ঢাকা, ১৭ জুন: জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আব্দুল মুনতাকিম নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
রোববার সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং তার মা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের একজন।
তবে পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা কীভাবে শহীদ হলেন।
বিতর্কের মুখে তিনি পরে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার বক্তব্য আক্ষরিক অর্থে নেওয়া ঠিক হয়নি। তার দাবি, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তার পরিবারে যুদ্ধশহীদ রয়েছেন। তিনি বলেন, তার বাবা জীবিত আছেন এবং যাকে তিনি যুদ্ধশহীদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তিনি মূলত তার বাবার চাচা।
এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য কাম্য নয়। একজন আইনপ্রণেতার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশিত।
সমালোচকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস বহু ত্যাগ ও আত্মদানের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তাই রাজনৈতিক বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ব্যবহার করতে হলে তথ্যগত যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় তা ইতিহাস বিকৃতি বা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির কারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ এখনও বিদ্যমান। তবে ইতিহাসের প্রশ্নে তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত জানানঃ