Trial Run

‘এখন আমি কি ফ্রান্সকে বয়কট করবো নাকি করবো নাহ…??’ লেখার জন্য বহিস্কার

ফ্রান্স বয়কটের ইস্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়ায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বহিষ্কারদেশ প্রদান করা হয়। যদিও ওই বহিষ্কারদেশে মহানবী (সাঃ) ও ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক অভিযুক্ত ছাত্রের ফেসবুক ঘেটে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এ ঘটনার পর ফ্রান্স বয়কটের ডাক দেয়াকে কিভাবে ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি হতে পারে, তা নিয়ে ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সমালোচনাকারী বলছেন, ফেসবুকে একটা মানুষের ব্যাক্তিগত জায়গা। সেখানে এ ধরনের মতামত প্রদান করায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

জানা গেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার নোবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বুধবারও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করেন। এরমধ্যে বুধবার প্রতীক মজুমদার ও দীপ্ত পাল নামে দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বহিষ্কারদেশে বলা হয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং বাংলাদেশ সরকারের আইন মোতাবেক দন্ডনীয় অপরাধ করায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয় হতে সাময়িক বহিষ্কার এবং হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। সেই সাথে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না এবং আইসিটি আইনে মামলা হবে না, তা নভেম্বরের দুই তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্যমতে, এর আগে ফ্রান্স বয়কটের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দীপ্ত পাল নামের ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আজকে ফ্রান্সের ভিসা পেলাম। এখন আমি কি ফ্রান্সকে বয়কট করবো নাকি করবো নাহ….?’। যদিও বর্তমানে ওই স্ট্যাটাসটি ফেসবুকে এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বহিস্কারাদেশের প্রতিবাদে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে   প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অনেকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সরকার ও প্রশাসনের প্রতি-

এই অতি সাধারণ কথাটি ফেসবুকে লেখার কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বহিস্কার করতে পারে একজন ছাত্রকে? ভাবতে পারেন দেশটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের এমন সাদামাটা প্রশ্ন করার অধিকারও কি নাই? এটা কেমন দেশ?

অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল কাজ শিক্ষাদান, গবেষণা, মেধাসর্বস্ব মানুষ গড়ার কাজ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় চেতনা-অনুভুতি রক্ষার দায়িত্ব পালন করে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে ‘সোস্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রের বহিস্কার’। খুবই তুচ্ছতাচ্ছিল্য কারণে বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাত্রদের বহিস্কার করছে বলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •