বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের কথা সামনে এসেছে। দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ সম্মিলিত কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক প্রহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি সক্রিয় রাখা, অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষকদের আচরণ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের মাদ্রাসায় আবাসিক ব্যবস্থা না রাখার পরামর্শ এবং পুরুষ শিক্ষকের পরিবর্তে নারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সভায় এসব নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরে এর বিস্তারিত বাস্তবায়ন পদ্ধতি মাদ্রাসাগুলোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শুধু শাস্তির ধরন পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং মাদ্রাসা পরিচালনায় জবাবদিহিতার কাঠামোকে আরও সুসংহত করার একটি উদ্যোগ হিসেবেও এটি সামনে এসেছে।
নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নেওয়া নয়; বরং তার সংশোধন ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা রাগের অবস্থায় শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিতে পারবেন না। শাসনের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোনোর কথা বলা হয়েছে। প্রথমে নম্রভাবে সতর্ক করা, প্রয়োজনে ভর্ৎসনা বা কঠোরভাবে সতর্ক করা এবং একান্ত প্রয়োজন হলে অভিভাবককে ডেকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো পর্যায়েই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে প্রহার করা যাবে না।
লাঠি, বেত কিংবা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইভাবে মুখমণ্ডল, মাথা কিংবা শরীরের স্পর্শকাতর কোনো অংশে আঘাত করা যাবে না। এমন কোনো শাস্তিও দেওয়া যাবে না, যাতে শিক্ষার্থীর হাড় ভাঙে, রক্তপাত হয় কিংবা শরীরে দাগ সৃষ্টি হয়। শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, প্রকাশ্যে অপমান, গালাগাল, কটু ভাষা, ঘৃণাসূচক সম্বোধন এবং মানসিকভাবে আঘাত করে এমন আচরণ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ শাসনের ধারণাটিকেই এখানে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর ভুলকে কেন্দ্র করে ভয় বা শারীরিক আঘাতের পরিবর্তে সংশোধন, বোঝানো এবং অভিভাবককে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা শরিয়াহ ও বিধি—উভয় দৃষ্টিতেই জবাবদিহিতার আওতায় থাকবেন।
এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও আত্মশুদ্ধির কার্যক্রম। মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলাহি মজলিস আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক তারবিয়াতি মজলিস এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশনাও রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে তৈরি হওয়া সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং তা বড় কোনো ঘটনায় পরিণত হওয়ার আগেই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
নির্দেশনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি। প্রতিটি মাদ্রাসায় এ ধরনের কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিযোগ করতে চাইলে যেন সহজে কমিটির কাছে যেতে পারে, সেই সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কোনো মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি না থাকা কিংবা কমিটি থাকলেও নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইলহাক স্থগিত বা বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে অভিযোগকে শুধু অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় হিসেবে না দেখে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনার চেষ্টা। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই না হলে একদিকে প্রকৃত ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, অন্যদিকে কোনো নিরপরাধ শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানও ভুল অভিযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নতুন নির্দেশনায় তাই অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি বোর্ডের অধীনে আলাদা মাদ্রাসা মনিটরিং সেল এবং বোর্ডভিত্তিক হটলাইন চালুর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অভিযোগ জানানোর একটি নির্দিষ্ট মাধ্যম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে, সেগুলোকেও নতুন নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে অনাবাসিক করার বিষয়ে তারা নীতিগতভাবে পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি পুরুষ শিক্ষকের পরিবর্তে শতভাগ নারী শিক্ষক রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন, গোপনীয়তা এবং পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে একটি বিস্তারিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে মেয়েদের আবাসিক কওমি মাদ্রাসা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বাস্তবতার কারণেই মহিলা মাদ্রাসার আবাসন ও পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে আলাদা নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দেশের সব কওমি মাদ্রাসা কি এই কাঠামোর আওতায় আসবে? বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার ওপর সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি কওমি মাদ্রাসা রয়েছে বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু দেশের মোট কওমি মাদ্রাসার প্রকৃত সংখ্যা কত, তার মধ্যে কতগুলো আবাসিক এবং কতগুলো মেয়েদের জন্য—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।
এই তথ্যের ঘাটতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে জানতে হয় প্রতিষ্ঠানটি কোথায়, সেখানে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে, কতজন শিক্ষক কাজ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কাঠামো কী। নিবন্ধন বা কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক তালিকার বাইরে থাকা মাদ্রাসাগুলোকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা না গেলে শুধু নীতিমালা ঘোষণা করেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
ইসলাম বিষয়ক লেখক ও গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদের বক্তব্যেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, কিছু মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে ছয়টি বোর্ডের বাইরে থাকা এবং নিবন্ধনহীন বা তালিকার বাইরে থাকা মাদ্রাসাগুলোকেও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ২০১২ সালে একটি মাদ্রাসায় ১৪ জন ছাত্রীর শরীরে উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০১৯ সালে ফেনীর সোনাগাজীতে একটি মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে এক শিক্ষার্থীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে।
এ ধরনের ঘটনাগুলো শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় নয়; এগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে আনে। শিক্ষার্থীরা যখন পরিবারের বাইরে কোনো আবাসিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব যেন নির্যাতনের সুযোগে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করার নির্দেশনাটি তাই মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট আচরণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি শিশু সুরক্ষার বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত। একই সঙ্গে এটি বাস্তবায়নের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। নীতিমালা তৈরি করা এক বিষয়, আর দেশের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে তা নিয়মিতভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা আরেক বিষয়।
আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলায় পরিদর্শক দল মাদ্রাসা পরিদর্শন করে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন বা অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও মাদ্রাসা বোর্ড সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেও মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে সংযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—অভিযোগ জানানোর বাস্তব সুযোগ, তদন্তের নিরপেক্ষতা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা, অপরাধ প্রমাণিত হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত পরিদর্শন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষার্থী যেন ভয় ছাড়া নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে। কারণ কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করার পর যদি আরও শাস্তি, অপমান বা সামাজিক চাপের আশঙ্কা করে, তাহলে কাগজে-কলমে থাকা সুরক্ষা ব্যবস্থাও কার্যকর নাও হতে পারে।
মাদ্রাসা বাংলাদেশের শিক্ষা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লাখ লাখ শিক্ষার্থী এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে পুরো ব্যবস্থাকে একভাবে বিচার করার সুযোগ যেমন নেই, তেমনি কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার প্রশ্নও আড়াল করা যায় না। একটি নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক শর্ত হলো—ভুল করলে শিক্ষার্থীকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া, অভিযোগ করলে তাকে শোনার ব্যবস্থা রাখা এবং অপরাধ ঘটলে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।
আল-হাইআতুল উলয়ার নতুন নির্দেশনায় অন্তত নীতিগতভাবে এই বিষয়গুলোকেই সামনে আনা হয়েছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে নির্দেশনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়। প্রহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা, সুরক্ষা কমিটি গঠন, সাত দিনের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত, মনিটরিং সেল ও হটলাইন চালুর উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন নীতিমালা—সবকিছু মিলিয়ে একটি নতুন কাঠামোর কথা বলা হচ্ছে।
এই কাঠামো সফল হবে কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট নিয়ম, জবাবদিহিতা এবং অভিযোগের কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু কতজন শিক্ষার্থী সেখানে পড়ছে বা কতজন পরীক্ষায় ভালো ফল করছে, তা দিয়ে মাপা যায় না। সেখানে শিশুরা কতটা নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক পরিবেশে শিক্ষা পাচ্ছে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত জানানঃ