দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬–এ ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ, আর সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বেতন একবারে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খবরটি নিঃসন্দেহে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আগের বেতন কাঠামোর পুরোনো হিসাব নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের দাবি ছিল। ২০১৫ সালের পর নতুন কোনো জাতীয় বেতনস্কেল না হওয়ায় এই দাবির পেছনে বাস্তব কারণও ছিল। এক দশকের বেশি সময়ে খাবার, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত—প্রায় প্রতিটি খাতেই ব্যয় বেড়েছে। ফলে পুরোনো বেতন কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল একজন সরকারি কর্মচারীর প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু এখানেই আলোচনাটি থেমে গেলে বড় একটি প্রশ্ন অনুত্তরিত থেকে যায়। সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ছে, কিন্তু একই মূল্যস্ফীতির বাজারে যারা সরকারি চাকরির বাইরে রয়েছেন, তাদের আয় বাড়ছে কীভাবে? একজন বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার, পরিবহন শ্রমিক, কারখানার কর্মী, কৃষক, দিনমজুর কিংবা স্বল্প আয়ের পরিবারের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় তো সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় কম নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের আয় অনিশ্চিত, চাকরির নিরাপত্তা কম এবং সামাজিক সুরক্ষাও সীমিত।
এই জায়গাতেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে ‘ন্যায্যতা’র প্রশ্নটি সামনে আসে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিজে অন্যায় নয়। বরং রাষ্ট্রের কর্মচারীরা যাতে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন, দুর্নীতির প্রলোভন কমে, দক্ষ জনবল সরকারি সেবায় থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ে—এসব বিবেচনায় যৌক্তিক বেতন কাঠামো প্রয়োজন। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু সরকারি কর্মচারীদের আয় নিশ্চিত করা নয়; একই সঙ্গে পুরো জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এখানে বৈষম্যের প্রশ্নটি তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ধরা যাক, একজন সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন নতুন কাঠামোর ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেল। তার সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও সময়ের সঙ্গে সমন্বয় হবে। অন্যদিকে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী একই সময়ে বাজারে গিয়ে দেখছেন চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি, বাসাভাড়া, সন্তানের স্কুল-কলেজের খরচ, চিকিৎসা এবং যাতায়াত—সবকিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু তার বেতন হয়তো বছরে একবার সামান্য বাড়ে, কখনো সেটিও বাড়ে না। চাকরি হারানোর ভয়ও থাকে।
তাহলে একই অর্থনীতিতে দুজন মানুষের বাস্তব অবস্থার পার্থক্য আরও বাড়তে পারে।
এই আশঙ্কা একেবারে অনুমাননির্ভরও নয়। পে-স্কেল ঘোষণার আগেই সরকারের প্রধান সচিব সতর্ক করেছিলেন যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনীতির সহজ নিয়ম হলো—অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ বাড়লে এবং তার সঙ্গে পণ্য ও সেবার সরবরাহ একই হারে না বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই নতুন বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এতে বাজেটের ওপর চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
কিন্তু এখানেও একটি মৌলিক প্রশ্ন আছে—মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি যদি থাকে, তাহলে তার প্রভাব কে বহন করবে?
সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়লে তিনি অন্তত কিছুটা হলেও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা পান। কিন্তু যাদের আয় একই জায়গায় থাকে, তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির আঘাত সরাসরি পড়ে। অর্থাৎ একজনের বেতন বৃদ্ধি অন্যজনের বাস্তব আয় কমিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা হয়েছে—বৃদ্ধি ১৪২ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে বৃদ্ধি ১০০ শতাংশ। সরকার বলছে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও আগের ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলকভাবে বেশি হারে বেতন বাড়িয়ে বেতন বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এই দিকটি অবশ্যই ইতিবাচক। একজন নিম্ন বেতনভোগী সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ানো সামাজিক ন্যায্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ন্যায্যতার সীমা কি শুধু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেই থাকবে?
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বড় অংশই সরকারি চাকরির বাইরে। বেসরকারি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, কৃষি, পরিবহন, নির্মাণ, পোশাকশিল্প, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজার—সব মিলিয়ে কোটি কোটি মানুষ রাষ্ট্রের বেতন কাঠামোর বাইরে থেকে জীবন চালান। তাদের জন্য কোনো জাতীয় বেতনস্কেল নেই। একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে কমিশন বসে, পর্যালোচনা হয়, গ্রেড নির্ধারণ হয়, ভাতা ঠিক হয়। কিন্তু একজন বেসরকারি কর্মীর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে তার বেতন কতটা বাড়বে—তার কোনো সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা নেই।
এখানেই সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য।
রাষ্ট্র যদি সরকারি কর্মচারীদের জন্য মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো তৈরি করতে পারে, তাহলে বেসরকারি ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্যও কেন একটি শক্তিশালী আয়-সুরক্ষা কাঠামো থাকবে না?
