বিশ্বকাপ মানেই উৎসব। চার বছর পরপর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ যখন একই খেলাকে ঘিরে একসঙ্গে উচ্ছ্বসিত হয়, তখন ফুটবল মাঠ হয়ে ওঠে আনন্দ, আবেগ আর জাতীয় গর্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম ছিল না। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল পতাকার ঢেউ, গোলের পর উল্লাস, তারকাদের ঘিরে ছিল ভক্তদের উন্মাদনা। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, যা প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিদিনই কাজ করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। শুধু স্টেডিয়াম বা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নয়, হুমকি, হয়রানি, অনলাইন আক্রমণ এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কাও ছিল তাদের নজরে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ফাঁস হওয়া কিছু গোপন নিরাপত্তা নথি সেই অদৃশ্য উদ্বেগেরই ছবি সামনে এনেছে। স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল এসব নথির একটি অংশ প্রকাশ করেছে। নথিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র বা আইপিসিসির মাধ্যমে প্রতিদিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর সেই তথ্য বলছে, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় তারকারাও ছিলেন হুমকির বাইরে নন।
নথিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে মেসি এমনিতেই বিশ্বকাপের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন। তাঁকে ঘিরে দর্শকদের আবেগ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ভয়াবহ নিরাপত্তাঝুঁকিও। বিশ্বকাপের আগে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হুমকির তথ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি ঘটে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের দিন।
টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে হাতে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ ধরনের সেমিঅটোমেটিক রাইফেলসহ স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কথিত পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো। তবে ওই হুমকির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। পরে বিষয়টি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব পায়। এমন হুমকি সত্যি ছিল, নাকি আতঙ্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল—তা আলাদা বিষয়; কিন্তু বিশ্বকাপের মতো একটি আসরে এমন একটি ফোনকলও যে পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নড়েচড়ে বসাতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
মেসিকে ঘিরে আরেকটি বোমাতঙ্ক তৈরি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচের আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে নিজের শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেসিকে হত্যা করবেন। হুমকিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট হিসেবে থাকেনি। ম্যাচ চলার সময় পুলিশ সদর দপ্তরেও ফোন আসে। ফোনে দাবি করা হয়, স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে। এরপর বিস্ফোরক শনাক্তকারী বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।
এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, আধুনিক ক্রীড়া আসরে নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন শুধু মাঠের চারপাশের শারীরিক নিরাপত্তা নয়। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট, একটি ফোনকল কিংবা কোনো ব্যক্তির সন্দেহজনক আচরণও মুহূর্তের মধ্যে বড় ধরনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মেসির মতো বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয় একজন খেলোয়াড় যখন একটি ম্যাচের মাঠে থাকেন, তখন তাঁর নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় গোটা আয়োজনের নিরাপত্তা।
তবে শুধু মেসি নন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও বিশ্বকাপজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রোনালদোর জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে যে একজন সাধারণ দর্শকের সঙ্গে তাঁর কয়েক সেকেন্ডের সাক্ষাৎও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি মানুষের আলোচনার বিষয় হতে পারে। সেই জনপ্রিয়তাই আবার তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদো কোথায় থাকছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি তদন্তের পর হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থাৎ হুমকিটি কেবল অনলাইনে সীমাবদ্ধ ছিল না; একজন ব্যক্তি বাস্তবে একজন তারকার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
এরপর কানাডার টরন্টোতেও রোনালদোকে ঘিরে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক হতে হয়। এক ভক্ত তাঁর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে আটকে দেন। ওই ব্যক্তি পরে জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধু রোনালদোর সঙ্গে একটি সেলফি তোলা। কিন্তু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে একজন অচেনা ব্যক্তি কোনো তারকার ব্যক্তিগত পরিসরে ঢোকার চেষ্টা করছেন—এটিই যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। মায়ামিতেও রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আবার পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক সরাসরি মাঠে ঢুকে পড়েন।
এই ঘটনাগুলোর সবকটিকে সন্ত্রাসী হুমকি বলা যাবে না। কিন্তু এগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে—বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের জনপ্রিয়তা যেমন তাঁদের তারকা বানায়, তেমনি তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তোলে। একজন ভক্তের আবেগ এবং একজন সম্ভাব্য হামলাকারীর উদ্দেশ্য—দুটিকে দূর থেকে সবসময় আলাদা করে চেনা সম্ভব নয়। ফলে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রতিটি অনুপ্রবেশকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হয়।
বিশ্বকাপের নিরাপত্তা-ঝুঁকি অবশ্য শুধু মেসি-রোনালদোর মতো তারকাদের ঘিরে ছিল না। মাঠের পারফরম্যান্স, ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা ম্যাচের উত্তেজনাও অনেক খেলোয়াড়কে অনলাইন হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফুটবল যখন কোটি মানুষের আবেগের বিষয়, তখন একটি গোল মিস বা একটি ভুল ট্যাকলও কখনো কখনো ভক্তদের একাংশের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই ক্ষোভকে মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে এমনই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের একটি ঘটনার পর। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে তাঁর বাদানুবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এমবাপ্পেকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। জুলাইয়ের ৫ ও ৬ তারিখে দেশটিতে তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাঠের একটি ঘটনা কীভাবে জাতীয়তাবাদী আবেগ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে মিশে যেতে পারে, এই ঘটনাটি তারও উদাহরণ।
