Trial Run

করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে গত সোমবার (৫এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য দেশজুড়ে একধরনের লকডাউন চলছে। সরকারি বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনেই দেশে মৃত্যু ও শনাক্তের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান ঢিলেঢালা বিধিনিষেধ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা বোঝা যাবে আরও দুই সপ্তাহ পর। এর আগ পর্যন্ত অন্তত দুই সপ্তাহ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। একইভাবে সামনের তিন সপ্তাহে মৃত্যু আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) দেশটির নাগরিকদের কোনও দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংক্রমণ বিবেচনায় চারটি স্তর নির্ধারণ করেছে। এই স্তরের চতুর্থ তালিকা হচ্ছে ‘সংক্রমণ খুই উচ্চ’। যে স্তরে আছে বাংলাদেশও।

দুই লাখের বেশি জনসংখ্যা রয়েছে এমন অঞ্চল বা দেশে ২৮ দিনের মোট আক্রান্তের হার যদি প্রতি লাখে ১০০ জনের বেশি হয়, তবে সেটি চতুর্থ স্তরে পড়ে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে সিডিসি।

সিডিসি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া সতর্কবার্তায় বলেছে, বাংলাদেশের এখনকার পরিস্থিতি এমন যে টিকা নেওয়া কোনও ব্যক্তিও সেখানে ভ্রমণ করে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। যদি বাংলাদেশে ভ্রমণ করতেই হয়, ভ্রমণের আগে টিকার সব ডোজ নিতে হবে। অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং অন্যদের কাছ থেকে কমপক্ষে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৬ এপ্রিল মহাখালীর ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশন মার্কেট হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা না মানলে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে। হাসপাতালগুলোতে বেড সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেড সংখ্যা যতোই বাড়ানো হোক না কেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কিছুতেই করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা বলেন, ৬ এপ্রিল এবং ৭ এপ্রিল তাদের ল্যাবে করোনার নমুনা শনাক্তের হার ছিল ২৭ এবং ২৬ শতাংশ। মার্চের শেষ দিকে একদিনে শনাক্তের সর্বোচ্চ হার ছিল ৩৯ শতাংশ। মার্চের শেষ এবং এপ্রিলের শুরু থেকে কয়েকদিন ধরে দিনে শনাক্তের হার ৩১ থেকে ৩২ শতাংশ।

ডা. নুসরাত সুলতানা বলেন, ২ এপ্রিল মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা হলো। সেটার ফল আমরা এখনও দেখতে পাইনি। এক থেকে দুইদিনের মধ্যেই পাবো। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর সংক্রমণের নতুন মাত্রা দেখা যাবে। এই দুই সপ্তাহ বেশ সংকটময়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক হাজার ১২১টি। পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৫৬০ জন। সংক্রমণের হার প্রায় ৫০ ভাগ।

‘২ এপ্রিল মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন করোনা ইউনিটেরই দায়িত্বরত চিকিৎসক, ল্যাবে দায়িত্বরত এবং টেকনোলজিস্টরা। আমরা যারা পরীক্ষা নিয়েছি, তারা এমনিতেই বেশি এক্সপোজারের শিকার হয়েছি। কারণ আমরা ভাইরাসের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিলাম।’ এমনটা জানান সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের থেকে আমরা সংক্রমিত হবো কিনা, তারচেয়ে বেশি চিন্তা আমাদের কাছ থেকে ওরা সংক্রমিত হলো কিনা তা নিয়ে।’

লকডাউনকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা উল্লেখ করে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘এতে প্রান্তিক মানুষের খুব সমস্যা হচ্ছে। তাই সবদিক সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগীদের কন্টাক্ট ট্রেসিং করে তাদের আইসোলেশনে নিতে হবে। তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন করতে হবে। চলমান টিকাদান কর্মসূচিতেও আরও জোর দিতে হবে।’

সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের ঘোষণায় প্রচুরসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা যায়। সরকার আবার বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালাতে হলে দ্বিগুণ বাস রাস্তায় নামাতে হবে। তিনি বলেন, শুধু নির্দেশনায় কাজ হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে রোগী ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। গত বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন, কিন্তু এর কতটিতে হয়েছে? ৭৯টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করার কথা। হয়েছে মাত্র ২৯টিতে। এভাবে সংক্রমণ মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৪৫৩


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