গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন, মজুরি নিয়ে অসন্তোষ, শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা এবং সহিংসতার অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশের তৈরি পোশাক খাত আবারও এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি। অথচ এই পরিস্থিতির গভীরে গিয়ে শ্রমিকদের ক্ষোভের কারণ, মালিকপক্ষের ভূমিকা, মজুরি নির্ধারণের বাস্তবতা এবং সরকারের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অন্য একটি বিষয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দাবি, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ কেউ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ইন্ধন জোগাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে মুখোশধারীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র এবং দেশের উৎপাদনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার অভিযোগ।
প্রশ্ন হচ্ছে, শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে সত্যিই যদি কোনো সংগঠিত ষড়যন্ত্র থেকে থাকে, তাহলে তার প্রমাণ কোথায়? কারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত? কীভাবে তারা শ্রমিকদের ব্যবহার করছে? কোন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সরকার এমন গুরুতর অভিযোগ তুলছে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
একটি শ্রমিক আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা সহজ। কিন্তু সেই আন্দোলনের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জীবনযাত্রার ব্যয়, মজুরির অসামঞ্জস্য এবং কর্মক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা অনেক বেশি কঠিন। সরকারের রাজনৈতিক বক্তব্য যতই জোরালো হোক, শ্রমিকের পকেটে অর্থ না থাকলে, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে না পারলে এবং ন্যায্য অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সেই ক্ষোভকে শুধু ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়ে দূর করা যায় না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি শ্রমিক-মালিকদের আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব ছিল। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। যদি আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে সেই আলোচনা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব কার ছিল? শ্রমিক-মালিকের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল? শ্রমিকদের দাবি যখন অসন্তোষে রূপ নিচ্ছিল, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আগাম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি?
সরকারের দায়িত্ব শুধু সহিংসতা ঘটার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠে নামানো নয়। বরং সহিংসতা এড়ানোর মতো পরিবেশ তৈরি করাও সরকারের দায়িত্ব। শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনায় কার্যকর মধ্যস্থতা করা, মজুরি নিয়ে বিরোধের যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করা এবং শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ। এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকলে তার জবাবদিহি সরকারকেই করতে হবে।
এখানেই সামনে আসে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো সংকট তৈরি হলেই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে দায়ী করার প্রবণতা নতুন নয়। বর্তমান সরকারও যদি প্রতিটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ, সাবেক ক্ষমতাসীনদের সমর্থক কিংবা সীমান্তের ওপারের কোনো অদৃশ্য শক্তির দিকে আঙুল তোলে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—সরকার কি নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে?
অবশ্যই কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অন্য কোনো গোষ্ঠী যদি শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা উসকে দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের দায় থেকে কাউকে মুক্তি দিতে পারে না। কিন্তু একইভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বানানোর সুযোগও নেই। অভিযোগের ভিত্তি হতে হবে তদন্ত, প্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়া। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে কোনো পক্ষকে দায়ী করা হলে তা ন্যায়বিচারের ধারণাকেই দুর্বল করবে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ থাকলে সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, কারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কী তথ্য রয়েছে এবং তদন্তে কী পাওয়া গেছে। সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রমাণ প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো তথ্য সংবেদনশীল হতে পারে, কিন্তু সেই অজুহাতে প্রতিটি রাজনৈতিক অভিযোগকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখা যায় না।
এখানে আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গার্মেন্টস শ্রমিকেরা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। তাঁরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাঁদের শ্রমে তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি তৈরি করেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, রপ্তানি আয় এবং লাখ লাখ পরিবারের জীবিকা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। অথচ সংকট তৈরি হলে তাঁদের দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রবণতা শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করতে পারে।
একজন শ্রমিক যখন মাস শেষে বেতন পান, তখন তাঁকে বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে হয়। বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে তাঁর আয় একই হারে বাড়ে না। এই ব্যবধান থেকেই অসন্তোষ জন্ম নেয়। একজন শ্রমিকের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বুঝতে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি একটি মৌলিক শ্রম অধিকার।
সরকার যদি মনে করে শ্রমিকদের এই অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে তার পাশাপাশি শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দাবিগুলোরও সমাধান করতে হবে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব সরকারের, আর শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের। একটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্যটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করা এবং গার্মেন্টস উৎপাদন বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা এসেছে। এই আশঙ্কা অমূলক নয় যে, শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ঝুঁকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ কি কেবল কঠোর পুলিশি অবস্থান? নাকি শ্রমিকদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা, মালিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান?
