Trial Run

পুরুষের কর্তৃত্ব থেকে মুক্তি পেল সৌদি নারীরা

পুরুষের কর্তৃত্ব থেকে নারীকে মুক্ত করার এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির বিচারকি কর্তৃপক্ষ শরিয়া আদালতের ১৬৯ ধারার ‘বি’ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে। ওই বিধান অনুসারে অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত ও প্রাপ্ত বয়স্ক বিধবা মহিলাদের অবশ্যই একজন পুরুষ অভিভাবকের হেফাজতে থাকতে হতো।

এখন থেকে সৌদি আরবে অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা মহিলারা বাবা বা অন্য কোনো পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই পছন্দের বাড়িতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবে।

দেশটির বিচারিক কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করেছে। এই সংশোধনীর ফলে যেকোনো নারী একা থাকতে পারবেন। খবর গালফ নিউজের।

সংশোধনী ওই আইনে বলা হয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কোথায় থাকবেন সেটা নির্ধারণ করার অধিকার তার রয়েছে। যদি কোনো নারী কোনো অপরাধ করে কেবল তখনই তার অভিভাবক এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারবে। এমনকি যদি কোনও নারীর কারাদণ্ড হয়, তবে সাজার মেয়াদ শেষে তাকে তার অভিভাবকের কাছে ন্যস্ত করার কোনো বিধান থাকছে না।

সৌদি আরবে দীর্ঘদিন ধরে রীতি প্রচলিত আছে যে, মহিলারদের অবশ্যই একজন পুরুষ অভিভাবকের অধীনে থাকতে হয়। অর্থাৎ দেশটির সব মহিলার একজন পুরুষ অভিভাবক থাকবেন; তিনি হতে পারেন তার স্বামী, ভাই, ছেলে, বাবা অথবা চাচা।

২০২০ সালের জুলাই মাসে সৌদি লেখিকা মারিয়াম আল-ওতাইবি তার বাবার অনুমতি ছাড়া একা ঘুরতে যেতে চাইলে তা  আদালতে গড়ালে সেই মামলায় তার পক্ষে রায় দেওয়া হয়।

নতুন এই নিয়ম প্রসঙ্গে সৌদি আইনজীবী নায়েফ আল-মানসি জানান, যদি কারও মেয়ে একা থাকতে চায়, সেক্ষেত্রে তার পরিবার এখন থেকে আর মামলা করতে পারবে না। অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা নারীরা এই সুযোগ পাবে।

এদিকে বছর দুয়েক হল একেবারে পশ্চিমা নারীবাদীদের মতোই প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন সৌদি নারীরা। রক্ষণশীল সৌদিতে এমন দৃশ্য ছিল অকল্পনীয়।

হঠাৎ সামাজিক পরিবর্তনে দেশটির কিছু নারীকে সিগারেট, সিসা পাইপ তথা ধূমপান করতে দেখা গেছে। এটাকে তারা ‘মুক্তির প্রতীক’ হিসেবে দেখছেন।

গতবছরই প্রথম ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করেছেন সৌদি নারীরা। সেই সঙ্গে ধূমপানও করছেন প্রকাশ্যে।

বিশ্বনবীর জন্মভূমি সৌদি আরবে ব্যাপক সংস্কারের সূচনার আগে এমন চিত্র ছিল অকল্পনীয়। পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইসরায়েলের সঙ্গে জোর সম্পর্কের ওপর ভর করে সৌদি শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশকে মধ্যপন্থী ও ব্যবসাবান্ধব করে গড়ে তুলতে বেশকিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের সূচনা করেছেন।

তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এতে নানাভাবে সমালোচিত হয়েছেন বিন সালমান। তারই অংশ হিসেবে দেশটিতে বিনোদন ও পর্যটনকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তার এই ভিশন-২০৩০ এর অধীনেই সৌদি নারীরা এখন গাড়ি চালানো, স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা এমনকি হাজার হাজার পুরুষের মধ্যে কনসার্ট গানের অনুষ্ঠানেও যেতে পারে। এছাড়া পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই তারা পাসপোর্ট, বিদেশে পাড়ি দেয়া এমনকি একাকি হোটেলে রাত কাটানোর মতো সাহসী কাজগুলোও করতে পারছে।

২০১৭ সালে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সৌদি আরবের যুবরাজ করা হয়। এরপর থেকে তিনি দেশটির কট্টর রক্ষণশীল সমাজকে সহজ করার উদ্যোগ নেন। তারপর থেকে সৌদি আরবে ধারাবাহিকভাবে সমাজ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে এতদিন সিনেমা, নারীদের গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন বিষয় ধর্মীয় কারণে নিষিদ্ধ ছিল। ভিশন-২০৩০ অনুযায়ী, দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘কট্টরপন্থা’ উপড়ে ফেলে ‘মধ্যপন্থার’ ইসলাম ধর্মে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৫০১ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