
সাইফুল বাতেন টিটো
প্রতিবেদনটি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইল পত্রিকায় অনলাইনে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে করা
২০২৩ সালের পর ভেবেছিলাম এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন আর করবো না। ৫ বছরের কাজই হয়তো যথেষ্ট। আর কতো করবো? আমার অন্যান্য অনেক কাজ রয়েছে। সুইডেনে থাকতে খেতে যেই পরিমান খরচ তাতে আমাকে প্রতিনিয়ত কাজের জন্য ছুটতে হয়। কিছু করার নেই। কিন্তু আমি সেটা পারিনি। এই তথ্য সংগ্রহের কাজ থামিয়ে দিতে পারিনি। সবসময়ই এই গবেষণামূলক কাজ চালিয়ে গিয়েছি। এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের মে মাসের।
চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল আর মে মাসে হঠাৎ করে মাদ্রাসায় এমন ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হলো যে পৃথিবীর সভ্য কোনো দেশ হলে মহামারি ঘোষণা করে ইমিডিয়েট সব মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতো। এই দুটি মাস যেন বাংলাদেশের শিশুদের জন্য ভয়াবহ কাল মাস হয়ে উঠেছে। কেবল মাদ্রাসা নয়। এই দুই মাসে অন্যন্য শিশুদের যেমন করা হয়েছে ধর্ষণ, তেমনি শিশুদের উপর চলেছে নানা ধরণের নির্যাতন পাশাপাশি ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে অনেক শিশুকে। এর বাইরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশে গত দুমাসে সরকারী হিসেবে কেবল হামে আক্রান্ত হয়ে ৬০০ র অধিক শিশু মারা গিয়েছে। কিন্তু বেসরকারী হিসেবে বা বাস্তবতা হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মারা গেছে হাজারের উপরে। ইউনিসেফ বলছে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত নতুন ও পূর্বের সংখ্যা মিলে মোট ১১৮ জন শিশু সরাসরি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর বাইরেও অন্তত ৪৬ জন শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে।
এবারে একটু চোখ দেই পবিত্র মানুষ বানানোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসার দিকে। মাদ্রাসায় কেবল মে মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৮ শিশু, ধর্ষণ চেষ্টা চালানো হয়েছে অন্তত ১০ শিশুর উপরে এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে ১ মাদ্রাসা শিশুকে, ধর্ষণের ফলে আট মাসের অন্তস্বত্বা এক ১২ বছরের শিশু! অমানবিক নির্যাতন চলেছে ৪ মাদ্রাসার শিশুর উপরে, যৌন নিপিড় করা হয়েছে অন্তত ২ শিশুকে। কেবল চার মে আমরা ধর্ষণের সংবাদ পেয়েছি অন্তত ৬ টি। একটি কথা আমি সবসময় বলি যে বাংলাদেশে অন্তত তিন লক্ষ মাদ্রাসায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমান ছাত্র-ছত্রীর উপর যৌন নির্যাতন ও শারিরীক নির্যাতন চলে, তার ০০.০০১ ভাগও প্রকাশিত হয় না। আবার যা প্রকাশিত হয় তার অন্তত ৫০% ঘটনার কোনো সংবাদ হয় না। আর যতো সংবাদ প্রকাশিত হয় আমি তার ৪০ থেকে ৫০% ভাগ সংবাদ সংগ্রহ করতে পারি। সুতরাং আপনি বলতেই পারেন এখন আপনি যা দেখছেন বা শুনছে অথবা পড়ছে তা মাদ্রাসায় ঘটা ঘটনার ছিটেফোঁটা মাত্র। চলুন প্রথমে আমরা সংবাদ শিনামগুলো দেখে নেই।
মে মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ডা. সায়মা নামের এক চিকিৎসকের ফেইসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিও দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশে। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি প্রেগনেন্সি টেস্ট করার আল্ট্রাসনোগ্রাম করছেন একজনের আর তার সাথে কথা বলছেন। যার প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হচ্ছে সে মাত্র ১২ বছরের একটি শিশু। আল্ট্রাসনোগ্রামের ফলাফল জানা গেলো ১২ বছরের শিশুটি ৭ মাসের প্রেগনেন্ট! শিশুটি চিকিৎসক সায়মাকে জানিয়েছে এর জন্য দায়ী তারই মাদ্রাসারা শিক্ষক হাফেজ আমান উল্লাহ্ সাগর।
সংবাদ মাধ্যমকে ডা. সায়মা বলেন, বাচ্চাটি তার মায়ের সঙ্গে আমার ক্লিনিকে আসে এবং জানায়, যে তার পেটে সবসময় ভারী অনুভব করে এবং তার পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। পরে প্রাথমিকভাবে তাকে পরীক্ষা করে দেখতে পাই, বাচ্চাটি রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে।
