ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর অসাধারণ কৌশল, ইউরোপজুড়ে সাম্রাজ্য বিস্তার এবং প্রশাসনিক সংস্কারের গল্প ইতিহাসের বইয়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এই মহান সামরিক নেতার ব্যক্তিগত জীবনের একটি অধ্যায় তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত—তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, পরকীয়া এবং একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের ঘটনা। যে নেপোলিয়ন স্ত্রী জোসেফিনকে উদ্দেশ করে আবেগপূর্ণ প্রেমপত্র লিখতেন, তিনিই আবার অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এমনকি অন্য একজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিজের স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন, অথচ নিজের ক্ষেত্রে একই নৈতিক সীমারেখা মানেননি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই দ্বৈততা একজন বিশ্বজয়ী সম্রাটের প্রচলিত ভাবমূর্তিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
নেপোলিয়নের জীবনে প্রেমের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় মারি জোসেফ রোজ তাশে দ্য লা পাজেরির সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে। ইতিহাস তাঁকে চেনে জোসেফিন নামে। ১৭৯৫ সালে তাঁদের পরিচয় হয়। জোসেফিন ছিলেন একজন বিধবা নারী। তাঁর প্রথম স্বামী আলেকজান্দ্র দ্য বোহারনে ফরাসি বিপ্লবের সময় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। আগের সংসারে তাঁর দুই সন্তানও ছিল। অন্যদিকে নেপোলিয়ন ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ সামরিক কর্মকর্তা। জোসেফিনের সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব এবং অভিজাত সমাজে যোগাযোগ তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। ১৭৯৬ সালের ৯ মার্চ তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র দুই দিন পরই নেপোলিয়ন সামরিক অভিযানে ইতালির উদ্দেশে রওনা হন। শুরু হয় তাঁদের দূরত্বের দাম্পত্য জীবন।
ইতালির যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নেপোলিয়ন জোসেফিনকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন। তাঁর চিঠিতে ছিল গভীর আবেগ, আকুলতা এবং স্ত্রীর প্রতি প্রবল আকর্ষণ। কখনো তিনি জোসেফিনের অনুপস্থিতিতে নিজের নিঃসঙ্গতার কথা লিখতেন, কখনো তাঁর সঙ্গে দ্রুত দেখা করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেন। কিন্তু এই প্রেমের গল্পের অন্য দিকটি ছিল অনেক বেশি অস্বস্তিকর। নেপোলিয়ন যখন যুদ্ধক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্মরণ করে একের পর এক চিঠি লিখছিলেন, তখন জোসেফিন প্যারিসের সামাজিক জীবন উপভোগ করছিলেন এবং অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
সেই ব্যক্তির নাম ইপোলিত চার্লস। তিনি ছিলেন একজন ফরাসি সামরিক কর্মকর্তা। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে জোসেফিনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্কের কথা উল্লেখ রয়েছে। নেপোলিয়ন প্রথমদিকে বিষয়টি সন্দেহ করলেও পরে তাঁর সন্দেহ আরও গভীর হয়। স্ত্রীর এই সম্পর্কের খবর তাঁকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে। স্ত্রীকে লেখা তাঁর কিছু চিঠিতে ভালোবাসার পাশাপাশি ক্ষোভ, অভিযোগ এবং ঈর্ষার প্রকাশ পাওয়া যায়। তিনি বুঝতে পারেন, যাঁর জন্য তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আবেগপূর্ণ চিঠি পাঠাচ্ছেন, সেই নারী তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য পুরুষের সঙ্গ উপভোগ করছেন। কিন্তু নেপোলিয়নের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি বড় বৈপরীত্য ছিল। তিনি জোসেফিনের অবিশ্বস্ততা মেনে নিতে পারছিলেন না, অথচ কিছুদিনের মধ্যেই নিজেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
১৭৯৮ সালে মিসর অভিযানের সময় নেপোলিয়নের জীবনে আসেন পলিন ফুরেস। তিনি ছিলেন ফরাসি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তার স্ত্রী। তাঁর স্বামী জ্যঁ-নোয়েল ফুরেস নেপোলিয়নের সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে পলিনের সঙ্গে নেপোলিয়নের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাঁদের সম্পর্কের কথা ইতিহাসে আলোচিত হয়েছে। পলিনকে অনেক সময় ‘Napoleon’s Cleopatra’ নামে উল্লেখ করা হয়। এই সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, নেপোলিয়ন তখনও বিবাহিত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জোসেফিন জীবিত ছিলেন এবং তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল ছিল। অন্যদিকে তিনি নিজের অধীনস্থ সামরিক কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। যে মানুষটি স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, তিনিই অন্য একজনের সংসারের সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন।
