Trial Run

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ভোটযুদ্ধে মমতার কাঁধে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি

ছবি: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিশেষ প্রতিনিধি : পশ্চিমবঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে আট দফায় বিধানসভা ভোট হবে। আসন সংখ্যা ২৯৪ টি। ভোট চলবে ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল অব্দি এবং ফলাফল প্রকাশ হবে ২ মে। প্রথম পর্বের ভোট হবে ২৭ মার্চ। তারপর ১ এপ্রিল, ৬ এপ্রিল, ১০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল, ২২ এপ্রিল, ২৬ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। কলকাতার ভোট হবে দুই দফায়। ২৬ এপ্রিল দক্ষিণ কলকাতার ভোট। ২৯ এপ্রিল উত্তর কলকাতার ভোট। ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২ মে। 

গতবার ভোট হয়েছিল ৭ দফায়। ধারণা করা হচ্ছে, চলমান মহামারীর জন্য দফা বাড়ানো হয়েছে। যদিও ১০ দফায় ভোট করার জন্য আগে থেকেই দাবি জানিয়েছিল বিজেপি। 

সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। 

  • ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। 
  • বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করার সময় প্রার্থী সহ পাঁচজন যেতে পারবেন। 
  • পথসভার ক্ষেত্রে পাঁচটির বেশি গাড়ি থাকবে না। 
  • প্রার্থীরা অনলাইন ফর্ম ভরতে পারবেন।  
  • যদি প্রার্থী নিজে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে চান, তা হলে তাঁর সঙ্গে দুই জনের বেশি সঙ্গী থাকতে পারবেন না। 
  • নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সব কর্মীকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। 
  • বুথের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বাড়ানো হবে। 
  • ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।

মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জানিয়েছেন, স্পর্শকাতর নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে প্রচুর নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ভিডিওগ্রাফির ব্যবস্থাও থাকবে। উপযুক্ত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। যারা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত, তারা প্রার্থী হতে চাইলে কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে মামলার কথা জানাতে হবে।

আট দফায় ভোট গ্রহণ নিয়ে অসন্তোষ

তৃণমূল আট দফায় ভোট হওয়ায় স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘আট পর্বের নির্বাচন কাকে সুবিধা করে দেয়ার জন্য? আমি বিজেপি সূত্রে যা জেনেছি, তা হলো, বিজেপি যা ঠিক করে দিয়েছে, সেই ভাবেই ভোট হচ্ছে। বিহারে যদি কম পর্বে ভোট করা হয়, কেরালা, তামিলনাড়ুতে যদি এক পর্বে ভোট করা হয় তো পশ্চিমবঙ্গে কেন আট পর্বে।’ 

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘যে সব জেলায় তৃণমূলের প্রভাব বেশি, সেই সব জেলায় দুই থেকে তিন পর্বে ভোট করা হচ্ছে। আমি বাংলার মেয়ে। বাংলাকে ভালো করে চিনি। বিজেপি যা খুশি করতে পারে, সব চক্রান্ত ভেঙে দেব। বাংলার মানুষ বাংলা শাসন করবে। নির্বাচন কমিশনকে বলব, বিজেপির চোখ দিয়ে বাংলাকে দেখবেন না।’   

যদিও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এতগুলি পর্ব জরুরি ছিল বলে মনে করছে বিজেপি।

আত্মবিশ্বাসী মমতা 

এবারের নির্বাচনে বিজেপিকেই মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন মমতা। এদিকে নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতার দলত্যাগ করেছেন। যদিও জয় নিয়ে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী মমতা। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৃণমূল নেতা মমতা জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি ১১০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী। এছাড়াও তার দল কমপক্ষে ২২১টি আসনে জয় পাবে বলে দাবি করে তিনি।

সাক্ষাৎকারে বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) কখনই জাতি কিংবা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দেখেনি। বিজেপিই এটা শুরু করেছে। বিজেপি মানুষের মধ্যে ধর্ম ও জাত ঢুকিয়ে একে অন্যের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি করেছে।’

মোদিকে ‘দাঙ্গাবাজ’ এবং ‘দৈত্য’ বলে আখ্যা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র কঠোর সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘দাঙ্গাবাজ’ এবং ‘দৈত্য’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গত নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজিত হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে মোদির জন্য।

কলকাতার কাছে হুগলিতে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের সবচেয়ে বড় দাঙ্গাবাজ।’ মোদির জন্য ট্রাম্পের চেয়ে খারাপ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে দাবি করে মমতা বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনে আমি থাকবো গোলকিপার আর বিজেপি একটা গোলও করতে পারবে না।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ দেশ চালাচ্ছে এক দৈত্য আর এক দানব। তারা আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা অনুপ্রবেশ করবে। বাংলা দখল করবে। আপনারা কী চান? বাংলা বাংলাই থাকবে নাকি বিজেপির মতো চলবে? গুজরাট বাংলা শাসন করবে না।’

