এক হাতে মোটা লাঠি, অন্য হাতে শিশুর অসহায়ত্ব। আট-নয় বছরের একটি শিশু ভয়ে কাঁপছে, আর তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক একের পর এক আঘাত করছেন। কখনো লাঠির বাড়ি, কখনো লাথি, কখনো মুখে ও পেটে ঘুষি। আশপাশে বসে থাকা অন্য শিশুরা আতঙ্কে তাকিয়ে আছে। তাদের চোখে ভয়, মুখে নীরবতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দৃশ্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে। ধর্মীয় শিক্ষার জন্য অভিভাবকেরা যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখেন, সেখানে শিশুরাই যদি নির্যাতনের শিকার হয়, তবে তাদের সুরক্ষার দায় নেবে কে?
মাদ্রাসায় শিশু নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা কেবল কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগের প্রতিক্রিয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের শারীরিক শাস্তির সংস্কৃতি, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির অভাব এবং ধর্মীয় কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সমাজের একধরনের সংকোচ। প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হকের ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী লেখায় উঠে এসেছে এই সমস্যার বিভিন্ন দিক। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে আলোচনাটি আবার সামনে এসেছে। বিষয়টি তাই আবেগের পাশাপাশি তথ্য, ন্যায়বিচার ও শিশু অধিকার—এই তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা জরুরি।
মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তির অভিজ্ঞতা বহু শিক্ষার্থীর স্মৃতিতে আজও ভয়ের অধ্যায় হয়ে আছে। কেউ পড়া মুখস্থ করতে না পারায় মার খেয়েছে, কেউ নিয়ম ভাঙার অভিযোগে, কেউ আবার তুচ্ছ কোনো কারণে। অতীতে অনেক অভিভাবকও সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর সময় শিক্ষককে কঠোর শাস্তি দেওয়ার অনুমতি দিয়ে আসতেন। ‘গোশত আপনার, হাড্ডি আমার’—এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সন্তানকে শাসনের নামে নির্যাতনের সুযোগ দেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ পেত। কিন্তু সন্তানকে শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া মানে তার নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার ত্যাগ করা নয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিশুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা এক বিষয় নয়। ভুল করলে শিশুকে বোঝানো, নিয়ম শেখানো কিংবা প্রয়োজনে যুক্তিসংগত ও অহিংস শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু লাঠিপেটা, লাথি, ঘুষি কিংবা শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা কোনোভাবেই শিক্ষার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। এমন আচরণ শিশুর শরীরে আঘাতের পাশাপাশি তার আত্মবিশ্বাস, মানসিক বিকাশ ও মানুষের প্রতি বিশ্বাসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সমস্যাটি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ যুক্ত হয়। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় মৃত্যুর পরিস্থিতি, আত্মহত্যার অভিযোগ কিংবা নির্যাতনের পরিণতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রমাণ এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অপরিহার্য। অভিযোগকে আগেভাগে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা যেমন অনুচিত, তেমনি অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্মীয় শিক্ষক বলে অভিযোগকে অবিশ্বাস করাও অন্যায়।
শিশুদের জন্য যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা অনেক সময় প্রকাশ করা কঠিন। নির্যাতনকারী যদি শিক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক কিংবা এমন কেউ হন, যাঁর হাতে শিশুর দৈনন্দিন জীবন ও পড়াশোনার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তাহলে ভয় আরও বেড়ে যায়। শিশুকে শাস্তির ভয় দেখানো, ধর্মীয় বা অতিপ্রাকৃত আতঙ্ক সৃষ্টি করা, কাউকে কিছু না বলতে বাধ্য করা কিংবা অভিযোগ করলে অবিশ্বাস করার হুমকি দেওয়া—এসব কৌশল ভুক্তভোগীকে নীরব রাখতে পারে। ফলে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কী ঘটছে, তা পরিবারের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
আবাসিক মাদ্রাসার কাঠামোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিশু অল্প বয়সেই পরিবার থেকে দূরে থেকে পড়াশোনা করে। তাদের দৈনন্দিন জীবন, চলাফেরা, ঘুম, খাবার এবং শিক্ষার ওপর নির্ভরতা থাকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালকদের ওপর। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি স্বাধীন তদারকি না থাকে, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকে এবং শিক্ষকের কর্তৃত্বকে প্রশ্নাতীত মনে করা হয়, তাহলে অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অপরাধবিজ্ঞানের ‘রুটিন অ্যাকটিভিটি থিওরি’ অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি বাড়তে পারে যখন সম্ভাব্য অপরাধী, সহজে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন ব্যক্তি এবং কার্যকর তদারকির অনুপস্থিতি একই পরিস্থিতিতে উপস্থিত থাকে। এই ব্যাখ্যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অপরাধের জন্য দায়ী করে না; বরং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ শনাক্ত করে প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
এখানে ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক বিশ্বাসের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে আলেম, হাফেজ কিংবা ধর্মীয় শিক্ষকের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা রয়েছে। এই শ্রদ্ধা স্বাভাবিক এবং ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণও হতে পারে। কিন্তু শ্রদ্ধা কখনোই জবাবদিহির বিকল্প নয়। কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পোশাক, পরিচয় বা শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে না। বরং যাঁরা নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখান, তাঁদের আচরণে সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন প্রত্যাশিত।
সমস্যা দেখা দেয় যখন কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা করা, অভিযোগকারীকে সন্দেহ করা কিংবা ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেওয়া। অবশ্যই মিথ্যা অভিযোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে শাস্তি না পান, সেটিও ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের আশঙ্কা দেখিয়ে সব অভিযোগ একসঙ্গে অস্বীকার করা সমাধান নয়। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা নির্ধারণ করতে হবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে কাজ করতে দিতে হবে।
কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন বোর্ড ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে অন্য নামে নতুন প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারছেন কি না, তাঁর বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে কি না, কিংবা শিশু সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। কোনো বোর্ডের হাতে সরাসরি তদন্ত বা শাস্তি দেওয়ার আইনি ক্ষমতা সীমিত থাকলেও, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া, তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা কখনোই সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হওয়া উচিত নয়।
শিশু নিপীড়নকে কেবল মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবেও দেখা ঠিক হবে না। পরিবার, সাধারণ স্কুল, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া একাডেমি কিংবা গৃহশিক্ষকের কাছেও শিশু নির্যাতনের শিকার হতে পারে। যেখানেই প্রাপ্তবয়স্কদের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং শিশুর অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত হয়, সেখানেই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে অন্য প্রতিষ্ঠানেও অপরাধ ঘটে—এই যুক্তি দিয়ে মাদ্রাসার নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোকে খাটো করার সুযোগ নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায় তার নিজস্ব পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ও অপরাধের বিচার নিয়ে আইনগত কাঠামো থাকলেও বাস্তবায়ন, নজরদারি এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথম আলোর উল্লিখিত লেখায় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য উদ্ধৃত করে মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নিপীড়নের একাধিক ঘটনার কথা বলা হয়েছে। সেখানে ২০২৫ সালে অন্তত ৫২ শিশুর যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া এবং ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গণমাধ্যমে অন্তত ২১১টি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যানের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও গণনার পদ্ধতি যাচাই করা জরুরি। কারণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা মোট ঘটনার পূর্ণ চিত্র নয়; আবার অভিযোগের সংখ্যা, তদন্তে প্রমাণিত ঘটনা এবং আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাও এক বিষয় নয়। তবু এমন তথ্য শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার যথেষ্ট কারণ তৈরি করে।
সমাধানের জন্য প্রথমেই প্রতিটি মাদ্রাসায় সুস্পষ্ট শিশু সুরক্ষা নীতিমালা চালু করা দরকার। শিক্ষক ও কর্মীদের নিয়োগের আগে তাঁদের পরিচয় এবং প্রাসঙ্গিক অতীত রেকর্ড যাচাই করতে হবে। শিশুদের সঙ্গে একান্তে অবস্থানের ক্ষেত্রে নিরাপদ নীতিমালা থাকতে হবে, যাতে শিক্ষাদান ও তত্ত্বাবধানের কাজ চললেও অপব্যবহারের সুযোগ কমে। আবাসিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও স্বাধীন পরিদর্শন, নিরাপদ অভিযোগ বাক্স, গোপনীয়তা রক্ষা করে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং জরুরি সহায়তার নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা থাকা উচিত। অভিযোগ উঠলে শিশুকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাগালের বাইরে নিরাপদ স্থানে রাখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি।
শিক্ষকদের জন্যও শিশু অধিকার, নিরাপদ আচরণ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ইতিবাচক শৃঙ্খলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। শুধু নিয়োগের সময় যাচাই করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; নিয়মিত তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে সে ভয় ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে পারে। শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, অস্বাভাবিক আতঙ্ক কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে যেতে প্রবল অনীহা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। তবে এসব লক্ষণ একাই নির্যাতনের প্রমাণ নয়; প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিয়ে সতর্কভাবে পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুদের প্রতি সদয় আচরণ, ন্যায়বিচার ও ক্ষতি প্রতিরোধের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ইসলামী আইনশাস্ত্রের ‘সাদ্দুজ জারায়ে’ নীতি ক্ষতির পথ আগেভাগে বন্ধ করার ধারণাকে গুরুত্ব দেয়। সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ হওয়া উচিত এমন পরিবেশ তৈরিতে, যেখানে শিশু নির্যাতনের সুযোগ কমে আসে এবং অভিযোগ উঠলে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় অপরাধের অভিযোগ চাপা দেওয়া নয়; বরং সত্য উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
শিশুরা মাদ্রাসায় যায় ধর্ম শিখতে, নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে এবং নিরাপদ পরিবেশে জ্ঞান অর্জন করতে। তাদের সেই প্রত্যাশাকে ভয়ের অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে দেওয়া যায় না। কোনো শিশুর কান্না শিক্ষকের ক্ষমতার প্রদর্শনী হতে পারে না, কোনো অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার নামে চাপা পড়তে পারে না, আর ধর্মীয় পরিচয় অপরাধের ঢাল হতে পারে না। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের নীতিও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে, যাতে অভিযোগকারী সুরক্ষা পান এবং নিরপরাধ কেউ অন্যায়ের শিকার না হন।
এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলেমসমাজ, মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক ও রাষ্ট্র কে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? কেবল বিবৃতি, ক্ষোভ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন কার্যকর নীতিমালা, স্বাধীন তদারকি, স্বচ্ছ তদন্ত এবং জবাবদিহি। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখতে হলে প্রথমে স্বীকার করতে হবে—সেখানেও অপরাধ ঘটতে পারে, আর অপরাধ ঘটলে তা প্রতিরোধ ও বিচারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। শিশুদের সুরক্ষায় নীরবতা কোনো নিরপেক্ষ অবস্থান নয়। যে নীরবতা নির্যাতিত শিশুকে একা ফেলে দেয়, তা শেষ পর্যন্ত অপরাধীরই সুবিধা করে দেয়। আলেমসমাজের সামনে তাই এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—ধর্মের মর্যাদা রক্ষার নামে নয়, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার স্বার্থেই শিশু নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।
আপনার মতামত জানানঃ