বাংলার ইতিহাসে সিরাজউদ্দৌলার নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পলাশীর প্রান্তর, মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা আর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থান। তিনি বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব হিসেবে পরিচিত; তাঁর পতনকে অনেকেই বাংলার স্বাধীনতার অবসানের সূচনা হিসেবে দেখেন। কিন্তু ইতিহাসের এই পরিচিত ছবির আড়ালে আরও একটি প্রশ্ন চাপা পড়ে আছে। সিরাজ কি কেবল ষড়যন্ত্রের শিকার এক তরুণ শাসক ছিলেন, নাকি তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, ক্ষমতার ব্যবহার এবং মানুষের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগও তাঁর পতনের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল? বিশেষ করে নারীদের প্রতি তাঁর আচরণ নিয়ে আঠারো শতকের কিছু বিবরণ যে ভয়াবহ অভিযোগ উত্থাপন করে, সেগুলো কতটা সত্য, আর কতটা রাজনৈতিক শত্রুদের তৈরি বয়ান?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই প্রচলিত জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের আবেগ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক লেখকদের বর্ণনাকেও বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা যাবে না। কারণ সিরাজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যেসব বিবরণ আমাদের হাতে পৌঁছেছে, তার অনেকগুলোই এসেছে এমন মানুষদের কাছ থেকে, যাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা ক্ষমতার স্বার্থ ছিল। কিন্তু উৎসের পক্ষপাত রয়েছে বলেই প্রতিটি অভিযোগ মিথ্যা হয়ে যায় না। আবার কোনো সমসাময়িক লেখক অভিযোগ করেছেন বলেই সেটি প্রমাণিত সত্য হয়ে ওঠে না। এই দুইয়ের মাঝখানেই লুকিয়ে রয়েছে সিরাজের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়।
সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাব হন। তাঁর বয়স তখন আনুমানিক ২৩ বছর। তাঁর নানা আলিবর্দি খানের দীর্ঘ শাসনের পর এত অল্প বয়সে বিশাল একটি প্রদেশের দায়িত্ব নেওয়া সহজ ছিল না। দরবারে ছিলেন অভিজ্ঞ সেনাপতি, প্রভাবশালী জমিদার, অর্থলগ্নিকারী পরিবার এবং প্রশাসনের পুরোনো কর্মকর্তারা। তাঁদের অনেকেই নতুন নবাবের কর্তৃত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সিরাজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সমসাময়িক বিবরণে যে বৈশিষ্ট্যগুলো বারবার উঠে আসে, তার মধ্যে রয়েছে রাগী স্বভাব, কঠোর ভাষা, আবেগপ্রবণতা এবং বিরোধীদের সঙ্গে আপস করতে অনীহা। কিন্তু এসব বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগও রয়েছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক ভুলের প্রশ্ন নয়; এগুলো ব্যক্তিগত ক্ষমতার নৈতিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এখানেই সামনে আসে ফারসি ইতিহাসকার গোলাম হুসেন খান তাবাতাবাইয়ের নাম। তাঁর লেখা *সিয়ার-উল-মুতাখখিরিন* আঠারো শতকের ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। তিনি সিরাজের চরিত্রের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর বর্ণনায় নবাবের আচরণে অসংযম, ঔদ্ধত্য এবং নিষ্ঠুরতার ছাপ পাওয়া যায়। সিরাজের বিরোধীদের অসন্তোষের বিবরণও এই গ্রন্থে রয়েছে। তবে গোলাম হুসেন ছিলেন দরবারি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি, এবং সিরাজের প্রতিদ্বন্দ্বী শওকত জংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বলে ঐতিহাসিক আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। ফলে তাঁর বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে নিরপেক্ষ আদালতের রায় হিসেবে পড়া যায় না। বরং প্রশ্ন করতে হয়, তিনি কী দেখেছিলেন, কী শুনেছিলেন এবং তাঁর নিজের অবস্থান তাঁর বর্ণনাকে কতটা প্রভাবিত করেছিল?
