Trial Run

হেফাজতে ইসলামকে কড়া হুঁশিয়ারি কাদের ও নওফেলের

ফাইল ছবি: সংগৃহীত

মোদী বিরোধী আন্দোলনে হেফাজতে ইসলামের ব্যাপক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামকে হুঁশিয়ার করে দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে নিজ সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সে আগুনে আপনাদের হাত পুড়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘যারা দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছে বা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সতর্ক করছি। দেশের জনগণের ধৈর্য ও সহনশীলতার একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, হেফাজতে ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি এবং শান্তি বিনষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, তা সহনশীলতার সব মাত্রা অতিক্রম করেছে। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে শেখ হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে জমি-জমার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, খতিয়ান, নামজারি রেকর্ড পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আঘাত আসলে প্রতিঘাত করতে জানে এবং আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণও করতে জানে।’

কঠোর হুঁশিয়ার করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেবেন না, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর অবমাননা জাতি আর সহ্য করবে না। বঙ্গবন্ধুর ছবি ও ভাস্কর্যের ওপর যারা হামলা করেছে, আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের এ ধৃষ্টতার জবাব দিবে।’

ওবায়দুল কাদের সারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আগুন সন্ত্রাস ও অশুভ শক্তিকে প্রতিহত ও পরাজিত করতে হবে।’

এদিকে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনটির নেতাদের হুঁশিয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত সরকার কাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনের অধীনে না আসলে, মামুনুল হকদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে তা আমাদের জানা আছে।

নওফেল আর বলেন, খেলাফতে মজলিশ নামক দলের এক নেতা এই ‘কুলাঙ্গার’ মামুনুল হকের পক্ষে যেভাবে সাফাই গাইলো, এতে বোঝা যায় দ্বীনে ইসলাম শুধুই এদের বেঁচে থাকার জন্য একটি মাধ্যম। ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মনে রাখা প্রয়োজন স্বাধীনতা যুদ্ধে এই দেশের জনগণ এদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘এদের ছাড়াই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। কিছু এতিম শিশুদের রাখে বলে এরা অনেকের সহানুভূতি পায়।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপমানিত করার পর থেকে, এদের স্পর্ধার শুরু। এখন ১৭টি লাশের ওপর চলছে এদের ‘রিফ্রেশমেন্ট’। জীবন।

‘বঙ্গবন্ধুর ছবিতে হাত যারা দিয়েছে, এদের একটা একটা করে ধরে আনা হবে। আইনের সম্মুখীন করা হবে। সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সর্ব পর্যায়ে এই ‘কাঠমোল্লা গোষ্ঠীকে’ প্রতিহত করতে হবে,’ যোগ করেন নওফেল।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বানের জলে ভেসে আসে নাই। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি করতে চায় করবে, কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালানোর পরিণাম এদের বোঝাতে হবে। আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি-জামাত ছাড় পায় নাই। এই ‘ধর্ম ব্যবসায়ীরাও’ ছাড় পাবে না। ইনশাল্লাহ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাঠে আওয়ামী লীগের নেতারা হেফাজতের বিরুদ্ধে যতই জোশ দেখান না কেন, তলে–তলে আপসের রাস্তাও খোলা রেখেছেন। তারা কখনো চাইবেন না হেফাজত ফের বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ব্রাকেটবন্দী হোক।

তারা বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে শাসকরা নিজেদের শ্রেণিস্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করেছে– যখন প্রয়োজন হয়েছে তখন– সেটা মধ্যযুগ থেকে শুরু করে এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত। আমাদের উপমহাদেশে মানুষের নিজস্ব ধর্মীয় আবেগ কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। যে কোনো আন্দোলন সংস্কারে ধর্মের ব্যবহারের রেওয়াজের ইতিহাসও বেশ পুরনো।

এই হাইটেক যুগেও রাজনীতিবিদরা রাজনীতির ধর্মীয়করণ কিংবা রাজনীতিতে ধর্ম এনে জনসাধারণের চিন্তা-চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের রাজপথে এনেছেন বার বার– নিজেরা ক্ষমতায় আরোহণের জন্য কিংবা ক্ষমতা থেকে বিরোধীদের নামাতে।

তারা মনে করেন, হেফাজতকে ব্যবহার করে ধর্মভিত্তিক ভোটের রাজনীতিতে মশগুল আওয়ামী নেতাকর্মীরা হেফাজতের বিরুদ্ধে যতই কথা বলুক না কেন, তারা চাইবে না হেফাজতের ভোট বিএনপি জামাতে গিয়ে পড়ুক। হেফাজতকে প্রশ্রয় দিয়ে আওয়ামী লীগই এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে, সুবিধা ভোগ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও তলে তলে সম্পর্ক ধরে রাখছে ঠিকই।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৬৫১ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 126
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    126
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