Trial Run

ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানিতে ভারত লাভবান

ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশে এখন চলছে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। এ সময় দেশি কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ আসছে। পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশের কৃষকরা এবার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ না এলে দেশি পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে সরকার। ভরা মৌসুমে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি তারা কানে তোলেনি।

২৯ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ভারত সরকার রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। দেশি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় এমনিতেই কমছিল পেঁয়াজের দাম। এর মধ্যেই ভারত সরকারের এমন ঘোষণার মুখে পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতায় বিদ্ধ হয়ে পড়ে। এই মুহূর্তে পেঁয়াজের দামে মারাত্মক পতনের শঙ্কা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, স্থলবন্দরগুলাে দিয়ে এখনাে ভারতীয় পেঁয়াজ ঢুকতেই শুরু করেনি। তা সত্ত্বেও ভারতের ঘোষণাতেই পেঁয়াজের দাম পড়তে শুরু করেছে। সুযোগসন্ধানী বিক্রেতা ও মজুদদাররা এখন গুদাম খালি করছে আরো দরপতনের ভয়ে। ফলে পেঁয়াজের বাজার সুস্থির হতে পারছে না। গেল বছরের মধ্য সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘােষণা দেওয়ার পরই দেশের পেঁয়াজের বাজারে যেন আগুন লেগে যায়। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ওঠে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

১০ জানুয়ারি ২০২০, গতকাল রাজধানীর তিনটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৩৫ টাকা দরে। মানভেদে পেঁয়াজের এ দাম অবশ্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরেও মিলেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন পেঁয়াজের মৌসুম। বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এ কারণে দাম কমছে। এ ছাড়া ভারত থেকে পেঁয়াজ আসার খবরে ব্যবসায়ীরা দাম কমিয়েই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপােরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) গতকালের হিসাবে বলছে, আমদানি করা পেঁয়াজের গতকালের দর ছিল মানভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে গতকাল দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

ভারত থেকে আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরো কমে যাবে বলে আশঙ্কা কৃষক এবং আড়তদারদের৷ সংশ্লিষ্টরা জানান, দাম আরো কমে গেলে লাভ থাকবে না, উৎপাদন খরচ ওঠানোই মুশকিল হয়ে যাবে৷ ভারত থেকে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। এভাবে ভারতকে তার সুযোগমতো রফতানি বন্ধ ও আবার চালু করার সুযোগ দিয়ে রাখলে ভারত ও সেখানকার ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবে। আর বাংলাদেশের কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ভারত একইভাবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিলে বাংলাদেশে রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়ে যায়। এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম তখন ২৫০ টাকার উপরে উঠেছিল৷ প্রায় পাঁচ মাস পেঁয়াজের বাজারে এ আগুন অবস্থা ছিল। তুরস্ক থেকে আমদানি করে এবং কৃষকরা আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজার সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। এরপর ভারত সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় মার্চ মাসে।

পেঁয়াজ নিয়ে সেই মহাসংকট চলাকালে পণ্যটির জন্য ভারতের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতার বিপদ সামনে এসেছিল। বিশেষজ্ঞরা তখন মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি না করা এবং বিকল্প আমদানিকারকদের প্রণোদনা ও জায়গা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানান। দাবি তোলা হয়, দেশের কৃষককে সুরক্ষা দিতে হলে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে কর বসানো উচিত।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও পেঁয়াজ নিয়ে সেই সঙ্কটের সময় একাধিকবার কৃষককে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘তিন বছরের মধ্যে সরকার পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায়। এ জন্য মৌসুমের সময় আমদানি নিয়ন্ত্রণের চিন্তা রয়েছে সরকারের।’

অবস্থাদৃষ্টে এখন পরিষ্কার যে, তিন বছরের মধ্যে এক বছর চলে গেলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি নেই। সরকারের দায়িত্বশীলরা তাদের প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন। পেঁয়াজ নিয়ে এই অব্যবস্থাপনা জারি থাকায় এর পুরো সুফল ঘরে তুলছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

এসডাব্লিউ/পিএ/আরা/১৪৩০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 103
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    103
    Shares