তিনি আরও জানান, অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির গর্ভে থাকা শিশুর বয়স ২৭ সপ্তাহের বেশি। প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস। শিশুটির বয়স ১২ বছর, উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। গর্ভস্থ শিশুটির বাইপ্যারাইটাল ডায়ামিটার (মাথার দুপাশের হাড়ের দূরত্ব) প্রায় ৭৪ মিলিমিটার। যা শিশুটির পেলভিকের তুলনায় অনেক বড়। অর্থাৎ শিশুটির সরু কোমরের তুলনায় গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার মাপ অনেক বেশি। এটি বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এছাড়া বাচ্চাটির রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মাত্র ৮.২, যা মারাত্মক রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। সে অপুষ্টি এবং কৃমির সমস্যায়ও ভুগছে। সরু পেলভিসের ভেতর দিয়ে বড় মাথার বাচ্চা প্রসব করা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়, যা মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আসল নাটক শুরু হয় এর পর থেকেই। আর সেই নাটকে রংচং মেখে অভিনয় কেউ কম করেনি। প্রথমেই বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকেরা হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দিতে থাকে ডা. সায়মাকে। ভিডিও সরিয়ে নিতে বলে। কিন্তু ততক্ষণে লাখ লাখ ফেইজবুক আইডি ও পেইজ থেকে ভিডিওটি রিআপলোড হয়ে গিয়েছে। ডা. সায়মার জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তিনি জীবন বাঁচাতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন গণমাধ্যমের সহায়তায়, এবং সম্ভবত সরকারের পক্ষ থেকে ডা. সায়মাকে নিরাপত্তা দেয়া হয়।
এর মধ্যে হঠাৎ করে ফেইসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দেয় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আমান উল্লহ্ সাগর। সেখানে সে যথারীতি ভিক্টিম ব্লেইমিং শুরু করে। সে দাবী করে এই ঘটনার সাথে সে কোনো ভাবেই যুক্ত না বরং ঐ মেয়ে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকাকালীন সে তার নানার সাথে ঘুমাতো, নানা এর জন্য দায়ী হতে পারে।
এরপর শুরু হয় নাটকের আরেক অংক! কওমি ঘরানার ইসলামি বক্তা যুবায়ের আহমেদ তাশরিফ তার ২ মিলিয়ন ফলোয়ারের পেইজ থেকে ঘোষণা দিলো যে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে যে ১২ বছরের শিশু গর্ভবতী হওয়ার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর নির্দোষ, ঐ বাচ্চার বাবা তার নানা!
দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো মিথ্যের আগুন! মূহুর্তেই ভাইরাল হলো সেই স্ট্যাটাস। লক্ষ লক্ষ শেয়ার হলো। সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিলো তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সার ইউটিউবার কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। সেও দুয়েকটি শব্দ এদিক ওদিক করে ঐ একই বক্তব্য তার পয়তাল্লিশ লাখ ফলোয়ারের পেইজে দিয়ে অভিযুক্ত হাফেজ আমান উল্লাহ্ সাগরকে নির্দোষ ঘোষণা করে দিলো। ধর্ষক বানিয়ে দিলো শিশুটির নানাকে। হ্যাঁ, আপনাদের পিও সালমান মুক্তাদির করেছে এই কাজটি।
ফের গজব নেমে এলো ডা. সায়মা সহ আমাদের সকলের উপর। কারণ ততক্ষণে মাদ্রাসার লোকেরা আমাদের নিয়ে ট্রল করা শুরু করেছে। তারা ডাক্তার সায়মার চরিত্র হনন শুরু করলো, তার সাথে ইশকন ও মোসাদের সম্ভর্ক খোঁজা শুরু করলো।
এই সালমান বিন মুক্তাদিরেরা এই সমাজের জন্য কতোখানি ক্ষতিকর একবার ভাবেন! সালমান তার যে পেইজ থেকে এই ঘোষণা দিলো সেখানে তার পঁয়তাল্লিশ লাখ ফলোয়ার! যাদের বেশিরভাগই বিশ্বাস করলো সত্যিই অভিযুক্ত আমান উল্লাহর ডিএনএ টেস্ট করা হয়ে গিয়েছে, সে নির্দোস এবং মেয়েটির নানাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
কারো মাথায় এই প্রশ্নগুলো আসলো না যে ডিএনএ টেস্ট কবে করা হলো? কার নির্দেশে করা হলো? কারা করলো? কোথায় করলো? কবে ফলাফল জানালো? তিন দিনের মধ্যেই সব কিছু কীভাবে হলো?
