বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০০৭ ও ২০০৮ সাল ছিল এক অস্থির সময়। জরুরি অবস্থার মধ্যে রাজনীতির পরিচিত সমীকরণ বদলে যাচ্ছিল, শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হচ্ছিলেন, দুর্নীতির মামলায় চলছিল একের পর এক আইনি পদক্ষেপ। সেই সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। তাঁর গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ, মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাত এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাত্রা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।
২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পরবর্তী বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারি ছিল এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কারাগারে রাখা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার উদ্যোগ চলে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ সেই আইনি প্রক্রিয়াকে ছাড়িয়ে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
২০০৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর একটি প্রতিবেদনে তারেক রহমানের আদালতে দেওয়া বক্তব্যের বিবরণ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “Tarique claims torture during remand, seeks security”। সেখানে বলা হয়, দুর্নীতির একটি মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি আদালতের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চোখ বেঁধে তাঁকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে কোনো কিছুর সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় তাঁর চোখ বাঁধা ছিল এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ঘটনার বহু বছর পরের রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং অভিযোগ উত্থাপনের সময়কার সংবাদ প্রতিবেদন। অর্থাৎ, হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগটি ২০০৮ সালের জানুয়ারিতেই সংবাদমাধ্যমে নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে এখানে একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি: আদালতে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য তাঁর অভিযোগের প্রাথমিক নথি, কিন্তু অভিযোগের প্রতিটি বিবরণ স্বতন্ত্র তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্ত শুধু এই প্রতিবেদন থেকে টানা যায় না।
ঘটনার পরবর্তী পর্যায়েও তাঁর রিমান্ড ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে আইনি তৎপরতা অব্যাহত থাকে। ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টার প্রকাশিত “HC asks govt not to remand Tarique” প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইকোর্ট সরকারকে তারেক রহমানকে আর পুলিশি রিমান্ডে না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ দরকার হলে কারাগারের ফটকে তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, তিনি অসুস্থ এবং আগের রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে মাথাব্যথা ও ঘাড়ের ব্যথার অভিযোগ এবং তাঁর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার তথ্যও উঠে আসে। এই ঘটনা দেখায়, নির্যাতনের অভিযোগটি শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তাঁর হেফাজত ও চিকিৎসার বিষয়টি আদালতের কার্যক্রমেও আলোচিত হয়েছিল।
পরবর্তী কয়েক মাসে তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০৮ সালের ১৫ জুন দ্য ডেইলি স্টার-এর “Custodial torture got Tarique crippled” শিরোনামের প্রতিবেদনে তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বক্তব্য প্রকাশিত হয়। তিনি দাবি করেন, হেফাজতে নির্যাতনের ফলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের আগে তারেক শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন, কিন্তু আটক থাকার পর তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। তিনি আদালতকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনটিতে ২১ কোটি টাকার ঘুষ-সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির প্রসঙ্গও ছিল। তারেক রহমানের আইনজীবী আদালতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তবে ওই শুনানিতে আদালত নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাই আইনজীবীর বক্তব্যকে নির্যাতনের অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু সেটিকে আদালতের চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করা যায় না।
এর কয়েক দিন পর, ২০০৮ সালের ২১ জুন, দ্য ডেইলি স্টার প্রকাশ করে “Tarique’s spinal cord ‘broken’, says doctor” শিরোনামের প্রতিবেদন। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, তারেক রহমানের মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং তাঁর কোমর ও ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ডান নিতম্বের সন্ধিতেও ব্যথা ছিল এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
এ পর্যায়ে ঘটনাটির গুরুত্ব নতুন মাত্রা পায়। শুরুতে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল তারেক রহমানের নিজের বক্তব্য এবং তাঁর আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া দাবির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর শারীরিক সমস্যার বিবরণ সামনে আসে। যদিও চিকিৎসা-সংক্রান্ত এসব তথ্য থেকে আঘাতের সুনির্দিষ্ট কারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না, এগুলো তাঁর অসুস্থতার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ভিত্তি তৈরি করে।
২০০৮ সালের ২৩ আগস্ট দ্য ডেইলি স্টার-এর আরেকটি প্রতিবেদনে পরিস্থিতির আরও বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। “Tarique needs treatment abroad” শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য প্রকাশিত হয়। তিনি তারেক রহমানের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করেন। চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, ডান পায়ের পেশি শুকিয়ে যাচ্ছিল এবং মেরুদণ্ডের ষষ্ঠ ও সপ্তম কশেরুকা ভেঙে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। চিকিৎসক আরও বলেন, তখন তাঁর যে ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল, তা দেশে পাওয়া যাচ্ছিল না।
