Trial Run

মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশের গুলিতে জেলে নিহত

ছবি:সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশের টহল দলের সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুদ (২২) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল (১৫মার্চ) সোমবার দিবাগত রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মৃত্যু হয় মাসুদের। মাসুদ উপজেলার মুন্সীগঞ্জের কালিরচর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলেদের নিক্ষেপ করা ইটপাটকেলে মোহনপুর নৌপুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসেন আহত হয়েছেন। তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। নিহত মাসুদ হোসেনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের কালীরচর এলাকায়।

চাঁদপুরের নৌ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, জাটকা নিধন প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের একটি টহল দল রাতে নদীতে নামে। এ সময় মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে ৫ সদস্যের একদল জেলে নদীর জাটকা নিধন করছিলেন। পুলিশ ধাওয়া করলে বিপরীত দিক থেকে জেলেরা ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে মাসুদ নামের এক জেলে বাম পায়ের ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হন।

নৌ পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ সময় পুলিশ আহত অবস্থায় মাসুদ হোসেনসহ নবীর হোসেন (১৫) ও আমির হোসেন (৭৫) নামে আরও তিন জেলেকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় মাসুদকে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, জাটকা সংরক্ষণে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ছয় জেলার পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে সবধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। জেলাগুলো হল- বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, শরীয়তপুর ও লক্ষীপুর। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল-জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন। তিনি জানান, এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো এ বিষয়ে জেলেদের সচেতন ও সতর্ক করে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ সময়ে নিয়মিত টহলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমনিতেই জাটকা ও ইলিশের ডিম পাড়ার মৌসুমে মাছ ধরার উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেদের ওই সময়ে কোনো উপার্জন থাকে না। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে যে সহায়তা দেয়া হয় তা-ও সময়মতো হাতে পাওয়া যায়না। ফলে পরিবারের সদস্যদের খাদ্যের যোগান দিতে বাধ্য হয়ে অনেক জেলেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে যায়।

রফিক নামের একজন জেলে বলেন, ‘আমাদের অর্থ বা খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন নেই। বরং আমাদের বিকল্প কর্মসংস্থান কিংবা মৌসুমী ব্যবসার জন্য প্রশিক্ষণ বা অর্থ সহায়তা প্রদান করুন যাতে আমাদের দৈনন্দিন একটি উপার্জন হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন,  ইলিশ সংরক্ষনে ট্রাষ্ট ফান্ড গঠন করা গেলে জাটকা মৌসুমে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে। এ বিষয়ে সরকারের সহায়তা দাবি করেন তারা।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১২৩০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