যেখানে অভিযুক্ত হাফেজ এখোনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে সেখানে কার ডিএনএ কীভাবে টেস্ট করা হলো? আপনার কী মনে হয় এই বিষয়গুলো সালমান মুক্তাদির জানে না বা বোঝে না? মোটেই তা নয়! সে জেনে শুনে বুঝে আঁটঘাট বেঁধেই একজন ধর্ষণে অভিযুক্তকে বাঁচাতে নেমেছে।
এর মধ্যে এক মাওলানা স্ট্যাটাস দিলো যে যদি ১২ বছরের মেয় প্রেগন্যান্ট হয় তাহলে বিয়েরে জন্য মেয়েদের কেন ১৮ বছর হতে হবে?
আমার মাথায় আসে না এর কোন জাতের মানুষ! এরা কি আসলে মানুষ?
তবে যারা এই ন্যাক্কারজন ঘটনার প্রতিবাদ শুরু থেকে করে আসছিলেন তাদের কাছে মোটেই পাত্তা পায়নি এই ইসলামি বক্তা জুবায়ের আহমেদ তাশরিফ ও সালমান মুক্তাদিরদের মিথ্যাচার। সবাই বুঝে গিয়েছে। আশারা কথা হলো ৫ মে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং আদালত ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দিয়েছে।
এর পরে যে ঘটনাটির দিকে নজর দেবো সেটি একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী একটি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ধর্ষণের ঘটনা দেখতে পাবো। যে ছাত্রটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে সে একটি মাদ্রাসারা ছাত্র এবং ধর্ষণকারীও মাদ্রাসার শিক্ষক। কিন্তু অদ্ভুৎ ঘটনা হলো তারা কেউই একই মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক না। ধর্ষক আলাউদ্দিন সাবেরি নিজ এলাকায় নিজে এক মাদ্রাসার পরিচালক এবং পাশাপাশি চৌমোহিনী হকার্স মার্কেটের ‘ডিজাইন শৈলী’ নামক প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখায়। কর্মমূখি শিক্ষা বিমুখ ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্য এক মাদ্রাসার ছাত্র সেই প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে যায়। সেখানে প্রথম দিনই অন্য মাদ্রাসা শিক্ষক আলাউদ্দিন সাবেরি ছাত্রটিকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার বিস্তারিত জানার পর প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসে সেটি হলো ধর্ষক হাফেজ আলাউদ্দিন সাবেরি সে যে মাদ্রাসার পরিচালক সেই মাদ্রাসার কতোগুলি ছাত্র বা ছাত্রীর সাথে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে? ২য় যে প্রশ্নটি আসে সেটি হলো মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে কি কোনো মানুষ কোথাও নিরাপদ না? মানে মাদ্রাসায় ধর্ষণ করে তো করেই এর বাইরে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম দিন একটি ছাত্রকে পেলো অমনি ধরে ধর্ষণ করে দিলো! মানে এটা কি তাদের কাছে মারাত্মক কোনো মাদকের মতো?