এ প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আমরা মধ্যবিত্তের দিকে তাকাই। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি অদৃশ্য চাপের মধ্যে আছে। তাদের আয় অনেক সময় এত বেশি নয় যে সব ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সহজে সামলাতে পারে, আবার এত কমও নয় যে নিয়মিত সরকারি সহায়তার আওতায় আসবে। সন্তানের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া বা গৃহঋণ, চিকিৎসা, পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের খরচ, পরিবহন এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়—সবকিছুর ভার একই আয়ের ওপর।
এই শ্রেণির মানুষের জন্য বেতন বৃদ্ধির কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই। কিন্তু মূল্যস্ফীতি তাদের জন্য স্বয়ংক্রিয়।
তাই নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রশ্ন সম্ভবত বেতন কত বাড়ল—তা নয়; বরং এই বেতন বৃদ্ধির অর্থনৈতিক ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে।
কারণ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর টাকা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকেই আসে। বাজেটের আয় আসে কর, শুল্ক, ভ্যাট, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আয়, ঋণ এবং অন্যান্য উৎস থেকে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশের অর্থনৈতিক বোঝা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের ওপর পড়তে পারে। যদি সেই ব্যয় মেটাতে কর বাড়ে, ভ্যাটের চাপ বাড়ে কিংবা সরকার বেশি ঋণ নেয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকও তার প্রভাব অনুভব করতে পারেন।
অবশ্য এটাও সত্য, সরকারি কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধি পুরো অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াতে পারে। তারা বেশি ব্যয় করলে বাজারে ব্যবসা বাড়তে পারে, পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসতে পারে। অর্থাৎ বেতন বৃদ্ধি শুধু ব্যয় নয়; সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এটি অর্থনীতিতে চাহিদা ও উৎপাদন বাড়ানোর হাতিয়ারও হতে পারে।
কিন্তু এর জন্য একটি শর্ত আছে—সরবরাহও বাড়াতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ল, কিন্তু বাজারে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবহনের সরবরাহ যদি সেই হারে না বাড়ে, তাহলে বাড়তি আয়ের বড় অংশই মূল্যবৃদ্ধিতে শুষে নিতে পারে। তখন কাগজে বেতন দ্বিগুণ হলেও বাস্তব জীবনযাত্রার মান দ্বিগুণ হবে না।
এ কারণেই নতুন পে-স্কেলকে শুধু ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি’ হিসেবে দেখলে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এটিকে দেখতে হবে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্যাকেজ হিসেবে—যেখানে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, করব্যবস্থা, বেসরকারি খাতের মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষ করে বেসরকারি খাতের জন্য একটি নীতিগত প্রশ্ন এখন সামনে আনা জরুরি। সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণে নীতিমালা করা যায় কি না, তা ভাবতে হবে। ন্যূনতম মজুরি শুধু কয়েকটি শিল্পখাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন খাতে বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় কি না, সেটিও আলোচনায় আসা উচিত।
কারণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন কত বেড়েছে, তা নয়। একজন সাধারণ মানুষ মাস শেষে তার আয় দিয়ে কতটা স্বস্তিতে জীবন চালাতে পারছেন—সেটিই বড় প্রশ্ন।
নতুন পে-স্কেলের আরেকটি শিক্ষা হলো, রাষ্ট্র যখন একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের আয় সমন্বয় করে, তখন অন্য শ্রেণিগুলোর ওপর তার প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়। সরকারি কর্মচারীরা যদি তুলনামূলকভাবে বেশি আয় পান, তাহলে বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হতে পারে। সেই চাহিদার সঙ্গে যদি উৎপাদন ও সরবরাহ না বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের ওপর ছড়িয়ে পড়বে। আর মূল্যস্ফীতি যখন সবার জন্য সমান, তখন আয় বৃদ্ধির সুযোগ সবার জন্য সমান না হলে বৈষম্য আরও দৃশ্যমান হয়।
তাই নতুন পে-স্কেলকে একেবারে ‘অন্যায়’ বলে বাতিল করে দেওয়াও সঠিক নয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের বাস্তব প্রয়োজন ছিল। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেশি হারে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও সামাজিক ন্যায্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যদি এই পরিবর্তনের সুফল থেকে দূরে থাকে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বহন করতে বাধ্য হয়, তাহলে সামগ্রিক ন্যায্যতার প্রশ্ন থেকেই যাবে।
সবচেয়ে প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নীতি। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে, কিন্তু তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং নিম্ন-মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে হবে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। একই সঙ্গে করব্যবস্থায় ন্যায্যতা আনতে হবে, যাতে নতুন ব্যয়ের ভার সবচেয়ে দুর্বল মানুষের কাঁধে না পড়ে।
কারণ একজন সরকারি কর্মচারীও এই দেশের নাগরিক, তার ন্যায্য বেতন পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু একইভাবে একজন বেসরকারি কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারেরও ন্যায্য জীবনযাপনের অধিকার আছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো উচিত কি না’—এখানে আটকে থাকা উচিত নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, রাষ্ট্র কি এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করতে পারছে, যেখানে শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি নয়, আয় করা প্রতিটি মানুষ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার মতো নিরাপত্তা পায়?
নতুন পে-স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। এখন রাষ্ট্রের সামনে আরও বড় পরীক্ষা—এই বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে যেন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় না বাড়ে, মধ্যবিত্ত যেন আরও চাপে না পড়ে এবং বেসরকারি ও নিম্নআয়ের মানুষ যেন নিজেদের অর্থনীতিতে আরও পিছিয়ে পড়া মনে না করেন।
কারণ একটি রাষ্ট্রের ন্যায্যতা শুধু তার সরকারি কর্মচারীর বেতন দিয়ে মাপা যায় না। ন্যায্যতা মাপা হয় সেই রাষ্ট্রের সবচেয়ে সাধারণ মানুষটির জীবন কতটা নিরাপদ, সচ্ছল ও মর্যাদাপূর্ণ—তা দিয়ে।
আপনার মতামত জানানঃ