বাংলায় বিভেদ তৈরি করছে বিজেপি 

বাঙালিদের মধ্যেও বিজেপি বিভেদ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তারা কাউকে বাংলাদেশি আবার কাউকে বিহারি বলে বাঙালিদেরকে বিভক্ত করেছে। ভাষা নিয়েও বিভক্তি তৈরি করা হচ্ছে।’

মমতার বলেন, ‘বিজেপি এমন করছে, কারণ উন্নয়নের বিবেচনায় যদি ভোট হয়, তাহলে বিজেপি জানে তারা হেরে যাবে।’

এ সময় তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রতিদিন তাদের লোকেরা গুণ্ডামো করছে। আয়কর ও সিবিআই-এর নামে ভয় দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি তৃণমূলকে ধ্বংস করবেন বলেছেন। তিনি (অমিত শাহ) কী ভাবেন? আমি কি তার বন্ডেড শ্রমিক না চাকর?’

বিজেপি জিতলে সীমান্ত দিয়ে পাখিও ঢুকতে পারবে না

অমিত শাহ কিছুদিন পরপরই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন। বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেতে কোমর বেঁধেই মাঠে নেমেছে নরেন্দ্র মোদির দল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন না করা পর্যন্ত বিজেপি বিশ্রাম নেবে না।

অমিত শাহ বলেন, এই ‘যুদ্ধ’ কেবল মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, রাজ্যটিকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যেও।

কোচবিহার ও ঠাকুরনগরের দুই জনসভা থেকে অমিত শাহ দাবি করেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে ‘কোনও মানুষ দূরে থাক, একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না।’

এ প্রসংগে তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশ নিয়ে আপনারা বিরক্ত কি না বলুন? আর মমতা ব্যানার্জি কি আদৌ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারবেন? জেনে রাখুন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে তবেই কেবল অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। বিজেপি সরকার গড়লে সীমান্ত দিয়ে মানুষ তো দূরে থাক, একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না দেখে নেবেন।’

অমিত শাহের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল বলছে, অমিত শাহ’র এই বক্তব্য পুরোপুরিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে এমপি মানসরঞ্জন ভুঁইঞা বিবিসি বাংলাকে জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দেখাশোনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। বাইরের দেশ থেকে যারা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকবেন, তাদের বাধা দেওয়া বা তাদের ওপর নজরদারি করার দায়িত্ব বিএসএফের – যারা কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনী। এখানে অনুপ্রবেশের জন্য মমতা ব্যানার্জির সরকারের দোষ হয় কী করে?

কংগ্রেসের সঙ্গে বামফ্রন্টের জটিলতা

কংগ্রেসের সঙ্গে বামফ্রন্টের অন্য দলের মধ্যে জোট নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যদি সিপিএমের সমঝোতা ঠিক আছে দলটির সঙ্গে। জোট নীতিমালা নিয়ে আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে কংগ্রেসের জটিলতা আছে। যদিও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী সিপিএম ও সিপিআই।

এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করেই আলাদা নির্বাচন করছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। মূলত তৃণমূলের ভোটেই তারা ভাগ বসাবে বলে দাবি করেন তিনি।

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস যদি সত্যিই বিজেপিবিরোধী শক্তি হয় তবে তাদের তৃণমূলের পেছনে দাঁড়ানো উচিত, কারণ এটিই একমাত্র দল যা বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

মমতাকে উৎখাত করার ডাক

ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জিরো’ করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দানে বক্তব্য রাখার সময়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি বলেন, ‘যেখানে যেখানে বাম শরীকদল প্রার্থী দেবে আগামী নির্বাচনে মাতৃভূমিকে রক্ত দিয়ে হলেও স্বাধীন করব। বামপন্থিরা ও শরীক দল যেখানে যেখানে প্রার্থী দেবে সেখানেই আমরা তাদেরকে জয়ী করে আগামীদিনে  বিজেপি সরকার ও বিজেপি সরকারের বি টিম মমতাকে আমরা বাংলা থেকে উৎখাত করে ছাড়ব।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলার স্বাধীনতাকে কেড়েছে এই মমতা। বাংলার নারীদের অধিকার কেড়েছে মমতা। একটা ‘রেপ’-এর জন্য ২ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছেন মমতা। আন এডেড মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, পার্শ্ব শিক্ষক-শিক্ষিকা, সিভিক ভলেন্টিয়ার, পুলিশ কর্মী সবাই মমতার আমলে বিপদে রয়েছে। ওর দাদাগিরিতে কেউ কথা বলতে পারে না। একমাত্র এই বাঘের বাচ্চা কথা বলে। ওঁদেরকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলাম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামীদিনে মমতাকে ‘জিরো’ করে আমরা দেখিয়ে দেবো।’

তৃণমূলের কাঁধে নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি-কংগ্রেস

২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোট পায় বিজেপি। ফলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়। ওই নির্বাচনই মূলত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে জয় পেতে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণায়ও নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পায় বিজেপি। এদিকে অমিত শাহ কিছুদিন পরপরই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন।

এছাড়া কংগ্রেস ও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টেরও ভোটার আছে। পশ্চিমবঙ্গে যারা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ কিংবা বিজেপির হিন্দুত্ববাদ বিরোধী তাদের কেউই বিজেপিতে ভোট দেবে না। এখানে তাদের বিকল্প হলো তৃণমূল কিংবা কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোট। ফলে একটা বড় অংশের ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যা বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হবে।  

আসাদউদ্দিন ওয়াইসী

একজন আঞ্চলিক নেতা থেকে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসী। দক্ষিণের হায়দারাবাদ থেকে উত্তরের বিহার হয়ে পূর্বের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছেন মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসী। আসন্ন নির্বাচনে তিনি হয়ে উঠেছেন ‘এক্স ফ্যাক্টর’। 

ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াইসীত উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন ২০২১ সালের বিধান সভা ভোটের চেহারা বদলে যাবে। ফায়দা লুটবে বিজেপি। মুসলিম ভোট পেয়ে অতীতে যারা সহজে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা এবার সুযোগ হারাবেন। 

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার বিকল্প নেই। পাশাপাশি ওয়াইসীর পক্ষে সংগঠিত মুসলিম ভোটারদের কার্যকরভাবে আসন বণ্টনের নিরিখে খুশি করেই কিছু করতে হবে। সাম্প্রদায়িকতার ভয় দেখিয়ে বা বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে এবার সম্ভবত মুসলিম ভোট হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। আর এতে কপাল পুড়বে তৃণমূলের।

ভোটযুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণ

এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৩০ ভাগ ভোটার মুসলমান। তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এবার বিধানসভা নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মুসলিম ভোট।

ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনে যেই জিতুক, ব্যবধান হবে অল্প। ফলে, ২৭ থেকে ৩০ ভাগ মুসলিম ভোটকে এখানে ফলাফল নির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই তিন জেলা মিলে বিধানসভায় আসন আছে ৪৪টি। এর বাইরে অন্তত সাতটি জেলায় সংখ্যালঘুর ভোটের সংখ্যা বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০টি জেলায় ১৫০টি আসনে মুসলিম ভোটাররা নির্বাচনের ফলে প্রভাব রাখবে।

লোকনীতি নামের একটি সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের লোকসভার নির্বাচনে রাজ্যে মুসলিম ভোটের ৪০ ভাগ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। ২০১৯ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭০ ভাগ অর্থাৎ মুসলিমদের ভোট তৃণমূলের দিকে কিছুটা বেড়েছে।

ফলে, আব্বাস সিদ্দিকী কিংবা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির পৃথক নির্বাচন মানেই তৃণমূলের অন্তত দুই ডজন আসন অনিশ্চয়তায় পড়া।

তৃণমূলের কাছে মুসলিম ভোট গুরুত্বপূর্ণ হবার কারণে হিন্দুদের মধ্যে দলটির জনপ্রিয়তা কমেছে। এরই সুবিধা নিচ্ছে বিজেপি। ২০১৪ সালে লোকসভায় বিজেপি হিন্দু ভোটের ২১ ভাগ পায়, ২০১৯ সালে পেয়েছে ৫৭ ভাগ।

নিজের জন্য গর্ত খুঁড়েছিলেন খোদ মমতাই

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে প্রথম এনেছিলেন খোদ মমতা। বিজেপির সাথে জোট গড়ে লড়েছিলেন তিনি। বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলও এমনই। বিভিন্ন রাজ্যের কোন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে মিশে মাঠে অবতীর্ণ হয়ে দ্রুত দলীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করা দলটির লক্ষ্য। বিহারে নীতীশকুমারের সঙ্গে মাঠে নেমে এখন সেখানে একক বৃহত্তর দল বিজেপি।  

যে মমতা বিজেপিকে রাজ্যে এনেছিলেন, সে বিজেপিই এখন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মসনদ দখল করতে চায়। আর বাম-কংগ্রেস জোট মমতাকে হটাতে গিয়ে যদি পথ করে দেয় বিজেপিকে তাহলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা এবং বর্ধমানের মতো অঞ্চলগুলোতে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও একের পর এক নেতাকর্মীদের দলত্যাগ ও বিজেপিতে যোগদান তৃণমূলের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে করে তুলেছে। তাছাড়া বিজেপি সরকার কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকায় প্রচারণার ক্ষেত্রে তারা বেশ কিছু সুবিধাও পাচ্ছেন। তবে বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করে, তবে তা সম্ভব হবে মমতা, বাম ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগত ভুলের কারণে।

এসডব্লিউ/এসএস/১৬১৭ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 105
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    105
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