চার মে মাদ্রাসা সংক্রান্ত মোট ছয়টি সংবাদ পেয়েছি আমরা। ষষ্ঠ সংবাদটির শিরনাম ‘রাজধানীতে ঘুম থেকে জাগিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে জখম, বর্বর লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় বাবার অভিযোগ!“
ঘুম থেকে জাগিয়ে এরকম নির্যাতনের সংবাদ অনেক পেয়েছি। এমনকি ঘুম থেকে তুলে নিয়ে শিক্ষক তার রুমে নিয়ে সারা রাত শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে এরকম নিউজেরও অভাব নাই। এই ঘুম থেকে জাগিয়ে অমানুসিক ভাবে পেটানোর ঘটনা আমি যতোগুলোই পেয়েছি তার প্রায় সবগুলোতেই দেখেছি শিক্ষক আসলে শিশুটিকে ঘুম থেকে তুলে ধর্ষণ করতে চেয়েছিলো। শিশুটি রাজি হয়নি বলেই তার উপর চলে পাশবিক নির্যাতন। বর্বরতার মাত্রা চিন্তা করুন।
১৪ মে আমরা মাদ্রাসা সংক্রান্ত সংবাদ পেয়েছি মোট চারটি। তার মধ্যে মরুভূমির মধ্যে একফোঁটা জলের মতো একটি সস্তিদায়ক সংবাদ আমরা পেয়েছি। সেটি হলো এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় এক ইমামের ৭ বছরের জেল হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন যেই হারে আমরা শিশু ধর্ষণের সংবাদ পাই সেই হিসেবে বিচারের পরিমান খুবই কম। যেমন এই মাসে আমরা মাদ্রাসায় হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা সহ মোট ৩৬টি সংবাদ পেয়েছি। তার মধ্যে মাত্র একটি সংবাদ হলো বিচারের। যা খানিকটা স্বস্তি দিলেও কোনো আশা ভরসা যোগায় না।
১৬ মে বাংলাদেশের প্রায় সকল গণমাধ্যম একটি সংবাদ করেছে সেটি হলো জিন তাড়ানোর নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণ। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার নামাজগড় নামক স্থানে। এটি বাংলাদেশে একটি কমন ধর্ষণের ঘটনা। প্রায়ই আপনি এমন সংবাদ পাবেন। এই চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসা করে থাকে তার নাম রুকাইয়া। মানে কোরান হাদিস থেকে শিক্ষা নিয়ে রোগের চিকিৎসা করা। বাংলাদেশে বিভিন্ন যায়গায় এখন এই চিকিৎসা রমরমা চলছে। তার মধ্যে অন্যতম বড় রুকাইয়া সেন্টারের মালিক হলো আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্বহ মোহাম্মাদ আদনানের। এই চিকিৎসা যারা দিয়ে থাকে আপনি ধরে নিতে পারেন সে মাদ্রাসা থেকে পড়াশুনা করেছে। হাকিম রেজাউল করিম নিরাপদে ধর্ষণ করার জন্য তার চেম্বারে করেছে গোপন কুঠুরি। সেখানে সে অল্প বয়সী নারী রোগীকে সাথে আসা অভিবাবকের কাছ থেকে আলাদা করে নিয়ে ধর্ষণ করে। এই সংবাদের ভিকটিমকে এসএসসি পরীক্ষার্থী উল্লেখ করা হলেও আসলে সে মাদ্রাসার ছাত্রী, এমনকী তার বাবাও মাদ্রাসার শিক্ষক।
এই মে মাসেই আমি আরেকটি সংবাদ পাই বংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের ইস্ট লন্ডন থেকে। হুবহু একই ঘটনা। ধর্ষক ইস্ট লন্ডনের এক মসজিদের ইমাম। ভারতীয় বংশোদ্ভুত আব্দুল হালিমের কাছে তার কাছেও ভিক্টিমের বাবা মা ভিক্টিমকে নিয়ে গিয়েছিলো কল্পিত জ্বিনের হাত থেকে মেয়েকে মুক্ত করতে। এমন একজন দুজন নয় বেশ কয়েকজন নাবালিকার সাথে ইমাম আব্দুল হালিম ভয়াবহ যৌন অপরাধ করেছে। সেখানকার আদালক আব্দুল হালিমকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
এবারে আমরা এই দুটি ঘটনা যদি পাশাপাশি দাঁড় করাই, তাহলে দেখতে পাবো বাংলাদেশের বগুড়ার নামাজগড়ের ভিকটিম আর ইস্ট লন্ডনের ভিকটিমের জন্য প্রথম দায়ী তার পারিবারিক ধর্মীয় বিশ্বাস। লন্ডনের মতো যায়গায় থেকেও তারা কুসংস্কারমুক্ত হতে পারেনি। আসলে মুক্ত হতে পারেনি নাকি মুক্ত হতে দেয়নি? জ্বিন একটি ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়। এর সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই। এই জ্বিন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কোরান হাদিস থেকে যা না জানে তার থেকে হাজার গুন বেশি শোনে মাহফিলে। বাংলাদেশে এখন ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার আচরণ অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হয় মাহফিলের মাধ্যমে। মাহফিলেই বক্তাদের কেউ বলছে তার পোষা জ্বিন রয়েছে, কেউ বলছে জ্বিন তাকে মাহফিলের দাওয়াত দিয়েছিলো, কেউ বলছে ফুঁ দিয়ে লাখ লাখ জ্বিন তাড়িয়ে দিয়েছে।
সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করবে না কেন? ঠিক অন্য দিকে কর্মবিমূখ মাদ্রাসা থেকে প্রতিবছর পাশ করে বের হওয়া হাজার হাজার ছাত্রদের একটা অংশ খুলে বসে রুকাইয়া সেন্টার। তারা সেখানে ভালোর জ্বিনের দ্বারা, কোরানের বিভিন্ন আয়াতের দ্বারা ক্যান্সার, আলসার, কিডনি রোগের চিকিৎসা করে। তার আবার ভিডিও দেয় ইউটিউবে ফেইসবুকে। আইন তাদের কিছুই করতে পারে না। সেখানে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার নামাজগড়ের এক মাদ্রাসার শিক্ষক তার এক মাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়েকে ঐরকম এক রুকায়াইয়া সেন্টারে নিয়ে যাবে এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই বলে ইস্ট লন্ডনের এক বাবাও?
