Trial Run

প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ প্লাস্টিক খেকো মাশরুম

ছবি: সংগৃহীত

এই প্রকৃতির বুকে যদি ক্ষতিকর কোন বর্জ্যের তালিকা করা হয় তবে প্লাস্টিক তার মধ্যে বেশ উপরের দিকে থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এই পৃথিবীতে মানুষ ১৯৫০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৮১৬ মিলিয়ন কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করে ফেলেছে। আর দিন দিন যে সেটা বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব অব্যবহৃত প্লাস্টিকের মধ্যে ৯ শতাংশ পুড়ে ছাই হয়েছে। বাকিগুলো বর্জ্য হিসেবে এই পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে বা পানিতে অবস্থান করছে।

প্লাস্টিক যেহেতু খুবই ধীর গতির পচনশীল একটি বস্তু তাই পরিবেশ রক্ষায় অনেক দেশে পলিথিনের ব্যবহার সীমিত করে পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতসব করেও প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো যাচ্ছে না কোনভাবেই। তবে এবার মনে হয় প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে একটু আশার আলো দেখা যাচ্ছে। কারণ বিজ্ঞানীরা এমন একটি মাশরুম আবিষ্কার করেছেন যার খাবার মূলত এই প্লাস্টিক।

এই মাশরুমের নাম পেস্টালোটিওপিস মাইক্রোস্পোরা। এই মাশরুমগুলি প্লাস্টিকের উপাদান, পলিউরেথেন খায় এবং জৈব পদার্থে রূপান্তর করে। ভবিষ্যতে প্লাস্টিকের বর্জ্য থেকে মুক্তি পেতে এই মাশরুমটি আরও বেশি করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরিবেশবিদরা মনে করেন, যদি এই মাশরুম প্লাস্টিকের বর্জ্যের উপরে তৈরি করা হয় তবে ওই প্লাস্টিক সার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। এই মাশরুমটি জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমাদের পৃথিবী পরিষ্কারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

পৃথিবীতে প্রায় ২০ থেকে ৪০ লক্ষ প্রজাতির ছত্রাক রয়েছে। সুতরাং এই মাশরুমগুলি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে। প্লাস্টিকখোর এই মাশরুমের আবিষ্কার করেছেন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে এই মাশরুম শুধুমাত্র আমাজনের জঙ্গলেই পাওয়া যায়।

তবে এটি খাওয়া যায় কিনা সে বিষয়ে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় কোন গবেষণা করেনি। এ বিষয়ে আলাদাভাবে গবেষণা করেছে ইউট্রেচট বিশ্ববিদ্যালয়। তারা গবেষণা করে দেখেছে এই ধরনের মাশরুম সাধারণ মানুষও খেতে পারে। এই ধরনের মাশরুম খাওয়ার সময় বা রান্না করার সময় অ্যালকোহলের গন্ধও পাওয়া যায়।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৩৩৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