শ্রমিকদের আন্দোলনে সহিংসতা হলে তার দায়ীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট কিংবা অন্যের সম্পদের ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, মজুরির দাবি এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে সহিংসতার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। এই পার্থক্যটি রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে প্রকৃত শ্রমিক অসন্তোষ দমনের অভিযোগ তৈরি হতে পারে।
আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান সরকার কি শিল্পাঞ্চলের সমস্যাগুলো সমাধানে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে? সরকার পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা থাকে প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি ঘটবে। কিন্তু নতুন সরকারও যদি সংকটের মুখে পড়ে আগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করার কৌশল গ্রহণ করে, তাহলে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব তৈরি হবে।
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। তাদের শাসনামলে শ্রম অধিকার, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বহু সমালোচনা রয়েছে। সেই অতীতের দায় নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহি হতে পারে। কিন্তু অতীতের ব্যর্থতা দিয়ে বর্তমান সরকারের প্রতিটি ব্যর্থতা ব্যাখ্যা করা যায় না। বর্তমানের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। জনগণ আগের সরকারের বিচার চাইতে পারে, একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কাছেও কার্যকর শাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি দাবি করতে পারে।
যদি কোনো শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের কোনো অংশের সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে তদন্তে তা বেরিয়ে আসুক। কিন্তু সেই তদন্তের আগে রাজনৈতিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে। একইভাবে প্রশাসনের ভুল সিদ্ধান্ত, মালিকপক্ষের অনিয়ম কিংবা শ্রমিকদের প্রতি অবহেলার বিষয়গুলোও আলোচনার বাইরে চলে যেতে পারে। এভাবে একটি বাস্তব অর্থনৈতিক সংকট রাজনৈতিক দোষারোপের লড়াইয়ে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি বলেন, তাঁর কাছে ষড়যন্ত্রের তথ্য রয়েছে, তাহলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারা সহিংসতা করেছে, কারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে, কারা অর্থায়ন করেছে এবং কারা বাইরে থেকে উসকানি দিয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রমাণের মাধ্যমে দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি কী, মজুরি কাঠামোয় কোথায় অসংগতি রয়েছে এবং মালিকপক্ষের দায়িত্ব কতটুকু পালন করা হয়েছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখতে হবে।
শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দায়ী করে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং এতে শ্রমিকদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে। শ্রমিকেরা যদি মনে করেন, তাঁদের প্রকৃত সমস্যার কথা বললেই তাঁদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাহলে রাষ্ট্র ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন একটি পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে তৈরি পোশাক শিল্পের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শিল্পকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার বানানো কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না। শ্রমিকদের অধিকার, মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং রাষ্ট্রের রপ্তানি সক্ষমতা—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সংলাপ, স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত মজুরি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ।
সবশেষে প্রশ্নটি খুবই সরল। গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে যদি ষড়যন্ত্র থেকে থাকে, সরকার তার প্রমাণ দিক। যদি আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত থাকে, তদন্ত করে আইনের আওতায় আনুক। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষ কেন তৈরি হলো, তাঁদের দাবি কেন সমাধান হলো না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কী ভূমিকা পালন করল—এসব প্রশ্নের উত্তরও সরকারকে দিতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনা মানে শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা মানে জনগণের সমস্যার সমাধান করা। আগের সরকারের ব্যর্থতার বিচার করতে গিয়ে বর্তমান সরকারের নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। জনগণ অতীতের জবাবদিহি যেমন চায়, তেমনি বর্তমানের সুশাসনও চায়।
আওয়ামী লীগকে দায়ী করা রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। সীমান্তের ওপারের ইন্ধনের অভিযোগ জনমনে নিরাপত্তা-উদ্বেগও তৈরি করতে পারে। কিন্তু এসব বক্তব্য দিয়ে শ্রমিকের মজুরি বাড়বে না, বাজারদর কমবে না, কারখানায় স্থিতিশীলতা ফিরবে না কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর হবে না। সরকার যদি সত্যিই দেশের শিল্প ও অর্থনীতি রক্ষা করতে চায়, তাহলে রাজনৈতিক দোষারোপের পরিবর্তে সমস্যার মূলে যেতে হবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত জনগণ জানতে চাইবে, কে ষড়যন্ত্র করেছে শুধু তা নয়; সরকার নিজের দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছে। আর সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে সামনে নিয়ে আসা হলে তা হবে জবাবদিহি এড়ানোর আরেকটি রাজনৈতিক কৌশল।
আপনার মতামত জানানঃ