১৬ মে চাটগাইয় বুলেটিন নামে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম ভিডিও সহ নিউজ করেছে। যার শিরনাম অনেকটা এরকম কর্ণফুলীতে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে : ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকালে কথিত নেতা অবরুদ্ধ। যখন মাদ্রাসার শিক্ষকেরা শিশু ধর্ষণ করে ধরা পড়ে তখন তাকে প্রথমে বাঁচাতে এগিয়ে আসে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা। এটা এখন কেবল বিএনপির সময় হয়েছে তা না। আপনারা যারা আমার আগের করা প্রতিবেদনগুলো দেখেছেন সেখানেও দেখবেন একই ঘটনা। এই মাসে যেহেতু ঘটনা অনেক বেশি তাই স্বভাবতই পর্বটি একটি বড় হবে। আপনাদের আর বেশি বিরক্ত করবো না। আর কয়েকটি ঘটনা দিয়েই শেষ করবো ২০২৬ সালের মে মাসের মাদ্রাসা ফাইলস।
১৭ মে ইত্তেফাক, কালবেলা সহ আরো কয়েকটি পত্রিকা নিউজ করেছে কুমিল্লায় বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার। এইমাসের বেশ কয়েকটি সংবাদ রয়েছে যা ভিন্ন ইঙ্গিত বহন করে। আর তাহলো এই মাসে বেশ কয়েকটি ধর্ষণের খবর রয়েছে যেখানে ধর্ষক কোনো না কোনো ভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে জড়িত থাকলেও ভিক্টিম হয়তো মাদ্রাসার কেউ না বা ধর্ষক যেই মাদ্রাসার শিক্ষক ভিক্টিম সেই মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রী না। নোয়াখালির গ্রাফিক্স শিখতে যাওয়া ছাত্র, বগুড়ায় ঝাঁফুক নিতে যাওয়া ছাত্রী কিংবা কুমিল্লায় ধর্ষণের শিকার বাক প্রতিবন্ধি তরুণীই তেমন কয়েকজন ভিকিটিম। এদের প্রত্যেকের ধর্ষকই মাদ্রাসার। কুমিল্লার বাকপ্রতিবন্ধি মেয়েটি ঐ মাদ্রাসায় রান্নার কাজ করতো। সেই সুযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ সাব্বির মেয়েটির শারিরীক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলো। মেয়েটি অন্তসত্বা হয়ে পড়লে মেয়েটিকে গর্ভপাতের জন্য জন্য যে অষুধ খাওয়ানো হয় তাতে মেয়েটি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
২৪ শে মে কিশোরগঞ্জে একই ঘটনা ঘটিয়েছে। এক সাত বছরের প্রতিবন্ধি শিশু গিয়েছে এক মসজিদের ইমামকে খাবার দিতে। ইমাম ধরে শিশুটিকে রেপ করে দিয়েছে। ভাবতে পারেন? এই ইমামের পিছনেই হয়তো গত শুক্রবার আপনি জুম্মা পড়েছেন।
কিশোরগঞ্জের ঘটনাটি সহ মোট চরটি ধর্ষণের ঘটনা খেয়াল করুন। আপনি আপনার শিশুকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে হয়তো মাদ্রাসায় দিলেন না। কিন্তু ইতিপূর্বে মাদ্রাসায় পড়ে যে ধর্ষক তৈরি হয়েছে তার হাত থেকে এই সমাজকে বাঁচাবেন কী করে? সেই মাদ্রাসায় পড়ুয়া ধর্ষক তো আপনার আশাপাশেই থাকছে সারাক্ষণ। তার সংস্পর্শে গেলেই তো সে শিশুকে ধর্ষণ করছে। বাঁচার উপায় কী?