এখানে নেপোলিয়নের ব্যক্তিত্বের একটি অস্বস্তিকর দিক সামনে আসে। তিনি নিজের প্রতি স্ত্রীর একনিষ্ঠতা প্রত্যাশা করতেন, কিন্তু নিজের আচরণের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা পূরণ করেননি। ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কারণে তাঁর পক্ষে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা বা আশপাশের মানুষের পক্ষে সম্রাটের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যাওয়া সহজ ছিল না। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোতেও ক্ষমতার অসমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল।
নেপোলিয়ন ফ্রান্সে ফিরে এসে রাজনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত করার পরও তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রবণতা বন্ধ হয়নি। ১৮০৪ সালে তিনি ফ্রান্সের সম্রাট হন এবং জোসেফিন হন সম্রাজ্ঞী। বাইরে থেকে তাঁদের দাম্পত্য জীবন তখন রাজকীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। রাজদরবারে একসঙ্গে উপস্থিতি, অভিষেকের অনুষ্ঠান এবং সম্রাট-সম্রাজ্ঞীর সামাজিক অবস্থান দেখে মনে হতে পারত তাঁদের সম্পর্ক স্থিতিশীল। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট ছিল গভীর। নেপোলিয়নের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের খবর জোসেফিনের অজানা ছিল না। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে এলিজাবেথ দ্য ভোদেয়ের সঙ্গে নেপোলিয়নের ঘনিষ্ঠতার কথাও উঠে এসেছে। জোসেফিন স্বামীকে অন্য নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় আবিষ্কার করেছিলেন বলেও বিবরণ পাওয়া যায়।
এদিকে নেপোলিয়নের জীবনে প্রবেশ করেন এলেওনোর দ্যনুয়েল। তিনি ছিলেন জোসেফিনের সামাজিক ও রাজকীয় পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত একজন নারী। ১৮০৬ সালে তিনি নেপোলিয়নের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় লেয়ন। এই ঘটনা নেপোলিয়নের ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে জোসেফিনের সন্তান না হওয়ায় নেপোলিয়ন নিজের সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চিত ছিলেন। এলেওনোরের সন্তান জন্মের পর তাঁর সেই সন্দেহ দূর হয়। তিনি বুঝতে পারেন, উত্তরাধিকারী না থাকার কারণ তাঁর নিজের শারীরিক অক্ষমতা নয়। ফলে জোসেফিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
নেপোলিয়নের জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল মারি ওয়ালেভস্কার সঙ্গে। ১৮০৭ সালে পোল্যান্ডে তাঁদের পরিচয় হয়। মারি ছিলেন পোলিশ অভিজাত পরিবারের নারী। নেপোলিয়নের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পেছনে ব্যক্তিগত আকর্ষণের পাশাপাশি রাজনৈতিক বাস্তবতাও কাজ করেছিল। সে সময় পোল্যান্ড স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারিয়েছিল। পোলিশ জাতীয়তাবাদীদের একটি অংশ নেপোলিয়নের কাছে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের আশা করছিল। তাঁরা মনে করতেন, সম্রাটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পোল্যান্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সহায়ক হতে পারে। মারির সঙ্গে নেপোলিয়নের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। ১৮১০ সালে জন্ম নেওয়া আলেকজান্দ্র ওয়ালেভস্কি ছিলেন নেপোলিয়নের বিবাহবহির্ভূত সন্তানদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত।
মারি ওয়ালেভস্কার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নেপোলিয়নের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংযোগ তুলে ধরে। তিনি একদিকে জোসেফিনের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন, অন্যদিকে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এসব সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তিনি সন্তানও লাভ করেন। কিন্তু তাঁর কাছে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত আনন্দের ছিল না; এটি সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ ও উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছিল।
