Trial Run

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ‘শিশু বক্তা’, মুক্তি না দিলে কর্মসূচির হুমকি হেফাজতের

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ‘শিশুবক্তা’ খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নেত্রকোনার নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার (৭ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মঈন হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সকাল থেকেই হেফাজতে ইসলামের বেশকিছু কর্মী ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়ে গেছে। তার মুক্তি চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়।

রফিকুল ইসলাম, তিনি ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন। ওয়াজে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়াসহ নানা কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইসলামিক বক্তা গণমাধ্যমকে বলেন, রফিকুল ইসলাম বরাবরই আলোচিত হওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য ওয়াজ মাহফিলে প্রাসঙ্গিক নয় এমন বক্তব্য দেন। তার মধ্যে ভাইরাল হওয়ার এক ধরনের প্রবণতা আছে।

রফিকুল ইসলাম দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন রাজধানীর জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদ্রাসায়। একইসঙ্গে তিনি বিএনপি জামায়াত জোটের শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গ সংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জেলার সহ-সভাপতি। ‘শিশু বক্তা’ হিসাবে পরিচিত হলেও আসলেই তিনি শিশু নন।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের বয়স প্রায় ২৬ বছর। নিজের নামের সঙ্গে ‘শিশু বক্তা’ শব্দটি ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম নিজেই। বিভিন্ন সময়ে ওয়াজে তার নামের সঙ্গে ‘শিশু বক্তা‘ ব্যবহার না করার অনুরোধও করেন তিনি।

তার ওয়াজে নিজের বয়স সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৫ সালের শেষের দিকে আমার জন্ম। এখনও আমাকে শিশু বক্তা বানিয়ে রাখবেন কেন? আমি ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতে পড়াশোনা করেছি। তারপর ক্লাস সিক্স পর্যন্ত স্কুলে পড়েছি। এরপর মাদ্রাসায় ভর্তি হই। নূরানিতে পড়েছি এক বছর। আল্লাহ রহমতে দুই বছরে হেফজ শেষ করেছি। এখানে তিন বছর, আগের ১২ বছর মোট হলো ১৫ বছর। এরপর আট বছর কিতাবখানায় পড়েছি।’

জানা গেছে, মাদ্রাসার ছাত্র থাকাকালীন বিভিন্ন মাহফিলে ওয়াজ করতেন রফিকুল। শিশু বক্তা হিসেবে খ্যাত রফিকুল ইসলাম বরাবরই ওয়াজে অপ্রাসঙ্গিক, বিতর্কিত বক্তব্য রেখে সমালোচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহার করায় রফিকুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মদিনা শাখার আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। সাধারণত সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা পড়াশোনা করেন তারা নামের সঙ্গে ‘মাদানী’ যুক্ত করেন।

জানা গেছে, শারীরিক আকৃতিতে ছোট হওয়ায় তাকে এখনও ‘শিশু বক্তা’ বলা হয়। আবার অনেক জায়গায় ওয়াজ মাহফিলে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করতে তার নামের সঙ্গে ‘শিশু বক্তা’ যুক্ত করা হয়। নেত্রকোনায় পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদ্রাসার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন রফিকুল ইসলাম।

র‌্যাব মুখপাত্র কমান্ডার আল মইন বলছেন, “তার আসল বয়সটা আমাদের জানা নেই। তবে তিনি বয়সে শিশু নন, তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। ইউটিউবে তার কয়েকটি ওয়াজের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি তার নামের সাথে ‘শিশু বক্তা’ যোগ করার প্রতিবাদ করেন এবং নিজেকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দাবি করেন। তাকে তার অনুসারীরা রফিকুল ইসলাম মাদানী নামে সম্বোধন করেন।

আল মইন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া সহিংসতার প্রেক্ষিতে রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন জায়গায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। সেসব বক্তব্যের কারণে তাকে আটক করা হয়েছে”।

এর আগে ২৫শে মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভের সময় পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, মাদানীকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার প্রতিবাদে বুধবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে নেত্রকোনা প্রেস ক্লাব ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেন হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতারা। এসময় তারা মাদানীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করে বলেন, তাকে মুক্তি না দেয়া হলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

রফিকুল ইসলাম মাদানীর বড় ভাই রমজান মিয়া জানান, মাদানী মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ধর্মীয় সভা করে নিজ বাড়ি আসেন। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে যান। রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে র‌্যাব পরিচয়ে কিছু লোক প্রায় ১৯টি গাড়ি নিয়ে তাদের বাড়ি ঘেরাও করেন। পরে রফিকুল ইসলাম মাদানী, তার বড় ভাই বকুল মিয়া (৩৭) ও তার দূর সম্পর্কের ভাতিজা এনামুল হককে (২৮) তুলে নেয়া হয়। পরে বকুল মিয়াকে ওই রাতে ছেড়ে দিলেও অন্যদের আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

রমজান মিয়ার দাবি, এসময় মাদানীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনসহ তাদের পরিবারের ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করে নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফোনগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা শহরের মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর কাইয়ুম, হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা আসাদুর রহমান আকন্দ, মাওলানা তোবাইদ কাসেমী, আতাউর রহমান, গাজী আব্দুর রহিম, মাদানীর বড় ভাই রমজান মিয়া, চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম প্রমুখ। হেফাজতের নেতারা জানান, রফিকুল ইসলাম মাদানীও তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/২০০৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