আমি প্রায় প্রতিবেদনেই উল্লেখ করি যে মাসে গড়ে দুটি হত্যাকান্ড মাদ্রায় ঘটে। বর্তমান মাসও এর ব্যতিক্রম হয়নি। রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসা’-য় ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে ১০ বছরের এক শিশুকে। এখানেও আমরা একটি ব্যতিক্রম ধর্মী সংবাদ পাই। এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক ঘটয়নি। ঘটিয়েছে মাদ্রাসার সিনিয়র এক ছাত্র। আমি আমার আগের অনেকগুলো প্রতিবেদনেই বেশ স্পষ্ট করে বলেছি যে মাদ্রাশায় শিশুরা ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয় তাদের শিক্ষকদের দ্বারা যেটা আমরা জানি। আর যেটা জানি না সেটা হলো বড় বড় ছাত্ররা ছোটে ছাত্রদের যে ভয়বহ নির্যাতনটা করে। যার উদাহরণ বনশ্রীর এই হত্যা কাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নিয়ে নানা গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমি সবগুলোই সংগ্রহ করেছি। সেখানে অন্য ছাত্ররা বলছে সন্দেভাজন ছাত্র শিহাব মাদ্রাসায় বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে ধরা পড়েছে, মাদ্রাসার মধ্যে তার বিচার হয়েছে। আপনারা নিশ্চই আমার আগের প্রতিবেদনগুলো জেনেছেন যে আমি বারবার বলেছি মাদ্রাসায় বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় বয়সে বড় ছাত্ররা। যার সংবাদ প্রকাশিত হয় না। মাদ্রাসার ভিতরেই বিচার হয়। এটি তেমনই একটি ঘটনা। এই বারবার ক্ষমা পেতে পেতে ধর্ষক খুনি শিহাবের সহাস এতোটা বেড়ে গিয়েছে যে সে হত্যা করতে দ্বিধা করেনি। আপনার ভিতরে যদি বিবেক থাকে তাহলে একটিবার ভাবুন, এক হাফেজ ১০ বছরের একটি ছেলে শিশুকে ক্রমাগত ধর্ষণ করে করে পায়ুপথে ঘা বানিয়ে দিয়েছে। এরপর শিশুটিকে হত্যা করেছে। আর কতো যাকাত ফেতরা দিয়ে এদের পুষবেন?
শেষ করবো দেশের বাইরের একটি সংবাদ দিয়ে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কম বেশি কওমি মাদ্রাসার রয়েছে। এমন কী যেসকল দেশে কওমি মাদ্রাসা নিষিদ্ধ সেই সকল দেশে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কমিউনিটির লোকজন অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে সেখানে এই কোরান মুখস্ত করার কর্যক্রম চালায়। এবং যথারীতি সেখানেও তারা শিশু ধর্ষণ ও শিশুদের প্রতি নানারকম যৌন নিপিড়ন চালায় তারা। তবে পৃথিবীবে সবচেয়ে বেশি কওমি মাদ্রাসা রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়ায় এবং এই সকল দেশের কওমি মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে, ডকুমেন্টারি নির্মিত হয়েছে এমনকি নেটফ্লিকে Qorin নামে একটি সিনেমা পর্যন্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মহিলা কওমি মাদ্রাসার ধর্ষণকাণ্ড নিয়। পৃথিবীর বিভিন্ন গণমাধ্য এবছর *স্ক্রীনে লেখা উঠবে ২০২৬* মে মাসের ১৩ ১৫ ও ১৫ তারিখে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। যার শিরনাম এরকম অর্ধশতাধিক ‘যৌন নিপীড়ন’, আবাসিক বালিকা মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করলো ইন্দোনেশিয়া।
আমরা কি এখনো বলতে পারবো না যে পৃথিবীর যেখানেই এই বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে সেখানেই তারা একই ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে? নাকি সেটা বললে আমি ইসলামের শত্রু বলে গণ্য হবো? এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমি কথা বললে আমি কী কারণে কোন যুক্তিতে ইসলাম বিরোধী হবো? এই কথাগুলো যদি ইসলাম বিরোধী হয় তাহলে কি আমি এটা ধরে নেবো এই হাফেজ, ইমাম, মুয়াজ্জিনরা মাদ্রাসা, মসজিদ, মক্তবে যে প্রদিতিন শিশু ধর্ষণ করে বেড়াচ্ছে সেটা ইসলাম সাপোর্ট করে? আপনি কী মনে করেন? মন্তব্যে উত্তর দিয়ে যাবেন। আর জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ভিডিওটি শেয়ার করুন। যদি শেয়ার করতে ভয় পান তাহলে ইনবক্সে পাঠিয়ে দেখতে দিন তাকে যে তার সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছে বা পড়ানোর কথা ভাবছে।
