Trial Run

বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : বণিক বার্তা

পাঁচ তারকা হোটেল সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের ব্যবসা ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ ও প্রতিবেদক মেহেদী হাসান রাহাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ।

গত ১৩ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার বণিক বার্তার প্রথম পাতায় ‘রয়েল টিউলিপে বিনিয়োগ করে বিপাকে আইসিবি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনে রয়েল টিউলিপ হোটেলের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিকে বন্ডের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিকমানের পাঁচতারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ এনে সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা রুজু করেছেন রয়েল টিউলিপের পক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান ।

আইনজীবীর শুনানির পর পেনাল কোডের ৫০০/৫০১ ধারায় মামলাটি আমলে নেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল হাই। সেই সঙ্গে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য মামলার আসামি দৈনিক বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ ও প্রতিবেদক মেহেদী হাসান রাহাতের প্রতি আদালত সমন জারি করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পীযূষ কান্তি সরকার।

মামলার কৌশলী অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি সরকার জানান, আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে দেশে ও বিদেশে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুল হক শামীম একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সিআইপি।

কক্সবাজারের ইনানী বিচে পাঁচ তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। হোটেলটির চেয়ারম্যান লুসি আখতারি মহল। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তার স্বামী মো. আমিনুল হক। তিনি সান শাইন অ্যাপারেলস ঢাকা এবং তিন তারকা হোটেল সি ক্রাউনেরও চেয়ারম্যান।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ লিমিটেড (আইসিবি) ২০১৭ সালে বন্ডের মাধ্যমে রয়েল টিউলিপ নামে পরিচিত সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডে ৩২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এ অর্থ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি হোটেলটির নির্মাণকাজে ব্যয় করা হয়। আইসিবির কাছ থেকে অর্থ নেয়ার দুই বছর পর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকেও তহবিল সংগ্রহ করে হোটেলটি। ১৫ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা ১০ তলাবিশিষ্ট হোটেল রয়েল টিউলিপ ভবনের মোট আয়তন সাড়ে ৪ লাখ বর্গফুট। ব্যাংকের কাছ থেকে উচ্চসুদে ব্রিজ ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে হোটেলটি স্থাপন করা হয়। নেদারল্যান্ডসের স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (এসপিভি) জিটি ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির ভিত্তিতে রয়েল টিউলিপ হোটেলের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড। কিন্তু হোটেল ব্যবসা থেকে আসা নগদ প্রবাহ দিয়ে ব্যাংকের উচ্চসুদের ঋণ পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কঠিন হয়ে পড়লে এগিয়ে আসে আইসিবি।

রয়েল টিউলিপের বন্ড অনুমোদনের সময় আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মো. ইফতিখার-উজ-জামান। তিনি বলেন, প্রকল্পটি যথেষ্ট সম্ভাবনাময় ছিল। এর যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে সেটি আইসিবির ৩২৫ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য যথেষ্ট। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা সে সময় হোটেলটিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডে বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে হোটেলটির ফ্লোর স্পেস, জমি এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি জামানত রাখা হয়। বন্ডটির কুপন রেট নির্ধারণ করা হয় ১০ শতাংশ হারে। এর মানে বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে মূল অংকের সঙ্গে ১০ শতাংশ হারে সুদ পাবে আইসিবি। বন্ডটির ২০ শতাংশ শেয়ারে রূপান্তর করার সুযোগও রাখা হয় চুক্তিতে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি ছয় মাসে ৫৪ কোটি টাকা করে মোট ১২টি কিস্তিতে বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সে হিসাবে প্রতি বছর সুদসহ ১০৮ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করার কথা রয়েল টিউলিপের।

গত বছরের ৩০ এপ্রিল বন্ডের প্রথম কিস্তির ৫৪ কোটি টাকা পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। এরপর দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ দেয়ার কথা ছিল গত বছরের ৩১ অক্টোবর। এ কিস্তির অর্থও পরিশোধ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী কিস্তির সময় নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল।

সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা দুই দফা কিস্তির অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আইসিবির কর্মকর্তাদের কপালে। এর মধ্যেই তারা অর্থ আদায়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। অর্থ আদায়ে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে বন্ডটির ট্রাস্টি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সকেও। যদিও ট্রাস্টির পক্ষ থেকে সাড়া পায়নি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি।

এসডব্লিউ/ফাআ/২৩১০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আপনার মতামত জানানঃ