এই প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে শুধু রাজনৈতিক নেতা বা আইনজীবীর অভিযোগ নয়, চিকিৎসা বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশেষজ্ঞের বক্তব্যও রয়েছে। তারেক রহমানের মেরুদণ্ডের আঘাত এবং বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা তখনকার সংবাদমাধ্যমে স্পষ্টভাবে আলোচিত হচ্ছিল। একই সময়ে তাঁর চিকিৎসা ও কারামুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিক এবং আইনি আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে।
এদিকে হেফাজতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ২০০৮ সালের ২৩ জুন দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদকীয় “Tarique’s ailment”-এ হেফাজতে থাকা ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের—এই নীতিগত বিষয়টি সামনে আনা হয়। সম্পাদকীয়তে তারেক রহমানের মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সম্পাদকীয়টি একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনাও করেছিল। অর্থাৎ, তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা থাকলেও হেফাজতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা এবং মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আলাদা গুরুত্ব পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
২০০৮ সালের আগস্টের শেষ দিকে তারেক রহমানের বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি আরও এগোয়। দ্য ডেইলি স্টার-এর ২৭ আগস্টের “No legal bar to sending Khaleda, Tarique abroad” প্রতিবেদনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এম এ মতিনের বক্তব্য প্রকাশিত হয়। সেখানে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই বলে জানানো হয়েছিল। এর পর ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ হাইকোর্টের আদেশের পর তারেক রহমান জামিনে মুক্তি পান বলে পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশেষে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ ছাড়েন এবং লন্ডনে যান। ১২ সেপ্টেম্বর আল জাজিরা তাঁর দেশত্যাগ নিয়ে “Ex-PM’s son ‘quits Bangladesh’” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে তাঁর বিদেশযাত্রার পটভূমি ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে দ্য ডেইলি স্টার-এর ১০ অক্টোবরের “Tarique admitted to London hospital” প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তাঁর ডান পায়ের পেশি শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতে অসুবিধার কথাও চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানানো হয়।
তারেক রহমানের দেশত্যাগকে শুধু রাজনৈতিক নির্বাসন বা বিদেশে অবস্থানের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর পেছনের চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একইভাবে, তাঁর নির্যাতনের অভিযোগকে কোনো যাচাই ছাড়াই আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করলেও ইতিহাসের নির্ভুলতা ক্ষুণ্ন হয়। সমসাময়িক প্রতিবেদনগুলো থেকে যে ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়, তা হলো—গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ, আদালতে নিরাপত্তা চাওয়া, শারীরিক অসুস্থতার খবর, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশ এবং শেষ পর্যন্ত লন্ডনে যাত্রা।
এখানে আরেকটি সতর্কতার বিষয় রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) একটি ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে ঝুলিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য বলে প্রচারিত একটি ভিডিও আসলে তাঁর নয়। সেটি ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি বগুড়া থানায় রতন কুমার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্য ঘটনার পুরোনো ছবির কারসাজি করা সংস্করণ। তাই তারেক রহমানের নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে ওই ভাইরাল ভিডিও ব্যবহার করা ভুল হবে। এ ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের আদালত-সংক্রান্ত সংবাদ, চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং সমসাময়িক প্রতিবেদনই অধিক প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তারেক রহমানের এই অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ শুধু একজন প্রভাবশালী নেতার অসুস্থতা কিংবা বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে নয়। এটি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা, নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত, চিকিৎসার অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির মতো মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হতে পারেন; সেই অভিযোগের বিচার হওয়া আইনের বিষয়। কিন্তু আটক অবস্থায় তাঁর ওপর নির্যাতন হয়েছে কি না, গুরুতর আঘাত কীভাবে ঘটেছে এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৮ সালের সংবাদপত্রের পাতায় ছড়িয়ে থাকা ঘটনাগুলো একত্র করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়: তারেক রহমানের নির্যাতনের অভিযোগ ও মেরুদণ্ডের আঘাতের খবর তাঁর লন্ডনযাত্রার বহু আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। তবে নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট ঘটনা ও দায় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীন তদন্ত বা চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য ছাড়া অভিযোগের প্রতিটি অংশকে নিঃশর্ত সত্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত নয়। ইতিহাসের প্রতি সুবিচার করতে হলে অভিযোগ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠিত তথ্য—তিনটিকেই তাদের নিজস্ব জায়গায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এই ঘটনাকে দেখার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ সেটিই।
আপনার মতামত জানানঃ