আপনি যদি শিশুদের প্রতি প্রতিদিন ঘটা এই ঘটনাগুলো বন্ধ করতে চান তাহলে আমাকে সাহায্য করুন। আপনার সন্তানের সাথে কিংবা আত্মিয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশির শিশুর সাথে এরকম ঘটনা সামনে আনুন। এই ইমেইল আইডিতে ইমেইল করে সকল তথ্যপ্রমান সহ ঘটনা পাঠান। অবশ্যই আপনার নাম ঠিকানা ও পরিচয় গোপন রাখা হবে। শিশু নির্যানত বন্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। কথা হবে পরবর্তী পর্বে। এই পৃথিবীর সকল শিশুর নিরাপদ জীবন কামনা করে আজকের মতো শেষ করছি। নিজে ভালো থাকুন, অন্যক ভালো থাকতে দিন।
সূত্র:
| তারিখ | শিরোনাম | পত্রিকা | জেলা | ছেলে/মেয়ে | শিশুর সংখা | ধরণ |
| ৪ মে | গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে গিয়ে লম্পট শিক্ষকের লালসার শিকার মাদ্রাসা ছাত্র | বাংলা টিভি নিউজ | নোয়াখালি | ছেলে | ১ | ধর্ষণ |
| ৪ মে | চট্টগ্রামের মাদ্রাসা ছাত্রকে যৌন হয়ারানি মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার | বিডি নিউজ ২৪ ডট কম | চট্টগ্রাম | ছেলে | ১ | ধর্ষণ |
| ৪ মে | মাদ্রাসায় ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা | নাগরিক টিভি (Nagorik TV) | –‘ | ছেলে | ১ | ধর্ষণ |
| ৪ মে | তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক | আরটিভি নিউজ (RTV News) | জামালপুরের | মেয়ে | ১ | ধর্ষণ চেষ্টা |
| ৪ মে | উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা | যুগান্তর | সুনামগঞ্জ | মেয়ে | ১ | ধর্ষণ চেষ্টা |
| ৪ মে | রাজধানীতে ঘুম থেকে জাগিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে জখম, বর্বর লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় বাবার অভিযোগ! | বাংলা নিউজ ২৪ (Banglanews24) | ঢাকা | ছাত্র | ১ | পিটিয়ে যখম |
| ৫ মে | রাঙ্গাবালীতে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, জুতা পেটার পর মাদ্রাসা শিক্ষক আটক | চ্যানেল আই | পটুয়াখালি | ছেলে | ১ | ধর্ষণ |
| ৬ মে | ছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার | সকল গণমাধ্যম | নেত্রকোনা | মেয়ে | ১ | ক্রমাগত ধর্ষণ |
| ৬ মে | জিন তাড়ানোর নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণ | বাংলা টিভি / আরটিভি | বগুড়া | মেয়ে | ১ | একাধিকবার ধর্ষণ |
| ৭ মে | ঘুম থেকে তুলে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানি | আরটিভি | ঢাকা | মেয়ে | ১ | ধর্ষণচেষ্টা |
| ৯ মে | নড়াইলে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার | বিডি নিউজ সহ আরো অনেক | নড়াইল | ছেলে মেয়ে | অন্তত ৩ | ধর্ষণচেষ্টা |
| ১০ মে | বেড়াতে নেওয়ার নামে লঞ্চের কেবিনে ষষ্ঠ শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রীকে সারারাত ধর্ষণ করলো মাদ্রাসা শিক্ষক! | পঞ্চ টি ভি (PanchaTV) | চাঁদপুর | মেয়ে | ১ | ক্রমাগত ধর্ষণ |
| ১০ মে | ভোলার চরফ্যাশনে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার ইমাম ও হুজুরকে অবরুদ্ধ করলো জনতা! | চরফ্যাশন জোন (Char Fashion Zone) | ভোলা | ছেলে | ১ | ধর্ষণ |
| ১০ মে | একা ধি ক শি ক্ষার্থী কে যৌ ন হয়রা নি র অভি যো গ, মা দরা সা শি ক্ষক বহি ষ্কা র | ঢাকা পোস্ট | চট্টগ্রাম | ছেলে | ৩ | যৌন হয়রানি |
| ১১ মে | হবি গঞ্জে শি শুকে ধর্ষন চে ষ্টা র অভি যো গে মা দ্রা সা শি ক্ষক গ্রে ফতা র | মোহনা টিভি | হবিগঞ্জ | ছাত্রী | ১ | ধর্ষণচেষ্টা |
| ১১ মে | মা দ্রা সা য় ছা ত্রকে বলা ৎকা র কো তো য়া লী তে মূল অভি যুক্ত | দৈনিক আজাদী | চট্টগ্রাম | ছা্ত্র | ১ | ধর্ষণ |