আরেক ধরনের হুমকি এসেছে খেলোয়াড়দের নিজেদের পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে। আতলেতিকো মাদ্রিদের নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। কলম্বিয়ার ফুটবলার জামিনটন ক্যাম্পাজ পেনাল্টি মিস করার পর এতটাই চাপের মধ্যে পড়েন যে বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি। অন্যদিকে স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার ঘটনায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও হুমকির মুখে পড়েন।
এই ঘটনাগুলো ফুটবলের আরেকটি অন্ধকার দিক সামনে আনে। মাঠে ভুল করা একজন খেলোয়াড়ের পেশাগত ব্যর্থতা হতে পারে, কিন্তু সেটি কখনোই তাঁর জীবন বা পরিবারের নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে ওঠার কথা নয়। একজন খেলোয়াড় গোল মিস করতে পারেন, একজন রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, একজন ডিফেন্ডার ভুল ট্যাকল করতে পারেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভ যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা প্রাণনাশের হুমকিতে পরিণত হয়, তখন সেটি আর ক্রীড়া-সমালোচনার পর্যায়ে থাকে না।
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া দল। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মাইওং-বো এবং পুরো দলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে বিমানবন্দর পর্যন্ত তাঁদের কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে যেতে হয়। একটি দলের বিশ্বকাপ-ব্যর্থতা যে খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সংকট তৈরি করতে পারে, এই ঘটনা তার ভয়াবহ উদাহরণ।
তবে হুমকির সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বড় চাপটি পড়েছিল ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ওপর। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচ পরিচালনার পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয় বলে নিরাপত্তা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বার্তার বড় অংশ এসেছে মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে। একই ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উইলি দেলাজোদও হুমকির শিকার হন।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়েছিল যে ফ্রান্সে দুই রেফারির বাড়ি এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। অর্থাৎ একটি ফুটবল ম্যাচের সিদ্ধান্তের প্রভাব মাঠের ৯০ মিনিট পেরিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এখানেই বিশ্বকাপের ঝলমলে ছবির আড়ালে থাকা বাস্তবতাটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। মাঠে আমরা দেখি খেলোয়াড়দের গোল, রেফারির বাঁশি, কোচের উচ্ছ্বাস কিংবা দর্শকদের উদ্যাপন। কিন্তু এর বাইরে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে থাকে অসংখ্য অদৃশ্য হিসাব। কে কোথায় যাচ্ছে, কোন হোটেলে থাকছে, কে অনলাইনে কী লিখছে, কোন ব্যক্তি স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করছে, কোনো হুমকি বাস্তব নাকি ভুয়া—সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়।
বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনকে নিরাপদ রাখতে হাজারো পুলিশ, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মী কাজ করেন। দর্শকদের চোখে তাঁদের কাজ অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না। একটি হুমকি যদি সফলভাবে প্রতিহত করা যায়, সেটি সাধারণত কোনো সংবাদ হয় না। কিন্তু একটি নিরাপত্তা ব্যর্থতা মুহূর্তের মধ্যে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই নিরাপত্তার সাফল্য অনেকটা এমন—যে বিপদ ঘটেনি, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাঁস হওয়া নথিগুলো সেই অদৃশ্য যুদ্ধের কিছু অংশ প্রকাশ করেছে। সেখানে মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে কিংবা অন্য তারকারা শুধু ফুটবলার নন; তাঁরা হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য নিরাপত্তা-ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু। একইভাবে রেফারি বা কোচও কখনো কখনো ম্যাচের সিদ্ধান্তের কারণে হুমকির লক্ষ্য হয়েছেন।
ফুটবল যত বেশি বৈশ্বিক হচ্ছে, তারকারা যত বেশি মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, ততই তাঁদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জটিল হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক বছর আগেও একজন ক্ষুব্ধ দর্শকের হুমকি হয়তো কয়েকজন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। এখন একটি পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। আর সেই কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও মাঠের বাইরে, অনলাইনের জগতেও নজর রাখতে হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। ট্রফি এখন নতুন ইতিহাসের অংশ। খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ ক্লাবে ফিরেছেন, দর্শকেরাও ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু ফাঁস হওয়া নিরাপত্তা নথিগুলো মনে করিয়ে দেয়, ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসবের পেছনে কতটা কঠিন প্রস্তুতি এবং সতর্কতা কাজ করে। গ্যালারিতে যখন কোটি মানুষ আনন্দে চিৎকার করে, তখন নিরাপত্তাকর্মীরা হয়তো খুঁজে চলেন সেই একজন মানুষকে, যার উদ্দেশ্য আনন্দের নয়।
মেসির জন্য বোমার হুমকি, রোনালদোর হোটেলের খোঁজ নেওয়া, মাঠে দর্শকের ঢুকে পড়া, এমবাপ্পের প্রতিকৃতি পোড়ানো, গোল মিসের পর খেলোয়াড়ের পরিবারকে হুমকি কিংবা একজন রেফারির ফোনে হাজার হাজার মৃত্যুর বার্তা—এসব ঘটনা আলাদা আলাদা মনে হলেও তাদের ভেতরে একটি অভিন্ন বাস্তবতা রয়েছে। ফুটবল মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, সেটি যেন কখনো মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনের ওপর গিয়ে না পড়ে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় জয় তাই শুধু মাঠে যে দল ট্রফি তুলেছে, তাদের নয়। মাঠের বাইরে যারা প্রতিটি হুমকি, প্রতিটি সন্দেহজনক ফোনকল এবং প্রতিটি অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা মোকাবিলা করে কোটি মানুষের উৎসবকে নিরাপদ রেখেছে, তাদেরও। কারণ দর্শকের চোখে বিশ্বকাপ হয়তো ৯০ মিনিটের খেলা। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে সেটি শুরু হয় অনেক আগে এবং শেষ হয় অনেক পরে।
আপনার মতামত জানানঃ