Trial Run

লক্ষ্মীপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হাজিমারা এলাকায় ভূমিহীনদের সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বেশ কয়েকটি ঘরের মেঝে ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও খাবার পানি নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সুবিধাভোগীরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি,২০২১ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর একযোগে উপজেলা পরিষদের হলরুমে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর হাতে ঘর ও জমির দলিল তুলে দেয়া হয়। এর মধ্যে রায়পুর উপজেলায় ১১৫টি পরিবার রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম দিকে রায়পুর উপজেলায় প্রতিটি ঘর নির্মাণে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে মোট ২৫টি ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরীকে। তদারকির দায়িত্ব পান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিলীপ দে।

প্রকল্পের আওতায় উপজেলার দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়নের হাজিমারা স্লুইসগেট মেঘনা নদীসংলগ্ন হাজিমারা এলাকায় এ ২৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে একই প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ কাজ চলছে আরো ২৫টি ঘরের।

প্রকল্পের অধীনে নির্মাণকাজ পাওয়া রাজমিস্ত্রি সুভাশ ও মোবারক জানান, দেড় মাস সময় নিয়ে প্রায় ৬৫ জন শ্রমিক ঘরগুলো নির্মাণ করেছেন। সময় ও বাজেট স্বল্পতার কারণে তারা ঠিকভাবে কাজ শেষ করতে পারেননি। ফলে মাটি নরম থাকায় ঘরগুলোর দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

প্রকল্পের ২০ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন চরলক্ষী গ্রামের মোহাম্মদ আলী ফকির। ৭ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন আয়শা খাতুন। দুজনেই নিজেদের ঘরের ফাটল ও আস্তর উঠে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রহিম মিয়া ও সাজেদা বেগম জানান, তারা কিছুদিন আগে ঘরে বসবাস শুরু করেন। ঘরে ওঠার পরই পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান। ৮ নম্বর ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত শাহজাহান মিয়া (৭০) জানান, তার ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। মিস্ত্রিরা নিম্নমানের ঘর নির্মাণ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু, সুমন, রফিকসহ বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, গৃহ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সিমেন্ট কম দিয়ে মিস্ত্রিরা কোনোরকমে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এ জন্যই দেয়াল, মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষা শুরু হলে বেশির ভাগ ঘরই টিকবে না, ভেঙে পড়ে যাবে। তারা সরকারের কাছে টেকসই মজবুত ঘর নির্মাণের জন্য দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, ‘রায়পুরে চরকাছিয়া গ্রামের ঘরগুলো পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। সর্বোচ্চভাবে নজরে রাখছি।’

উল্লেখ্য,-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে রায়পুর উপজেলার ‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ তাদের জন্য ১১৫টি ঘর নির্মাণ বাবদ বরাদ্দ যার মধ্যে প্রথম শ্রেণির ঘর পাবেন, যাদের জমি নেই ও ঘরও নেই তারা। সরকারি খাস জমিতে প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে দুটি বেড রুম, একটি করে রান্না ঘর, ইউটিলিটি রুম, টয়লেট ও বারান্দা। দুর্যোগসহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই থাকবে সোলার সিস্টেম আর বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা উপজেলা কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে বরাদ্দের অর্থ তুলে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী তৈরি করেন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে। ভূমিহীনদের জন্য যে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, এতে নিম্নমানের ইট, খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ, নিম্নমানের বালু ও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। বড় কোনো ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৮১০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