Trial Run

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ রূপনগর ও আদাবরে

ছবি: সংগৃহীত

শুরু থেকেই রাজধানীতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, রাজধানীর ১৯টি থানা এলাকা এখন করোনা সংক্রমণের দিক দিয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব থানায় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৩১ থেকে ৪৬ শতাংশ। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রূপনগর ও আদাবর থানা এলাকা।

এর বাইরে রাজধানীর ২৩টি থানা এলাকায় নমুনার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে (২১-৩০ শতাংশ) এবং সাতটি থানা এলাকায় শনাক্তের হার ১১ শতাংশের বেশি (১১-২০ শতাংশ)।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রকাশিত আইইডিসিআরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার বিশ্লেষণ করা হয়। দুটি থানায় (কোতোয়ালি ও সদরঘাট) নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ১০টির নিচে। তাই এ দুটিকে হিসাবে নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপের সময়কালে ডিএসসিসি এলাকায় করোনা শনাক্তে ১৪ হাজার ৩৩২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫ হাজার ১০৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শনাক্তের হার ৩৬ শতাংশ। একই সময় ডিএনসিসি এলাকায় ৩৬ হাজার ৭৭১টি নমুনা পরীক্ষায় ১০ হাজার ৮৪৩ জন শনাক্ত হয় অর্থাৎ শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ।

আইইডিসিআর-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণে দেখ গেছে, রাজধানীর রূপনগর থানা এবং আদাবর থানা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। রুপনগরে শনাক্তের হার ৪৬ শতাংশ ও আদাবরে ৪৪ শতাংশ। ঢাকার আরও ১৭টি থানায় শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের বেশি। ২৩টি থানায় ২০ শতাংশের বেশি এবং ৭টি থানায় ১১ শতাংশের বেশি।

নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে- তেজগাঁও ডেভলপমেন্ট, উত্তর পশ্চিম থানা, ভাসানটেক, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট থানা, তেজগাঁও শিল্প থানা ও বিমানবন্দর থানা। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি রয়েছে শাহবাগ, বংশাল, লালবাগ, শাজাহানপুর, রমনা, কামরাঙ্গীরচর, শ্যামপুর, বাড্ডা, বনানী, উত্তরখান, শেরে বাংলা নগর, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, পল্লবী, কাফরুল, ডেমরা, ওয়ারী, ভাটারা, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, কদমতলী, উত্তর পূর্ব থানা ও পল্টন।

আইইডিসিআরের পরামর্শক মুশতাক হোসেন বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহামারি শহরাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হতে দেখা যায়। ঢাকায় বড় বড় অনেক হাসপাতাল আছে, কিন্তু গ্রাম এলাকার মতো এলাকাভিত্তিক জনস্বাস্থ্যকাঠামো নেই। এটা একটা বড় দুর্বলতা।দরকার ছিল প্রতিটি ওয়ার্ডে আইসোলেশন কেন্দ্র, ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা। তবে সিটি করপোরেশনের সে ধরনের অবকাঠামো ও জনবল নেই।

তবে এটা এখনো অল্প সময়ের মধ্যে করা সম্ভব। তিনি বলেন, সংক্রমণ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে হবে। রাজাবাজার বা ওয়ারীর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এসব ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবীর অভাব হয় না। প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তারা ভালো করেন।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহব্যাপী লকডাউন শেষ হচ্ছে আজই। কিন্তু লকডাউন বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতা আগামী দুইদিন, অর্থাৎ ১২ ও ১৩ এপ্রিল বজায় থাকবে।

আজ রবিবার এ কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে করোনা বিধিনির্দেশ পালনে দেখা গেছে উদাসীনতা।

লকডাউনের মাঝেই গত শুক্রবার (৯ এপ্রিল) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা জারি হয়। অফিসগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে গণপরিবহন পুনরায় চালুর নির্দেশও দেয়া হয় সরকারের তরফ থেকে।

এমতাবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকালে সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার দেশব্যাপী চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহের জন্য বাড়ানোর কথা ভাবছে।

সেদিনই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে টানা এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের কারণে বন্ধ থাকবে। শুধু জরুরি সেবাগুলো চালু থাকবে। এ সময়ে কোনো পরিবহন চলতে পারবে না। তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলোও বন্ধ থাকবে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১২৫৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