্রতিটি মেশিনে আইওটি ডিভাইস বসানো, সফটওয়্যার তৈরি এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ করা সহজ নয়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে পিছিয়ে পড়তে পারে। ফলে প্রযুক্তিগত বৈষম্যও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে পোশাকশিল্পের ডিজিটাল রূপান্তরকে শুধু কারখানা মালিকের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখলে চলবে না। শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি গ্রহণে সহায়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রযুক্তিকে শ্রমিকের বিকল্প হিসেবে নয়, শ্রমিকের সক্ষমতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একটি কারখানা যদি প্রযুক্তির মাধ্যমে ২৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন করতে পারে, সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের সুফল শ্রমিক, মালিক এবং সামগ্রিক শিল্প—সব পক্ষের মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি শিল্পের উৎপাদন কাঠামো পাল্টে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের নেই।
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করবে। শুধু মেশিনে ডিভাইস বসানো কিংবা কেন্দ্রীয় স্ক্রিনে উৎপাদনের তথ্য দেখাই ডিজিটাল রূপান্তর নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, সঠিক ব্যবস্থাপনা, তথ্যের কার্যকর ব্যবহার, শ্রমিকবান্ধব নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
বাংলাদেশ যদি এসব বিষয় সমন্বিতভাবে করতে পারে, তাহলে এআই ও আইওটি দেশের পোশাকশিল্পের জন্য শুধু উৎপাদন বাড়ানোর প্রযুক্তি হবে না; বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন অবস্থান তৈরি করার শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। আর যদি প্রযুক্তির সুফল কেবল উৎপাদন বাড়ানো ও শ্রমিকের ওপর নজরদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে তৈরি হতে পারে নতুন ধরনের বৈষম্য।
তাই ভবিষ্যতের পোশাক কারখানার সাফল্যের হিসাব শুধু কত পিস পোশাক উৎপাদন হলো, তা দিয়ে হবে না। দেখতে হবে সেই উৎপাদন কতটা দক্ষ, কতটা টেকসই, কতটা প্রযুক্তিনির্ভর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে—কতটা মানবিক। প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের দক্ষতা ও অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প পরবর্তী প্রজন্মের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারবে।
আপনার মতামত জানানঃ