সিরাজের নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলোর একটি এসেছে ফরাসি কর্মকর্তা জ্যাঁ ল-এর নামে প্রচলিত বিবরণে। উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর *দ্য অ্যানার্কি* গ্রন্থে সিরাজের সমসাময়িক বিভিন্ন সূত্রের বিবরণ আলোচনা করতে গিয়ে এই অভিযোগগুলো সামনে এনেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, গঙ্গার তীরে স্নান করতে আসা নারীদের মধ্যে কাউকে সুন্দরী বলে খবর পেলে সিরাজ নাকি তাঁর অনুচরদের পাঠাতেন; ছোট নৌকায় করে সেই নারীদের ধরে নিয়ে আসার অভিযোগও ওই বর্ণনায় রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, বন্যার সময় ফেরি নৌকায় ধাক্কা দিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার মতো নিষ্ঠুর আচরণেও তিনি আনন্দ পেতেন।
অভিযোগগুলো ভয়াবহ। যদি এগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা কোনো শাসকের ব্যক্তিগত রুচির সাধারণ প্রশ্ন নয়; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, নারীর স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি নির্মম অবজ্ঞার বিষয়। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দায়িত্ব এখানেই থেমে যায় না। আমাদের জানতে হবে, এই বিবরণ ঠিক কোন নথি থেকে এসেছে, লেখক ঘটনাগুলো নিজের চোখে দেখেছিলেন কি না, অন্য কোনো স্বাধীন সমসাময়িক সূত্র একই ঘটনার সমর্থন দেয় কি না এবং পরবর্তী লেখকেরা মূল বিবরণকে কতটা অপরিবর্তিত রেখেছেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার। সিরাজের বিরুদ্ধে নারীদের অপহরণের অভিযোগ ঐতিহাসিক লেখায় পাওয়া যায়—এটি একটি যাচাইযোগ্য তথ্য। কিন্তু নির্দিষ্ট কতজন নারী অপহৃত হয়েছিলেন, কখন কোথায় এমন ঘটনা ঘটেছিল, তাঁদের পরিচয় কী ছিল কিংবা প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন প্রমাণ আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা দায়িত্বশীল ইতিহাসচর্চা নয়। এখন পর্যন্ত সহজলভ্য এই বিবরণগুলোর ভিত্তিতে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা যাচাইকৃত ঘটনাক্রম উপস্থাপন করা যায় না। ফলে এই অভিযোগকে অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত রায় হিসেবে নয়।
তাহলে প্রশ্ন উঠবে, সিরাজের বিরুদ্ধে এমন নেতিবাচক বর্ণনা এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল কেন? এর উত্তর খুঁজতে হলে পলাশীর যুদ্ধের পরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফিরে যেতে হবে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ পরাজিত হন। তাঁর সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, আর মীরজাফরসহ দরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে কোম্পানির গোপন সমঝোতা তাঁর অবস্থান দুর্বল করে দিয়েছিল। সিরাজের পতনের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ক্রমশ কর্তৃত্ব বিস্তার করে। এমন পরিস্থিতিতে পরাজিত নবাবকে নিষ্ঠুর, অযোগ্য কিংবা নৈতিকভাবে অধঃপতিত শাসক হিসেবে উপস্থাপন করা বিজয়ীদের জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারত।
তবে এখানেও সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো শাসকের চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক বর্ণনা প্রচারিত হয়েছে বলেই সব অভিযোগকে ব্রিটিশদের পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সিরাজের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুধু ইংরেজ লেখকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; ফারসি ইতিহাসকারদের লেখাতেও তাঁর চরিত্র নিয়ে কঠোর বক্তব্য রয়েছে। ফরাসি সূত্রের বিবরণও আলোচনায় এসেছে। এই বহুমুখী উৎস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ বিভিন্ন পক্ষের লেখায় একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা দরকার, কিন্তু সেগুলো পরস্পরের থেকে স্বাধীন কি না, তা যাচাই করাও জরুরি। এক লেখকের বক্তব্য আরেক লেখক পুনরাবৃত্তি করলে একাধিক বর্ণনা থাকলেও তা একাধিক স্বাধীন প্রমাণ নাও হতে পারে।
সিরাজের চরিত্রের এই অন্ধকার দিক নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর শাসনক্ষমতার ব্যবহারও বিবেচনায় নিতে হবে। ১৭৫৬ সালে নবাব হওয়ার পরপরই তিনি তাঁর খালা ঘসেটি বেগমের প্রাসাদে অভিযান চালান এবং তাঁর বিপুল অর্থসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে রয়েছে। দরবারের ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত বাড়তে থাকে। জগৎশেঠদের মতো প্রভাবশালী ব্যাংকার পরিবার এবং প্রশাসনের বিভিন্ন গোষ্ঠী তাঁর প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠে। এসব ঘটনা দেখায়, সিরাজের পতনের পেছনে শুধু ইংরেজদের সামরিক শক্তি নয়, বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ব্যক্তিগত আচরণ ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্যে সম্পর্ক এখানেই তৈরি হয়। কোনো শাসক যদি বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে ব্যর্থ হন, প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন করেন এবং নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ভয় বা কঠোরতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক জোট তৈরি হওয়ার সুযোগ বাড়ে। কিন্তু সিরাজের রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি ব্যক্তিগত অভিযোগ সত্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে তাঁর নিজের আচরণ নিয়ে সব সমালোচনা অগ্রাহ্য করাও ইতিহাসের প্রতি সুবিচার নয়।
সিরাজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর বয়স ও ক্ষমতার প্রেক্ষাপট। তিনি যখন নবাব হন, তখন বয়সে তরুণ এবং উত্তরাধিকারসূত্রে বিপুল ক্ষমতার অধিকারী। কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় তাঁকে অতিরিক্ত প্রশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠা ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যা যেন তাঁর আচরণের অজুহাত না হয়ে ওঠে। অল্প বয়স, পারিবারিক প্রশ্রয় কিংবা রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা কোনো নারীর স্বাধীনতা লঙ্ঘন বা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে নিষ্ঠুর আচরণের নৈতিক বৈধতা দেয় না। অভিযোগগুলো সত্য হলে সেগুলোকে সেই সময়ের ক্ষমতাকাঠামোর আলোকে বিচার করতে হবে; আর সত্যতা অনিশ্চিত হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
আরেকটি প্রশ্ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: সিরাজের বিরুদ্ধে নারীদের অপহরণের অভিযোগ নিয়ে আধুনিক জনপ্রিয় ইতিহাসে কতটা আলোচনা হয়েছে, আর কতটা অনালোচিত রয়ে গেছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে গবেষণার ইতিহাস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর সম্পর্কে লেখা পুরোনো জীবনী, ফারসি ইতিহাসগ্রন্থের অনুবাদ, ফরাসি কর্মকর্তাদের স্মৃতিকথা এবং আধুনিক ইতিহাসবিদদের গবেষণা পাশাপাশি পড়তে হবে। বিশেষ করে মূল ভাষার পাঠ ও অনুবাদের মধ্যে পার্থক্য আছে কি না, কোনো শব্দের অর্থ পরবর্তী লেখায় বদলে গেছে কি না, কিংবা একটি অভিযোগ কীভাবে নতুন নতুন বইয়ে ছড়িয়ে পড়েছে—এসব বিষয় অনুসন্ধানের যোগ্য।
এই অনুসন্ধানের জন্য *সিয়ার-উল-মুতাখখিরিন*, জ্যাঁ ল-এর স্মৃতিকথা এবং উইলিয়াম ডালরিম্পলের *দ্য অ্যানার্কি* গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সূত্র হতে পারে। পাশাপাশি পি. জে. মার্শালের *বেঙ্গল: দ্য ব্রিটিশ ব্রিজহেড* এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ঐতিহাসিক সংকলনে সিরাজ সম্পর্কে প্রকাশিত আলোচনা পড়া প্রয়োজন। সূত্রগুলো পরস্পরের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যেতে পারে, কোন বক্তব্য প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার দাবি করে, কোনটি শোনা কথা এবং কোনটি পরবর্তী ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা।
শেষ পর্যন্ত সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি তাঁকে নায়ক কিংবা খলনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা নয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কি ইতিহাসের পরিচিত প্রতীকের বাইরে গিয়ে তাঁর মানবিক সীমাবদ্ধতা, ব্যক্তিগত আচরণ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে একই সঙ্গে বিচার করতে প্রস্তুত? বাংলার ইতিহাসে তাঁর পতন একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক করে না; আবার অভিযোগগুলো তাঁর পতনকে ন্যায়সংগতও করে না।
সিরাজের বিরুদ্ধে নারীদের অপহরণ, নিষ্ঠুরতা ও ভোগবিলাসের অভিযোগগুলো সত্য হলে সেগুলো তাঁর চরিত্রের গুরুতর অন্ধকার দিক উন্মোচন করবে। আর যদি কিছু অভিযোগ অতিরঞ্জিত, পক্ষপাতদুষ্ট কিংবা অপর্যাপ্ত প্রমাণনির্ভর হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর উৎস ও বিস্তারের ইতিহাস আমাদের দেখাবে কীভাবে পরাজিত একজন শাসকের স্মৃতি নির্মিত হয়। দুই ক্ষেত্রেই অনুসন্ধানের মূল্য রয়েছে।
কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্য কখনো কখনো কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিকে নতুন করে আবিষ্কার করা নয়; বরং তাঁর সম্পর্কে আমরা এত দিন যা বিশ্বাস করে এসেছি, তার প্রতিটি অংশকে প্রমাণের সামনে দাঁড় করানো। সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও সেটিই প্রয়োজন—আবেগের জায়গায় নথি, প্রচারণার জায়গায় তুলনামূলক যাচাই এবং অন্ধ আনুগত্যের জায়গায় কঠিন প্রশ্ন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুসন্ধান তখনই সত্যিকার অর্থে বিস্ফোরক হবে, যখন চমকপ্রদ অভিযোগের চেয়েও বড় হয়ে উঠবে সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা।
আপনার মতামত জানানঃ