১৮০৯ সালে নেপোলিয়ন জোসেফিনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের বিয়ের সবচেয়ে বড় সংকট ছিল উত্তরাধিকারী না থাকা। নেপোলিয়ন এমন একজন বৈধ উত্তরাধিকারী চাইছিলেন, যিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন। জোসেফিন তাঁকে সন্তান দিতে পারেননি। ফলে দীর্ঘদিনের প্রেম, সম্পর্ক এবং রাজকীয় মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তিনি জোসেফিনকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়। নেপোলিয়ন প্রকাশ্যে জোসেফিনের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার কথা বললেও তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে রাজবংশের স্বার্থ ছিল প্রধান। ১৮১০ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের বিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়।
জোসেফিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার সম্রাটের কন্যা মারি-লুইজকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে ছিল মূলত রাজনৈতিক ও রাজবংশীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৮১১ সালের ২০ মার্চ তাঁদের পুত্র নেপোলিয়ন ফ্রাঁসোয়া জোসেফ চার্লস জন্মগ্রহণ করেন। নেপোলিয়ন অবশেষে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বৈধ উত্তরাধিকারী পেলেন। কিন্তু এই বিয়েও স্থায়ী সুখের সংসার হয়ে ওঠেনি। সাম্রাজ্যের পতন এবং নেপোলিয়নের নির্বাসনের পর মারি-লুইজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নেপোলিয়নের এই পুরো সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় তাঁর দ্বৈত নৈতিকতা। তিনি জোসেফিনের অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। স্ত্রীকে সন্দেহ করেছেন, অভিযোগ করেছেন, বিচ্ছেদের কথাও ভেবেছেন। অথচ নিজের জীবনে একের পর এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি করেছেন। এমনকি অন্য একজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছেন। নিজের জন্য যে বিশ্বস্ততা প্রত্যাশা করেছেন, স্ত্রীর কাছ থেকে যে একনিষ্ঠতা চেয়েছেন, সেই একই নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেননি। ক্ষমতাবান পুরুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নারীর প্রতি প্রত্যাশার এই অসমতা তাঁর দাম্পত্য জীবনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে ইতিহাসের ন্যায্য বিশ্লেষণের জন্য জোসেফিনের সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। তিনি নিজেও ইপোলিত চার্লসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তাঁদের দাম্পত্যে অবিশ্বস্ততা একতরফা ছিল না। কিন্তু নেপোলিয়নের ক্ষমতা, সামাজিক অবস্থান এবং সাম্রাজ্যিক কর্তৃত্ব তাঁকে সম্পর্কের নিয়ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধা দিয়েছিল। জোসেফিনের জন্য বিচ্ছেদ মানে শুধু স্বামী হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িত ছিল তাঁর সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সম্রাজ্ঞী হিসেবে অর্জিত অবস্থান। তাই তাঁদের সম্পর্ককে শুধু একজন ভালো আর অন্যজন খারাপ—এভাবে ব্যাখ্যা করলে ইতিহাসের জটিলতা আড়াল হয়ে যায়।
১৮১৪ সালে জোসেফিনের মৃত্যু হয়। নেপোলিয়ন তখন ক্ষমতা হারানোর পথে। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত অবস্থায়ও তিনি জোসেফিনকে স্মরণ করেছেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। একসময় যাঁকে তিনি ভালোবাসার চিঠি লিখতেন, যাঁর সঙ্গে রাজকীয় মুকুট ভাগ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই নারীকে তিনি উত্তরাধিকারীর স্বার্থে ছেড়ে দিয়েছিলেন। অথচ বিচ্ছেদের পরও তাঁর স্মৃতির প্রতি এক ধরনের আবেগ ধরে রেখেছিলেন।
নেপোলিয়নের সামরিক প্রতিভা ও রাজনৈতিক অবদান ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করতে গেলে তাঁর ব্যক্তিগত আচরণও উপেক্ষা করা যায় না। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি স্ত্রীর অবিশ্বস্ততায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন, অথচ নিজে বারবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। ভালোবাসার কথা বলেছেন, আবার সেই ভালোবাসার মানুষকে রাজনৈতিক প্রয়োজনের কাছে ত্যাগ করেছেন। নিজের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, কিন্তু অন্যের কাছ থেকে চেয়েছেন একনিষ্ঠতা। ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহান সামরিক বিজয় কিংবা বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ব্যক্তিগত জীবনের নৈতিক প্রশ্নগুলোকে মুছে দিতে পারে না। ইউরোপের বহু রাজ্য জয় করা নেপোলিয়ন নিজের দাম্পত্য জীবনে যে দ্বৈততার পরিচয় দিয়েছিলেন, সেটিও তাঁর ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আপনার মতামত জানানঃ