| ১৪ মে | চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুকে আছাড় মেরে নির্যাতন, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার | চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর | চাপাইনবাবগঞ্জ | ছাত্র | ১ | অমানবিক নির্যাতন |
| ১৪ মে | মসজিদে নিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্ট, ইমামের ৭বছরের কারাদণ্ড | জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর | ফরিদপুর | ছাত্র | ১ | ধর্ষণচেষ্টার বিচারের রায় |
| ১৪ মে | কুমিল্লায় এক মাদরাসার শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটালেন প্রিন্সিপাল | যমুনা টিভি (Jamuna TV) | কুমিল্লা | ছাত্র | ১ | অমানবিক নির্যাতন |
| ১৪ মে | অর্ধশতাধিক যৌন নিপিড়স, বালিকা মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা | জনবানী | ইন্দোনেশিয়া | ছাত্রী | ৫০ এর উপরে | ধর্ষণ/যৌন নির্যাতন/নিপিড়ন |
| ১৬ মে | কর্ণফুলীতে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে : ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকালে কথিত নেতা অবরুদ্ধ | চাটগাঁইয়া বুলেটিন (অনলাইন ডেস্ক) | চট্টগ্রাম | ছাত্র | ১ | ধর্ষণ |
| ১৭ মে | কুমিল্লায় বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার | ইত্তেফাক, কালবেলা | কুমিল্লা | মাদ্রাসার কর্মী | ১ | ক্রমাগত ধর্ষণ |
| ১৭ মে | জিনের ভয় দিখিয়ে মাদ্রাসা ছাত্র উপরে হুজুরের নির্যাতন | সিলেটি চ্যানেল, ফেইসবুক | সিলেট | ছাত্র | ১ | অমানবিক নির্যাতন |
| ২০ মে | চট্টগ্রামে মাদরাসা শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: পরিচালক গ্রেফতার
|
সময়ের আলো (Shomoyer Alo) | চট্টগ্রাম | ছাত্র | ১ | যৌন নিপিড়ন |
| ২১ মে | রামপুরায় মাদরাসা শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু: বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহপাঠী গ্রেফতার | চ্যানেল আই নিউজ (Channel i News) | রামপুরা | ছাত্র | ১ | ধর্ষণ ও হত্যা |
| ২১ মে | ভবানীপুর মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ | ইনকিলাব | গাজীপুর | ছাত্রী | ১ | ধর্ষণ চেষ্টা |
| ২৩ মে | শিশু নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা সাংবাদিকদের লাইভ বন্ধের নির্দেশ ও ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা | News Now বাংলা ফেইসবুক পেই | যানা যায়নি | ছাত্রী | ১ | ধর্ষণচেষ্টা |
| ২৩ মে | ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশু ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী | যমুনা টিভি (Jamuna TV) | চট্টগ্রাম | ছাত্রী | ২ | ধর্ষণ চেষ্টা |
| ২৪ মে | মসজিদে খাবার দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার ৭ বছরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এতিম শিশু: লম্পট ইমাম গ্রেফতার | বাংলাদেশ প্রতিদিন (Bangladesh Pratidin) | কিশোরগঞ্জ | ছেলে | ১ | ধর্ষণ |
| ২৪ মে | কলাপাড়ার লতাচাপলীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের অভিযোগে ইমাম আটক ৫ ছাত্রকে নির্যাতনের স্বীকারোক্তি | সময়ের খবর ডটকম (ভিডিও ফুটেজ) | পটুয়াখালি | ছেলে | ৫ | ধর্ষণ |
| ২৫ মে | শ্রীপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম আটক | Banglanews24 | গাজীপুর | মেয়ে | ১ | একাধিকবার ধর্ষণ |
| ২৫ মে | ছাদ থেকে ফেলে শিশুকে হত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ করেও মেলেনি বিচার | রাঙ্গুনিয়া টিভি নামে ফেইজবুক পেইজের ভিডিও নিউজ | রাঙ্গুনিয়া | ছেলে | ১ | হত্যাচেষ্টা |
| ২৬ মে | নীলফামারীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার | এনটিভি নিউজ (NTV News) | নীলফামারি | মেয়ে | ১ | ধর্ষণচেষ্টা |
| ৩০ মে | চট্টগ্রামে ১০ বছরের মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিল জনতা | দৈনিক আজাদী | চট্টগ্রাম | মেয়ে | ১ | ধর্ষণ |
আপনার মতামত জানানঃ